Published : 03 Nov 2025, 10:57 AM
খুলনা নগরে বিএনপির কার্যালয়ে স্থানীয় এক নেতাকে লক্ষ্য করে ছোড়া গুলি ‘লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে’ এক কর্মী নিহত হয়েছেন। এতে এক বিএনপি নেতাসহ আহত হয়েছেন আরও দুজন।
রোববার রাত ৯টার দিকে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-কুয়েটের আইটি গেট সংলগ্ন বিএনপির স্থানীয় দলীয় কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে খানজাহান আলী থানার ওসি মো. তুহিনুজ্জামান জানিয়েছেন।
নিহত ৫৫ বছর বয়সী এমদাদুল হক আড়ংঘাটা থানার তেলিগাতী গ্রামের বাসিন্দা এবং বছিতলা নুরানি হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আহতরা হলেন- নগরীর খানজাহান আলী থানার যোগীপোল ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন শেখ (৪৫) ও বেল্লাল হোসেন (৩০)। তাদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
যোগীপোল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মীর শওকত হোসেন হিট্টু বলেন, “গুলিতে আহত মামুন শেখের শারীরিক অবস্থা গুরুতর। তিনি ও আহত আরেকজনের চিকিৎসা চলছে।
“নিহত ও আহত ব্যক্তিরা আমাদের দলীয় নেতাকর্মী।”

স্থানীয়দের বরাতে ঘটনার বর্ণনায় ওসি তুহিনুজ্জামান বলেন, “রোববার রাতে বিএনপি নেতা মামুন শেখ স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে ওই কার্যালয়ে বসে ছিলেন। এ সময় দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে পরপর দুটি বোমা ও চারটি গুলি চালায়।
“প্রথম গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে পাশে থাকা এমদাদুল হকের শরীরে বিদ্ধ হয় এবং ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। এরপর সন্ত্রাসীরা দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার সময় আরও গুলি চালালে মামুন ও বেল্লাল গুলিবিদ্ধ হন।”
তখন দলীয় নেতাকর্মী ও স্বজনরা গুরুতর আহত দুজনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
আড়ংঘাটা থানার ওসি খায়রুল বাসার বলেন, “মামুন শেখ প্রায়ই দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে আড্ডা দেন। রোববার রাতেও তিনি বিএনপির স্থানীয় দলীয় কার্যালয়ে আড্ডা দিচ্ছিলেন।
“রাত ৯টার দিকে দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালায় এবং এ সময় গুলিতে একজন নিহত হন।”
খানজাহান আলী থানা বিএনপির সভাপতি কাজী মিজানুর রহমান বলেন, “যোগীপোল ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন শেখকে দুর্বৃত্তরা গুলি করে। গুলিতে মামুনসহ তিন জন আহত হন।
“এর মধ্যে একজন নিহত হয়েছেন। বাকি দুজনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।”
এদিকে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে নগরের লবণচরা থানার মুক্তার হোসেন সড়কে এক ব্যক্তির বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে। তবে এতে হতাহতের কোন ঘটনা ঘটেনি।
লবণচরা থানার ওসি হাওলাদার সানওয়ার হুসাইন মাসুম বলেন, রোববার রাত ৯টার দিকে লবণচরার মুক্তার হোসেন সড়কে অটোরাইস মিলের ফোরম্যান ইমরানের বাড়ি লক্ষ্য করে এ গুলি চালানো হয়।
“ইমরানকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি ছোড়া হলে তা জানালা ভেদ করে ঘরের ভেতরে ঢুকে যায়। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।”
ওসি বলেন, “জমি নিয়ে পূর্ব শত্রুতার জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।”