১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

গাজীপুরে ৫ খুন: যা আছে ‘সন্দেহভাজনের খসড়া অভিযোগে’

ফোরকানকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

গাজীপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 10 May 2026, 11:54 AM

Updated : 26 Aug 2026, 03:35 PM

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় একই পরিবারের পাঁচজনের গলা কাটা লাশ উদ্ধারের ঘটনাস্থল থেকে গৃহকর্তার খসড়া অভিযোগ ও একটি বটি উদ্ধার করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

বিভিন্ন আলামত ও স্বজনদের ভাষ্য থেকে তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, ‘পারিবারিক কলহের’ জেরে গৃহকর্তা ফোরকান এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পারেন।

শনিবার সকালে উপজেলার রাউৎকোনা গ্রাম থেকে ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন (৩০), মেয়ে মীম (১৫), মারিয়া (৮), মেয়ে ফারিয়া (২) ও শ্যালক রসুল মিয়ার (২২) গলা কাটা লাশ উদ্ধার করা হয়। ভাড়ায় চালিত গাড়ির চালক ফোরকানের গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জের সদর উপজেলায় মেরী গোপীনাথপুর এলাকায়। তিনি পরিবার নিয়ে প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে বছর খানেক ধরে ভাড়া থাকতেন।

কাপাসিয়া থানার ওসি শাহীনুর আলম বলেন, শুক্রবার রাতের কোনো এক সময়ে হত্যার ঘটনা ঘটতে পারে। ‘হত্যাকাণ্ডের পর’ পালিয়ে যাওয়া ফোরকান চাচাতো ভাই আবু মুসা ও শারমিনের ভাই জব্বার আলীকে ফোন করে ঘটনা জানান। স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ দেখতে পান এবং পুলিশকে জানান। 

“তবে তাদের সাথে সরাসরি কথা বলা সম্ভব হয়নি।”

ঘটনাস্থল থেকে ফোরকানের নামে একটি খসড়া অভিযোগ পাওয়া গেছে। গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি বরাবর লেখা এ অভিযোগে ফোরকান তার স্ত্রী শারমিন খানম, শশুর, শাশুড়ি, শ্যালকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মারধরের কথা বলেছেন।

আবেদনে বলা হয়েছে, ফোরকানের স্ত্রীর মাধ্যমে তার শশুর বিভিন্ন সময়ে ১০ লাখ টাকা নিয়ে জমি কেনেন। তাছাড়া স্ত্রীর বিরুদ্ধে এক স্বজনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগও করা হয়েছে ফোরকানের নামে।

এ নিয়ে কথা বলায় গত ৩ মে প্রস্তাবিত আসামিরা বাসায় আটকিয়ে ফোরকানকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে এবং ভয়ভীতি দেখায় বলে খসড়া অভিযোগে বলা হয়েছে। 

ঘটনাস্থলের ভিডিওতে দেখা গেছে, তিন সন্তানের মরদেহ ঘরের মেঝেতে পাশাপাশি পড়ে ছিল। শারমিনের ভাই রসুলের মরদেহ ছিল বিছানার উপর। আর গহনা-শাড়ি পরিহিত শারমিনের হাত-মুখ বাঁধা লাশ জানালার গ্রিলের সঙ্গে বাঁধা ছিল।

শারমিনের ভাই শামীম বলেন, চাকরি দেওয়ার কথা বলে রসুল মিয়াকে শুক্রবার ফোন করে বাসায় ডেকে নেন ফোরকান। 

“সে মাদকাসক্ত ছিল বলে শুনেছি। তার বাসা থেকে মদের বোতল এবং ইয়াবা সেবনের উপকরণ পাওয়া গেছে।”

কাপাসিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) যোবায়ের হোসেন বলেন, মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। সন্দেহভাজন ফোরকানকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান শুরু করেছে।

কাপাসিয়া থানার ওসি শাহীনুর আলম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহ বা অন্য যেকোনো ঘটনার জেরে ফোরকান হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পালিয়েছেন। তিনি শনিবার ভোরে ফোনে স্বজনদের কাছে ওই হত্যাকাণ্ডের কথা জানান। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি স্বাক্ষরবিহীন অভিযোগ এবং ‘খুনে ব্যবহৃত’ বঁটি উদ্ধার করেছে। 

কাপাসিয়া-কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, কী কারণে এসব হত্যা ঘটেছে তা উদ্ঘাটনে পুলিশ, পিবিআই, ডিবি, সিআইডি একযোগে কাজ শুরু করেছে।