Published : 09 Jun 2026, 09:15 PM
রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তাহমিনা আখতার।
সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সরকারি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহকারী সচিব মো. সুলতান আহমেদ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তার দায়িত্বের তথ্য জানানো হয়। একই দিন তিনি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে যোগদানপত্র জমা দেন।
মঙ্গলবার সকালে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এ সময় উপ-উপাচার্য সুমন কান্তি বড়ুয়া তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান।
প্রজ্ঞাপনের অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে তাহমিনা আখতারকে চার বছরের জন্য উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা পাবেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য সুবিধা ভোগ করবেন। উপাচার্য হিসেবে তাকে সার্বক্ষণিক ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে। প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর যে কোনো সময় তার নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।

দায়িত্ব গ্রহণের পর তাহমিনা আখতার বলেন, “রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি বাঙালির সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মানবিক চেতনার কেন্দ্র। সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় এ প্রতিষ্ঠানকে শিক্ষা, গবেষণা ও সাংস্কৃতিক চর্চার নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাই।”
তিনি বলেন, “স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও অংশীদারত্বমূলক প্রশাসনের মাধ্যমে একটি আধুনিক, গবেষণাবান্ধব এবং শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলাই আমার লক্ষ্য।”
তাহমিনা আখতার ৩৫ বছর ধরে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত। তার ৫০টির বেশি গবেষণা প্রবন্ধ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এ ছাড়া তার পাঁচটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।
পেশাগত জীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হল ও বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলের প্রভোস্ট এবং সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ৮০টির বেশি গবেষণা প্রকল্প পরিচালনা ও তত্ত্বাবধান করেছেন এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এমফিল ও পিএইচডি গবেষণার পরীক্ষক ও তত্ত্বাবধায়ক হিসেবেও কাজ করেছেন।
তাহমিনা আখতার বিএনপিপন্থি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংগঠন ‘ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’ (ইউট্যাব) প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
শিক্ষাজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হল ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৪ সালে ইউট্যাবের পক্ষ থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য রাজধানীতে পদযাত্রা ও মানববন্ধনে নেতৃত্ব দেওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে তিন বছরের বেশি বাধ্যতামূলক ছুটি দিয়েছিল।