আমার কিছু হলে এর দায় ভরসা ও বিএনপিকে নিতে হবে: আখতার
নবনির্বাচিত এ সংসদ সদস্যর সফর ঘিরে রংপুরের হারাগাছে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে পৌর বিএনপি।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বানে জয়ের পর রংপুরের নির্বাচনি এলাকায় প্রথম সফরে আসছেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। নবনির্বাচিত এ সংসদ সদস্যর সফর ঘিরে হারাগাছে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে পৌর বিএনপি।
এ পরিপ্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে রোববার ভোররাতে আখতার হোসেন একটি দীর্ঘ পোস্ট দিয়েছেন।
পোস্টের শেষাংশে তিনি লিখেছেন, ‘আমার হারাগাছে আসা নিয়ে যদি কিছু ঘটে তার দায় ভরসা এবং বিএনপির হাইকমান্ডকে নিতে হবে। আমরা হারাগাছের নিপীড়িত শ্রমিকদের পক্ষে কাজ করে যাব, ইনশাআল্লাহ।”
পোস্টে আখতার বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরে লিখেছেন, “সরকার গঠন করেছে বিএনপি আর নতুন সরকারের আমলে প্রথম হরতাল হচ্ছে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে। রংপুর-৪ এর হারাগাছে আজ আমার বিরুদ্ধে হরতাল ডেকেছে এমদাদুল ভরসার পৌর বিএনপি।
“এনারা আসলে বিএনপি করেন না, ভরসা করেন। কিন্তু বিএনপির সরকার গঠনের আভাস পাওয়ার পর থেকে বাড়িঘর ভাঙচুর, লোক পেটানো, রক্তাক্ত করা, লুটপাট, ভয়ভীতি দেখানো, আন্দোলনের নামে সহিংসতা সব করছে বিএনপির নামে।”
পোস্টে তিনি ১২ তারিখ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পুরো দিনের বিভিন্ন ঘটনাবলী তুলে ধরে তার কর্মীদের মারধর, ভোটার স্লিপ বিতরণের টেবিল ভেঙে ফেলা, ভোটে কারচুপি করার চেষ্টার নানা চিত্র তুলে ধরেন।
নানা কৌশলে সেসব ‘জালিয়াতি বন্ধ করতে পারায় শাপলা কলি জিতে আসতে সমর্থ হয়’ বলে তিনি পোস্টে উল্লেখ করেন।
আখতার হোসেনের দাবি, “হারাগাছে ৫৫ হাজার ভোটের মধ্যে ২৭ হাজার পেয়েছে ভরসা, তার থেকে ২২ হাজার ভোট কমে ৫ হাজার ভোট পেয়েছি আমি। কিন্তু হারাগাছে প্রতিটা ভোট আমার কাছে হাজার ভোটের সমান।
“আমি আমার হারাগাছের ভোটার এবং সবার মর্যাদা রক্ষা করার লড়াইয়ে আছি। ওদের প্ল্যান ছিলো কাস্টিং ভোটের চেয়ে আর ১৫-২০ হাজার ভোট ধানের শীষে বেশি দেখানোর। কয়েকজন সাহসী মানুষকে সাথে নিয়ে আমরা সেই জালিয়াতি ঠেকিয়েছি।
আখতার হোসেনের অভিযোগ, “সবাইকে টার্গেটে নিয়ে হত্যার হুমকি দিচ্ছে ভরসা বাহিনী। তাদের বাড়িঘর ভেঙে ফেলে রেখেছে। প্রশাসন এখনও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি৷ ”
হারাগাছ এলাকায় সফর প্রসঙ্গে তিনি লিখেছেন, “আজ আমি হারাগাছে আসবো শুনে ভরসা বাহিনী সরকারে থেকে বিরোধী দলের একজন নেতার বিরুদ্ধে হরতাল ডেকেছে। মাইকিং করে দোকানপাট বন্ধ রাখার হুমকি দিচ্ছে। শুনলাম একটু আগে হরতাল প্রত্যাহার করেছে। কিন্তু বিক্ষোভ করবে তারা।
তিনি বলেন, “আমি হারাগাছে আমার প্রথম সফর করতে চেয়েছিলাম নির্বাচনের পরদিন। ভরসা বাহিনীর সন্ত্রাসের কারণে পারিনি। আজ (রোববার) আমি হারাগাছে আসবো ভরসা বাহিনীর দ্বারা ভেঙেচুরে রাখা বাড়িঘরগুলো দেখতে৷ বাড়ি ভাঙা, লুকিয়ে থাকা মানুষদের পাশে দাঁড়াতে। তাদের জন্য বিচারের দাবি নিয়ে।”
পোস্টে আখতার হোসেন দাবি করেন, “গত দেড় বছরে আমি হারাগাছ পৌরসভার জন্য তিন দফায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ এনেছি। সেসব বরাদ্দের কিছু কাজ এখন শুরু হবে।
বরাদ্দ কোন খাতে খরচ করলে বেশি মানুষের উপকার হবে তা জানতে তিনি হারাগাছ যাচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, “শেষ কথা, আমার হারাগাছে আসা নিয়ে যদি কিছু ঘটে তার দায় ভরসা এবং বিএনপির হাইকমান্ডকে নিতে হবে। আমরা হারাগাছের নিপীড়িত শ্রমিকদের পক্ষে কাজ করে যাব ইনশাআল্লাহ।”
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, রোববার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ পৌর এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কুশলবিনিময়, শহীদ লাভলুর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং হারাগাছ থানা পরিদর্শন করার কথা রয়েছে আখতার হোসেনের।
তবে বেলা ২টা পর্যন্ত তিনি হারাগাছে আসার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৪ (পীরগাছা ও কাউনিয়া) আসনে জামায়াত ইসলামীর ১১ দলীয় জোটের অংশীদার এনসিপির প্রার্থী আখতার হোসেন শাপলা কলি প্রতীকে নির্বাচিত হয়েছেন।
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ পৌর এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কুশলবিনিময়, শহীদ লাভলুর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং হারাগাছ থানা পরিদর্শন করার কথা রয়েছে এমপি আখতার হোসেনের।
তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৬৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা পেয়েছেন ১ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৪ ভোট।
নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে এই ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ দেন এমদাদুল হক ভরসা। ভোট পুনর্গণনার দাবি জানান তিনি।
এছাড়া নির্বাচনের পর দিন থেকে টানা চারদিন হারাগাছ, পীরগাছা ও কাউনিয়ায় বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন তার সমর্থকরা।
সর্বশেষ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও করে ভোট পুনর্গননা না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন এমদাদুল হক ভরসা।
এছাড়া শনিবার রাত ৮টার দিকে হারাগাছ পৌর শহরে ‘রংপুর-৪-এর সাধারণ ভোটার’ ব্যানারে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। সেখান থেকে আখতার হোসেনের সফরকে কেন্দ্র করে রোববার বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে আখতার হোসেনের অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে কাউনিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও রংপুর-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
