Published : 03 Feb 2026, 01:43 AM
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে জমে উঠেছে রংপুরের ছয়টি আসনের ভোটের মাঠ। লড়াইয়ে আছেন বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী।
জাতীয় পার্টির ‘দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত এ জেলায় আওয়ামী লীগের দাপটে দলটির অবস্থান অনেকটাই নড়বড়ে। সেখানে এবার বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর লড়াই দেখা যাবে?
ভোটাররা বলছেন, আওয়ামী লীগ না থাকায় ছয়টি আসনে কোথাও জাতীয় পার্টি, জামায়াত ও বিএনপির মধ্যে ত্রিমুখী, কোথাও দ্বিমুখী লড়াই হবে।
তবে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনে ও পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহের প্রেক্ষাপেট এবারের নির্বাচনে জামায়াত দুটি আসনে তাদের সুস্পষ্ট অবস্থান জানান দিচ্ছে; যা আগে কখনও দেখা যায়নি।
এর একটি সীমান্তবর্তী রংপুর-১ আসন, যা গংগাচড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত। অপরটি মিঠাপুকুর উপজেলা নিয়ে গঠিত রংপুর-৫ আসন।

রংপুর-৩ সদর আসন থেকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের নির্বাচন করছেন। তাকে বিএনপি প্রার্থীকে মোকাবিলা করতে হবে।
প্রায় চার দশক ধরে আসনটি প্রয়াত স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ পরিবারের হাতে থাকায় অনেকে একে ‘জাতীয় পার্টির আসন’ বলেও অভিহিত করে থাকেন।
জি এম কাদের ধারাবাহিকতা রক্ষার সর্বোচ্চ চেষ্টাই করবেন বলে মনে করছেন ভোটাররা।
তারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ জনপদ। আওয়ামী লীগ মাঠে নেই। আর জাতীয় পার্টিকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ ট্যাগ দিয়ে নিজেদের ভিত গড়তে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে বিএনপি ও জামায়াত। নিজেদের সাংগঠনিক তৎপরতা বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে দল দুটি এরইমধ্যে নিজেদের সেই প্রভাব তৈরিও করেছে।
জাতীয় পার্টি বলছে, তারা রংপুরের আসনগুলো পুনরুদ্ধার করতে চায়। বিএনপি মনে করছে, তারা সরকার গঠন করতে যাচ্ছে, ফলে ভোটাররা দলটিকে বেছে নেবে। আর জামায়ত ভরসা করছে তরুণদের ওপর।
বিএনপির রিটে জাপা আউট, জামায়াতের সুবিধা কতটা?
তিস্তা নদী বেষ্টিত গংগাচড়া উপজেলা ও রংপুর সিটি করপোরেশনের নয়টি ওয়ার্ড নিয়ে রংপুর-১ আসন। এলাকাটি ভারতের সীমান্তবর্তী।
বিগত নির্বাচনের ফলাফল বলছে, এখানে সবসময় মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিল আওয়ামী লীগ, জামায়াত ও জাতীয় পার্টি। তবে জয়ের পাল্লা ভারী জাতীয় পার্টির।
কিন্তু ৫ অগাস্ট পরবর্তী সময়ে জামায়াত এখানে সাংগঠনিক তৎপরতা ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে দেয়।

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর অনেকের ধারণা ছিল, এখানে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় পার্টির মধ্যে তুমুল লড়াই হবে।
কিন্তু শুরুতে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হয়ে প্রথমবারের মতো নির্বাচনের মাঠে নামা মঞ্জুম আলীর দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যায়। পরে নির্বাচন কমিশনে আপিলে তিনি বৈধ হন।
তবে তার প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে রিট করেন বিএনপি প্রার্থী মোকাররম হোসেন সুজন। আপিল বিভাগ রায় মঞ্জুম আলীর বিপক্ষে যাওয়ায় বিগত আটটি নির্বাচনে জয় পাওয়া এই আসনে এবার জাতীয় পার্টির কোনো প্রার্থী নেই।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী না থাকায় জামায়াতের সুবিধা হল? এ বিষয়টিই এখন আলোচনার প্রধান বিষয় হয়ে ওঠেছে।
এখানে বিএনপির প্রার্থী জেলা কমিটির সদস্য মোকাররম হোসেন সুজন এবং রংপুর মহানগর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি রায়হান সিরাজীর মধ্যে লড়াই হবে।
জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের ভোটই এই আসনে জয়-পরাজয় নির্ধারণ করে দেবে, তা অনেকটাই নিশ্চিত।
এই আসনে অন্য প্রার্থীরা হলেন- ইসলামী আন্দোলনের এ টি এম গোলাম মোস্তফা, বাসদ-মার্কবাদীর আহসানুল আরেফিন, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মো. আনাস।
৩ লাখ ৭৫ হাজার ২২৭ ভোটারের এ আসনে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৮৮ হাজার ৮৩১ জন, নারী ভোটার এক লাখ ৮৬ হাজার ৩৯২ জন ও হিজড়া ভোটার চারজন।
জাপার লক্ষ্য আসন পুনরুদ্ধার?
