১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

গাজীপুরে ৫ খুন: ‘সবাই ভেবেছিল রসুলের ফোনে হয়ত চার্জ নেই’

কাপাসিয়ার রাউৎকোনা গ্রাম থেকে শনিবার সকালে পাঁচজনের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 10 May 2026, 11:53 AM

Updated : 26 Aug 2026, 03:35 PM

ছেলে-মেয়ে আর তিন নাতনির মৃত্যুর সংবাদে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন ফেরেজা বেগম (৬০)।

যখনই চেতনা ফিরছিল, ততবারই বিলাপ করছিলেন গোপালগঞ্জের পাইককান্দি উত্তর চরপাড়ার এই নারী।

বুক চাপড়ে তিনি বলছিলেন, “আমার ছেলে-মেয়ে-নাতনিদের মাইরা ফ্যালাইছে। আমার কলিজার টুকরাকে শেষ কইরা দিল। আমি এখন কী নিয়ে বাঁচব?”

শনিবার সকালে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা গ্রাম থেকে পাঁচজনের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।  

নিহত পাঁচজন হলেন শারমিন আক্তার (৩০), তার তিন মেয়ে মীম, মারিয়া ও ফারিয়া এবং শারমিনের ভাই রসুল মিয়া (২২)।

শারমিন ও রসুলদের বাড়ি পাইককান্দি উত্তর চরপাড়ায়। তাদের বাবার নাম শাহাদাত মোল্লা। 

প্রায় দেড় যুগ আগে গোপালঞ্জের গোপীনাথপুর ইউনিয়নের বাসাবাড়ি গ্রামের ফোরকান মোল্লার সঙ্গে বিয়ে হয় শারমিনের। তিন সন্তান নিয়ে এই দম্পতি কাপাসিয়ায় থাকতেন। ফোরকান পেশায় কারের চালক। 

শনিবার লাশ উদ্ধারের পর থেকে ফোরকান মোল্লা পলাতক রয়েছেন।

বিভিন্ন আলামত ও স্বজনদের ভাষ্য থেকে তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, ‘পারিবারিক কলহের’ জেরে ফোরকান এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।

শারমিনের ভাই রসুল মোল্লা গাজীপুরে একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন; থাকতেন বড় বোন ফাতেমার বাসায়। শুক্রবার তিনি শারমিনের বাসায় যান। 

ছেলের মৃত্যুর বিষয়ে ফেরেজা বেগম বিলাপ করতে করতে বলছিলেন, “আমার বাজান কাল নতুন জামা-প্যান্ট কিনছে। সেই জামা পরে হাসতে হাসতে বোনের বাড়ি গেছে। কে জানত, ওই যাওয়াই শেষ যাওয়া! 

“আমার রসুল, আমার ছোট ছেলে, আমার বুকের ধন। তোরা আমার রসুলরে আইনা দে।”

শাহাদাত মোল্লা  ও ফেরেজা বেগম দম্পতির চার মেয়ে ও তিন ছেলে। এরমধ্যে শারমিন আক্তার তৃতীয় সন্তান; রসুল সবার ছোট। বড় মেয়ে বিয়ের কয়েক বছর পর মারা যান। এখন একসঙ্গে আরো ২ সন্তান হারালেন এই দম্পতি। 

শারমিন-রসুলদের প্রতিবেশী আবেদ আলী মীর বলেন, শুক্রবার শারমিনের বাসায় যাওয়ার পর রাত ৮টার দিকে রসুলের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। 

“সবাই ভেবেছিল, ফোনে হয়ত চার্জ নেই। ভোর সাড়ে ৫টায় ফোরকান মোল্লার ভাই জব্বার মোল্লা ফোন করে বলেন যে শারমিনের বাসার সবাই মারা গেছে। কীভাবে মারা গেলো জানতে চাইলে সে বলে, ফোরকান তাদের ফোন করে জানিয়েছে, ‘পরিবারের সবাইকে শেষ করে ফ্যালাইছি, আমাকে খুঁজলে পাওয়া যাবে না’। এই বলে তিনি নাকি ফোন কেটে দেন।”

আরো পড়ুন

গাজীপুরে ৫ খুন: যা আছে 'সন্দেহভাজনের খসড়া অভিযোগে'

গাজীপুরে এক পরিবারের ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা, গৃহকর্তা পলাতক