১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

দিনাজপুরের ‘স্বপ্নপুরী’ ও বগুড়ার ‘রাবেয়া পার্ক’ থেকে ৮৬টি বন্যপ্রাণী উদ্ধার

উদ্ধারকৃত প্রাণীগুলোকে যথাযথ পুনর্বাসনের জন্য গাজীপুর ও ডুলাহাজরা সাফারি পার্কসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে হস্তান্তর করা হবে।

গাজীপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 13 Feb 2025, 01:38 AM

Updated : 10 Sep 2026, 12:33 PM

দিনাজপুরের ‘স্বপ্নপুরী’ পার্ক ও বগুড়ার ‘রাবেয়া পার্কে’ অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে বন্দি রাখা ৮৬টি বন্যপ্রাণী উদ্ধার উদ্ধার করেছে বন বিভাগ।

বুধবার চালানো এসব অভিযানে স্বপ্নপুরী থেকে ভালুক-হরিণসহ ৪৮টি এবং রাবেয়া পার্ক থেকে হনুমান, ঘুঘুসহ ৩৮টি বন্যপ্রাণী উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট ঢাকার পরিদর্শক অসীম কুমার মল্লিক। 

তিনি জানান, এর আগে গত ২৬ জানুয়ারিও দিনাজপুরের ‘স্বপ্নপুরী’ পার্কে অভিযান চালানো হয়েছিল। তখন ৭৪টি বন্যপ্রাণী জব্দ করে ৪৮টি প্রাণী পার্ক কর্তৃপক্ষের জিম্মায় রাখা হয়েছিল। 

কিন্তু পার্ক কর্তৃপক্ষ সেসব প্রাণীর পক্ষে কোনো বৈধ কাগজ দেখাতে না পারায় বৃহস্পতিবার আবারও এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে দিনাজপুর সামাজিক বন বিভাগ, বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ চট্টগ্রাম ও রাজশাহীর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বুধবার উদ্ধার করা প্রাণীগুলোর মধ্যে রয়েছে পাঁচটি ভাল্লুক, পাঁচটি মায়া হরিণ, ১৭টি সাম্বার হরিণ, ১১টি বানর, পাঁচটি রাজধনেশ, দুইটি সজারু ও একটি ভোদর। 

অন্যদিকে বগুড়ার কাহালু উপজেলার রাবেয়া পার্ক থেকে উদ্ধার করা প্রাণীগুলোর মধ্যে রয়েছে- দুইটি হনুমান, দুইটি রেসাস বানর, ১৫টি ঘুঘু, পাঁচটি সবুজ টিয়া, চারটি ডাহুক, চারটি বেগুনী কালিম পাখি, মদনা টিয়া একটি, শঙ্খ চিলি একটি, পাতি সরালি একটি ও ভূবন চিলের তিনটি বাচ্চা। 

অসীম কুমার মল্লিক আরও জানান, বগুড়ার সামাজিক বন বিভাগের সহযোগিতায় রাবেয়া পার্কে এ অভিযান চালানো হয়।

অভিযানকালে পার্ক ও মিনি চিড়িয়াখানাটির বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণী আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া গেছে, যা তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ওই কর্মকর্তা জানান, বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিচালক ছানাউল্ল্যা পাটওয়ারীর সার্বক্ষণিক দিকনির্দেশনায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন-২০১২ বাস্তবায়নের অংশ হিসাবে এসব অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী অনুমোদনহীনভাবে বন্যপ্রাণী সংগ্রহ, প্রদর্শন ও সংরক্ষণ করা দণ্ডনীয় অপরাধ। 

বন অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুসারে, উদ্ধারকৃত প্রাণীগুলোকে যথাযথ পুনর্বাসনের জন্য গাজীপুর ও ডুলাহাজরা সাফারি পার্কসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে হস্তান্তর করা হবে বলেও জানান বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের এ কর্মকর্তা। 

৫ ভালুক গেল গাজীপুরের সাফারি পার্কে

এদিকে দিনাজপুরের স্বপ্নপুরী পার্ক থেকে উদ্ধার করা পাঁচটি এশিয়ান কালো ভালুক গাজীপুর সাফারি পার্কে নেওয়া হয়েছে। 

বুধবার বেলা ২টার দিকে প্রাণীগুলোকে পার্কের কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয় বলে বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিদর্শক অসীম কুমার মল্লিক জানান। 

সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাণীগুলোর চিকিৎসা ও পুনর্বাসন চলবে।