বদরগঞ্জ ও তারাগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত রংপুর-২ আসনে বিগত ১২টি সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সাতবার, জাতীয় পার্টি পাঁচবার ও বিএনপি একবার (১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি) জয় পেয়েছিল।
আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকায় ভোটের হিসাব-নিকাশে জাতীয় পার্টির আনিসুল ইসলাম মণ্ডল এগিয়ে থাকবেন বলে তার সমর্থকরা দাবি করেছেন।
বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মাদ আলী সরকারের প্রচারের মূল বিষয় হচ্ছে, এই নির্বাচনে বিএনপি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার ‘গঠন করবে’। এখানে ধানের শীষ জয়ী হলে এলাকার উন্নয়ন হবে। মানুষের কর্মসংস্থান হবে।

বিএনপি প্রার্থীর সুবিধা হচ্ছে এখানে দলে কোনো বিভক্তি নেই।
অপরদিকে এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হলেন দলটির সিনিয়র নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম, যিনি একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ড রায় মাথায় নিয়ে দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন। গত বছরের মে মাসে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ তাকে বেকসুর খালাস দেওয়ার পর মুক্তি পান তিন।
আজহারুল ইসলাম এর আগে এখান থেকে তিনটি নির্বাচন করেছেন। সবশেষ ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি সাড়ে ৩৬ হাজার ভোট পেয়েছিলেন। তখন জাতীয় পার্টির আনিসুল ইসলাম মণ্ডল ১ লাখ ৬৬ হাজারের বেশি ভোটে নির্বাচিত হন।
এই তিন প্রার্থীর সঙ্গে ভোটের মাঠে আছেন ইসলামী আন্দোলনের আশরাফ আলী ও জেএসডির আজিজুর রহমান।
রংপুর-২ আসনে ৩ লাখ ৮০ হাজার ৯২১ ভোটারের মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯২ হাজার ২৮৬ জন, নারী এক লাখ ৮৮ হাজার ৬২৪ জন ও হিজড়া ভোটার রয়েছে নয়জন।
জাপার ‘খাস তালুক’
প্রায় চার দশক ধরে সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত রংপুর-৩ আসনে জাতীয় পার্টি জয় পেয়ে এসেছে। এ আসনে প্রতিনিধিত্ব করেছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ, তার স্ত্রী রওশন এরশাদ, ছেলে সাদ এরশাদ ও সবশেষ জি এম কাদের।
দলটি বার বার ভাঙন ও বিভক্তির মুখে পড়লেও এখানে তার প্রভাব খুব একটা পড়ে না। ভোটাররা একে জাতীয় পার্টির ‘খাস তালুক’ বলে অভিহিত করে থাকেন।
এবারও এখানে প্রার্থী হয়েছেন এরশাদের ভাই জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের।

রংপুর নগরীর ভোটাররা বলছেন, ভোটের মাঠ এখনও জি এম কাদের অনুকূলেই রয়েছে। দলীয় কর্মী-সমর্থকরা তার জয়ের ব্যাপারে অনেকটাই আশাবাদী।
যদিও আসনটিতে জোরেশোরে প্রচার চালাচ্ছেন ধানের শীষ মার্কার প্রার্থী সামসুজ্জামান সামু। নির্বাচনে জিতলে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এ এলাকার বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবেন- এমন প্রতিশ্রতি দিচ্ছেন তিনি।
জামায়াতের প্রার্থী মাহাবুবুর রহমান বেলালও অন্য প্রার্থীদের মত নেতাকর্মীদের নিয়ে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।
ভোটের মাঠে জিএম কাদেরের প্রতিপক্ষ হতে পারেন ইসলামী আন্দোলনের আমিরুজ্জামান পিয়াল। গত সংসদ নির্বাচনে ভোট করে চমক সৃষ্টি করেছিলেন তৃতীয় লিঙ্গের হরিণ মার্কার প্রার্থী আনোয়ারা ইসলাম রানী। তিনি সেবার ২৩ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছিলেন।
