২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

পদ্মায় পাওয়া অর্ধগলিত লাশ গাজীপুরে ৫ খুনের আসামি ফোরকানের হতে পারে: পুলিশ

কাপাসিয়ার রাউৎকোনা গ্রাম থেকে ৯ মে পাঁচজনের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

গাজীপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 16 May 2026, 06:57 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:17 PM

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় পদ্মা নদী থেকে অজ্ঞাত একজনের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। গাজীপুর জেলা পুলিশ ধারণা করছে, এটি কাপাসিয়ায় পাঁচ খুনের মামলার আসামি ফোরকার মোল্লার হতে পারে। তবে ডিএনএ পরীক্ষার পর সেটি শনাক্ত করা যাবে। 

গাজীপুরের কাপাসিয়া ও কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান শনিবার সন্ধ্যায় এ কথা জানান। 

নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জ নৌ পুলিশের দায়িত্বে থাকা পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন বলেন, শনিবার দুপুর ২টার দিকে লৌহজং উপজেলার ঘোড়দৌড় পদ্মা নদীতে ভাসমান অবস্থায় অর্ধগলিত লাশটি উদ্ধার করা হয়। এই এলাকাটি পদ্মা সেতু থেকে পাঁচ থেকে ছয় কিলোমিটার দূরে। 

“লাশ উদ্ধারের পর বিষয়টি গাজীপুর পুলিশকে জানানো হয়েছে। তারা ধারণা করছেন, এই লাশ সেখানকার পাঁচ খুনের মামলার প্রধান আসামি ফোরকানের হতে পারে। এখন লাশ গাজীপুরে পাঠানো হচ্ছে।”

মাওয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ইলিয়াস বলেন, স্থানীয়দের খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে। লাশ উদ্ধারের পর পরিচয় নিশ্চিত করতে ফোরকান মোল্লার ভাই জব্বার মোল্লাকে ডাকা হয়। তিনি প্রাথমিকভাবে মরদেহটি ফোরকান মোল্লার বলে শনাক্ত করেন।

কাপাসিয়ার রাউৎকোনা গ্রাম থেকে ৯ মে ফোরকানের স্ত্রী, তিন মেয়ে ও শ্যালকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এরপর বৃহস্পতিবার ফোরকান মোল্লার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি পদ্মা সেতুর মাঝখান থেকে উদ্ধারের কথা জানিয়েছিলে পুলিশ। সেদিন পুলিশ পদ্মা সেতুর সিসিটিভি ভিডিও বরাতে এটাও বলেছিল, পাঁচ খুনের ঘটনার দুদিন বাদের সোমবার যেখান থেকে মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়েছিল; কাছাকাছি সময়েই সেখান থেকে সাদা প্যান্ট ও কালো শার্ট পরা এক ব্যক্তি পদ্মা সেতু থেকে আত্মহত্যার উদ্দেশে পদ্মা নদীতে ঝাপ দিয়েছেন। তবে, পুলিশ তার মরদেহের কোনো সন্ধান পায়নি। যদিও পুলিশের ধারণা, সেই ব্যক্তি ফোরকান হতে পারেন। 

এর দুদিনের মাথায় পদ্মা সেতুর ভাটিতে অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের কথা জানাল পুলিশ। 

গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “লাশটি অনেকটাই বিকৃত হয়ে গেছে। ফোরকানের স্ত্রীর পরিবারের লোকজনকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তারা লাশটি ফোরকানের বলে শনাক্ত করেছে। 

“কিন্তু তারপরও বিষয়টি নিশ্চিত হতে, ফোরকানের ডিএনএ প্রোফাইল পরীক্ষা করা হবে।”

পুলিশ জানায়, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোপীনাথপুর এলাকার আতিয়ার রহমান মোল্লার ছেলে মো. ফোরকান মোল্লা (৪০) পেশায় প্রাইভেট কার চালক। পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয় গোপালগঞ্জের পাইককান্দি গ্রামের মোছা. শারমিনের (৩৫) সঙ্গে।

তাদের সংসারে তিন মেয়ে মীম (১৬), মারিয়া (৮) ও ফারিয়া (২) জন্ম নেয়। তবে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য কলহ চলছিল। প্রায় ছয় মাস আগে ফোরকান স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা পূর্বপাড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় ওঠেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ৮ মে রাতে ফোরকান তার শ্যালক রসূল মোল্লাকে (২২) পোশাক কারখানায় চাকরি দেওয়ার কথা বলে কাপাসিয়ায় ডেকে নেন। এরপর রাত ৮টা থেকে ভোর ৫টার মধ্যে কোনো এক সময়ে খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ বা অচেতন করা পদার্থ মিশিয়ে স্ত্রী, তিন মেয়ে ও শ্যালককে খাওয়ান। পরে চাপাতি দিয়ে তাদের কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

পরদিন সকালে রক্তাক্ত অবস্থায় পাঁচজনের লাশ উদ্ধার হলে এলাকায় শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় শারমিনের বাবা মো. শাহাদৎ মোল্লা বাদী হয়ে কাপাসিয়া থানায় মামলা করেন। মামলায় ফোরকানকে প্রধান আসামি করে আরও চার থেকে পাঁচজনকে অজ্ঞাত আসামি রাখা হয়েছে। 

আরও পড়ুন:

গাজীপুরে ৫ খুন: একজনকে শ্বাসরোধে, চারজনকে গলা কেটে হত্যা

গাজীপুরে ৫ খুনের ঘটনায় মামলা দায়ের

গাজীপুরে ৫ খুন: 'সবাই ভেবেছিল রসুলের ফোনে হয়ত চার্জ নেই'

গাজীপুরে ৫ খুন: যা আছে 'সন্দেহভাজনের খসড়া অভিযোগে'