Published : 26 Jul 2026, 07:03 PM
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলায় টাকা ও স্বর্ণালংকার চুরির অপবাদ দিয়ে এক মধ্যবয়স্ক নারীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা বলছে, সম্প্রতি ছয়গাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন মোল্লার বাড়ি থেকে পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকার ও দুই লাখ টাকা খোয়া যায়।
এ ঘটনার জন্য ওই নারীকে দায়ী করে গত বৃহস্পতিবার তাকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যান আনোয়ার হোসেন মোল্লা ও তার সহযোগীরা বলে অভিযোগ। পরে তাকে আটকে রেখে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়।
গুরুতর অবস্থায় ওই নারীকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে ভেদরগঞ্জ থানার ওসি আবুল বাসার জানিয়েছন।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, দুই ব্যক্তি এক নারীর দুই হাত চেপে ধরে রেখেছেন। এ সময় আরেক ব্যক্তি লাঠি দিয়ে তাকে মারধর করছেন। একপর্যায়ে তিনি চিৎকার করতে করতে মাটিতে লুটিয়ে পড়লেও আবার তাকে তুলে মারধর করা হয়।
ভুক্তভোগী নারী বলেন, “আমি কোনো চুরি করিনি। তারা বাড়ি থেকে জোর করে তুলে নিয়ে মারধর করেছে। আমি এই ঘটনার বিচার চাই।”
ভুক্তভোগীর ছেলে বলেন, “আমাদের পরিবারে কোনো অভাব নেই। এক ভাই প্রবাসে থাকেন। মা কোনো চুরি করেনি। তারপরও বিএনপি নেতা আনোয়ার মোল্লা ও তার লোকজন চুরির অপবাদ দিয়ে অনেক মারধর করেছে।
“প্রয়োজনে তারা আইনের আশ্রায় নিতো। কিন্তু কোনো প্রমাণ ছাডা এভাবে কেন মারা হল তার বিচার চাই।”
ভুক্তভোগীর মেয়ে বলেছেন, “যেভাবে আমার মাকে মারধর করা হয়েছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। কয়েকজন মিলে লাঠি দিয়ে পিটিয়েছে। অভিযোগ থাকলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে যাওয়া উচিত ছিল। কিন্তু নির্দোষ মাকে মারধর করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সবার বিচার চাই।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাবেক বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন মোল্লা। তিনি বলেন, “আমি তাকে মারধর করিনি। এলাকার লোকজন তাকে মারধর করেছে। তিনি চুরির কথা স্বীকার করেছেন।”
বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের শরীয়তপুর জেলা শাখার সভাপতি মাসুদুর রহমান বলেন, “ভিডিওটি আমি দেখেছি। তদন্ত ছাড়াই কাউকে এভাবে নির্যাতন করা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত।”
ওসি আবুল বাসার বলেন, “খবর পেয়ে আহত নারীকে হাসপাতালে পাঠিয়েছি। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ করা হলে তা মামলা হিসেবে রুজু করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।”