এই আসনে অন্য প্রার্থীরা হলেন- বাসদের আব্দুল কুদ্দুস, বাসদ-মাকর্সবাদীর আনোয়ারা হোসেন বাবলু এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম মশিউর রহমান যাদু মিয়ার কন্যা রিটা রহমান।
রংপুর-৩ আসনে পাঁচ লাখ আট হাজার ২২৩ ভোটারের মধ্যে পুরুষ দুই লাখ ৫২ হাজার ৩৭০ জন, নারী দুই লাখ ৫৫ হাজার ৮৪৮ জন ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার পাঁচজন।
‘শিল্পপতির আসন’
ডিয়া নদী বেষ্টিত পীরগাছা ও কাউনিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত রংপুর-৪ আসনকে ভোটাররা বলেন, ‘শিল্পপতির আসন’। এখানে প্রায় তিন দশক ধরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন শিল্পপতিরা।
সবশেষ ২০০৮ সাল থেকে এখানকার সংসদ সদস্য ছিলেন শিল্পপতি টিপু মুনশী; যিনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পালন করেছেন।
তার আগে এক দশক এই সংসদীয় আসনে প্রতিনিধিত্ব করেছেন শিল্পপতি করিম উদ্দিন ভরসা।
তার ভাই রহিম উদ্দিন ভরসাও এই আসনে বিএনপির হয়ে নির্বাচন করেছেন। ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে দুই ভাইয়ের দ্বৈরথ দেখেছিলেন ভোটাররা, কিন্তু প্রথমবার জাতীয় পার্টির টিকেট পাওয়া ভাইয়ের কাছে ধরাশায়ী হন তিনি। দ্বিতীয়বার টিপু মুনশী ও ভাইয়ের পেছনে থেকে নির্বাচনি দৌড় শেষ করছিলেন।
রহিম উদ্দিন ভরসা ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে রংপুর-১০ আসন থেকে নির্বাচিত হন।

এবার এখানে বিএনপির হয়ে লড়ছেন প্রয়াত এই এমপির ছেলে শিল্পপতি এমদাদুল হক ভরসা আর জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা আবু নাসের শাহ মাহবুবার রহমান। দীর্ঘদিন পর আসনটি পুনরুদ্ধার করতে চায় জাতীয় পার্টি।
তবে জাতীয় পার্টির আসন পুনরুদ্ধারের পথে আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী অভ্যুত্থানের অন্যতম পরিচিত মুখ জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, যিনি আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন।
আখতার হোসেন জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হয়ে মাঠে নামায় আলোচনায় চলে এসেছেন, তাকে নিয়ে তরুণ ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ রয়েছে।
ভোটারদের অনেকে মনে করছেন, ভোটের মাঠে এমদাদুল হক ভরসা ‘পোড় খাওয়া’ নেতা। তাদের পারিবারিক ‘ভোট ব্যাংক’ রয়েছে।
আর জাতীয় পার্টির মাহবুবার রহমান আসনটি পুনরুদ্ধারে জোরেশোরে প্রচার চালাচ্ছেন।
এই আসনে ভোটের মাঠে আছেন ইসলামী আন্দোলনের জাহিদ হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আবু সাহমা, বাংলাদেশ কংগ্রেসের উজ্জ্বল চন্দ্র রায়, বাসদ-মাকর্সবাদীর প্রগতি বর্মণ তমা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ আলম আখতার হোসেন মাহবুবার রহমান।
৫ লাখ ১ হাজার ১০৬ জন ভোটারের রংপুর-৪ আসনে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫০ হাজার ৭৮৮ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৫৯ হাজার ১১৩ জন ও হিজড়া ভোটার পাঁচজন।
আলোচনায় দুই ‘রব্বানী’
মিঠাপুকুর উপজেলা নিয়ে রংপুর-৫ আসনে পঞ্চম ও থেকে নবম (১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বাদে) সংসদ নির্বাচন আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির পেছনে ছিল জামায়াত। এসব নির্বাচনেই তৃতীয় স্থানে ছিল দলটি। চতুর্থ হয়েছিল বিএনপি।
নবম সংসদ থেকেই আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। এবার ব্যালটে নেই তাদের নৌকা প্রতীক। দেড় দশকে দুর্বল হয়ে পড়া জাতীয় পার্টি কী এবার জামায়াতকে সামলাতে পারবে? বিএনপি কি টক্কর দিতে পারবে তাদের সঙ্গে?
