১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

গোপালগঞ্জে সিঁধ কেটে ঘরে ঢুকে গৃহবধূকে ‘দলবেঁধে ধর্ষণ’, গ্রেপ্তার ২

এ ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার দুজন ছাড়াও অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুইজনকে আসামি করা হয়েছে।

গোপালগঞ্জে সিঁধ কেটে ঘরে ঢুকে গৃহবধূকে ‘দলবেঁধে ধর্ষণ’, গ্রেপ্তার ২
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় এক গৃহবধূকে দলবেঁধে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার দুই যুবক।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 11 Sep 2026, 07:15 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:58 AM

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় সিঁধ কেটে ঘরে ঢুকে এক গৃহবধূকে দলবেঁধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ধর্ষণের ঘটনায় করা মামলায় শুক্রবার দুপুরে গ্রেপ্তারদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয় বলে জানিয়েছেন টুঙ্গিপাড়া থানার ওসি আইয়ুব আলী।

ঘটনার দুই দিন পর বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার পাটগাতী মধ্যপাড়া গ্রাম থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তাররা হলেন- ওই গ্রামের আকবর শেখ (৩৫) এবং একই গ্রামের সোহাগ গাজী (৩৬)।

সোহাগকে পাটগাতী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি বলে ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি করেছেন। তবে ইউনিয়ন যুবদলের পক্ষ থেকে তা অস্বীকার করা হয়।

ধর্ষণের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে পাটাগাতী ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মুরাদ হোসেন বলেছেন, “৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের কোনো কমিটি নেই। তবে সোহাগ দলে ঢোকার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু আমরা তাকে নেইনি।”

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাতে উপজেলার একটি গ্রামে তিন সন্তানের জননীকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। পরে বৃহস্পতিবার ওই গৃহবধূর বাবা বাদী হয়ে টুঙ্গিপাড়া থানায় মামলা করেন। মামলায় ওই দুই যুবক ছাড়াও অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুইজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার বরাতে ওসি আইয়ুব আলী বলেন, ২০ অগাস্ট ওই গৃহবধূর স্বামী কৃষি শ্রমিকের কাজ করতে অন্য জেলায় যান। তিন সন্তানকে নিয়ে ওই গৃহবধূ রাতে ঘরে ঘুমাতেন। এ সুযোগে মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে সিঁধ কেটে ওই গৃহবধূর ঘরে প্রবেশ করেন চার ব্যক্তি। 

“এ সময় সন্তানদের মুখ চেপে রেখে গৃহবধূকে ধর্ষণ করেন তারা। ঘটনার সময় ওই নারী নিজেকে বাঁচাতে আকবরের ডান হাতের আঙুল কামড়ে ধরেন। এতে আকবর ক্ষিপ্ত হয়ে গৃহবধূর মুখে ঘুষি দিয়ে তিনটি দাঁত ভেঙে দেন। এক পর্যায়ে ছেলে-মেয়েদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসলে তারা পালিয়ে যান”, বলেন ওসি।

তিনি বলেন, পরে স্থানীয়রা ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ভুক্তভোগী গৃহবধূ বলেন, “গভীর রাতে চারজন ঘরে ঢুকে আমাকে নির্যাতন করেছে। তখন আকবর ও সোহাগকে চিনতে পারি। বাকি দুজনকে চিনতে পারিনি। আকবর আমার তিনটা দাঁত ভেঙেছে।”

ওসি আইয়ুব আলী বলেন, মামলার পর আকবর ও সোহাগকে গ্রেপ্তার করা হয়। দুপুরে তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।