ভোটারদের একটি অংশ বলছে, এখানে যে দলই জয়ী হোক, তাকে অবশ্যই জামায়াতকে মোকাবিলা করতে হবে। আবার অনেকে বলছেন, এখানে লড়াইটা জামায়াত, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির মধ্যে হবে। আওয়ামী লীগের ভোট পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।
আবার আওয়ামী লীগের ভোট যদি বিএনপি ও জাতীয় পার্টির মধ্যে ভাগ হয়ে যায়, আর জামায়াত তার সাংগঠনিক শক্তির পুরোটা ব্যবহার করতে পারে তাহলে জামায়াতের জন্য সেটা নতুন নজির সৃষ্টি করতে পারে।

জামায়াতের কর্মী-সমর্থকরা বলছেন, গত দেড় বছর ধরে তারা সেই চেষ্টাই করছেন।
এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী গোলাম রব্বানী; বিএনপি প্রার্থীর নামও গোলাম রব্বানী। দুই দলের প্রার্থীর নাম একই হওয়ায় ভোটাররা বেশ কৌতুহল বোধ করছেন।
অভ্যুত্থানের পর এখানে বিএনপির সাংগঠনিক সক্ষমতা বেড়েছে; ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা পর্যায়ে কাউন্সিল করে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে কমিটি করেছে দলটি।
বিএনপির মধ্যে কোনো কোন্দল-বিভক্তি নেই দাবি করে তাদের কর্মী-সমর্থকরা বলছেন, ফলে ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে যেতে প্রার্থীর সুবিধা হয়েছে।
অন্যদিকে রাজনীতিতে সাময়িক বিরতির পর ভোটের মাঠে সক্রিয় হয়েছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী শিল্পপতি এস এম ফখর-উজ-জামান জাহাঙ্গীর।
এ ছাড়াও ইসলামী আন্দোলনের গোলজার হোসেন, নাগরিক ঐক্যের মোফাখখারুল ইসলাম নবাব, সিপিবির আবু হেলাল, এবি পার্টির আব্দুল বাছেত, বাসদ- মার্কসবাদীর বাবুল আক্তার এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের মাহবুবুর রহমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
রংপুর-৫ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৭৯ হাজার ১৮৯; এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩২ হাজার ৪৬২, নারী ভোটার ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭২৩ জন। এ ছাড়া এ আসনে হিজড়া ভোটার রয়েছেন চারজন।
‘রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী-স্পিকারের’ আসনে এবার কে?
পীরগঞ্জ উপজেলার ভোটারদের কাছে এটি ‘ভিআইপি আসন’ হিসেবে খ্যাত রংপুর-৬। কারণ, এখান থেকে সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরী নির্বাচিত হয়েছেন।
স্বাধীনতার পর এ আসনে জাতীয় পার্টি পাঁচবার, আওয়ামী লীগ পাঁচবার এবং বিএনপি দুইবার (৯৬ সালের বিতর্কিত নির্বাচনসহ) বিজয়ী হয়েছে।
ভোটারদের ধারণা, এবার এই আসনে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।
এখানে বিএনপির প্রার্থী সাইফুল ইসলামকে আওয়ামী লীগের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মণ্ডল সমর্থন দিয়েছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। যদিও এর সত্যতা নির্ধারণ করা যায়নি। বিএনপির নেতাকর্মীরাও এ নিয়ে কথা বলতে নারাজ।
এই আসনেই জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের বাড়ি। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান- দুজনই সফরে এসে আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেছেন এবং তার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নুরুল আমিন ধর্মীয় বক্তা হিসেবে এলাকায় জনপ্রিয়। নির্বাচনি প্রচারে তিনি ভোটারদের উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
এই আসনে জাতীয় পার্টির নুর আলম মিয়া, বাংলাদেশ পার্টির ছাদেকুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলনের সুলতান মাহমুদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু জাফর মো. জাহিদ, খন্দকার শাহিদুল ইসলাম ও তাকিয়া জাহান চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
রংপুর-৬ আসনে মোট ভোটার তিন লাখ ৫৫ হাজার ৭৩৭; এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৭৬ হাজার ১০৩ এবং নারী ভোটার এক লাখ ৭৯ হাজার ৬৩০। এই আসনে হিজড়া ভোটার রয়েছেন চারজন।
জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী তিন দলের নেতারা
জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রংপুর মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক এস এম ইয়াসির বলেন, “এবারের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির পক্ষে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। মাঠের বাস্তবতা বলছে, মানুষ বিকল্প শক্তি হিসেবে জাতীয় পার্টির দিকেই তাকিয়ে আছে।”
তিনি বলেন, “রংপুরের হারিয়ে যাওয়া সব আসন এবার আমরা উদ্ধার করব। যদি সঠিকভাবে নির্বাচন হয়।”
রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এবং রংপুর-৬ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী সাইফুল ইসলাম বলেন, “আমরা রংপুরের সব আসনে জিতব। এবারের মানুষ আর ভুল করবে না। আমরা যেহেতু সরকার গঠন করব সেহেতু সাধারণ মানুষ ধানের শীষে ভোট দেবে।”
রংপুর-৩ (সদর) আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য প্রার্থী মাহবুবুর রহমান বেলাল বলেন, “এই শহরের তরুণরাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। তারা পরিবর্তনের দূত হয়ে ওঠেছে। আমি বিশ্বাস করি, রংপুর এবার সত্যিকারের জনগণের প্রতিনিধিকে বেছে নেবে।”