Published : 16 Sep 2025, 09:28 PM
বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান নেসকোতে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদেরকে হেনস্তা ও তাদের আন্দোলনের ‘অযৌক্তিক’ তিন দফা দাবির প্রতিবাদে গাজীপুরে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ডিপ্লোমা প্রকৌশলীরা।
মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ডিপ্লোমা প্রকৌশলী কল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে নগরের ভুরুলিয়া তিতাস গ্যাস সংলগ্ন রেলগেট এলাকায় এসব কর্মসূচি পালন করা হয়।
এতে ঢাকা সঙ্গে উত্তরের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। সেইসঙ্গে নগরজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন চালক ও সাধারণ যাত্রীরা। প্রায় দুই ঘণ্টা পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

জয়দেবপুর রেলওয়ে জংশনের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. নাদির উজ্জামান বলেন, বিকাল সাড়ে ৪টা থেকে দেড় ঘণ্টা শিক্ষার্থীরা রেলপথ অবরোধ করে রাখেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের বুঝিয়ে রেলপথ থেকে সরিয়ে দিলে ট্রেন চলাচল শুরু হয়।
তবে বুধবার সকাল ১০টায় শিক্ষার্থীরা শহরের শিববাড়ি এলাকা হয়ে চান্দনা চৌরাস্তা মোড়ে গিয়ে অবস্থান ধর্মঘট পালনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

শিক্ষার্থীরা জানান, ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে অব্যাহত ষড়যন্ত্র ও অযৌক্তিক তিন দফা দাবি নিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চলছে। বিকালে এর প্রতিবাদে শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে চাকরিপ্রত্যাশী ডিপ্লোমা প্রকৌশলীরা বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন।
তাদের মিছিলে এমআইএসটি (MIST) পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, রয়েল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, ভাওয়াল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

প্রথমে মিছিলটি ভুরুলিয়া ঢাকা-রাজশাহী রেলপথের ভরুলিয়া এলাকায় অবস্থান নেয়। এক পর্যায়ে আন্দোলনকারীরা রেলপথ অবরোধ করে ‘রেল ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করেন।
আন্দোলনকারীরা বলেন, ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের ১০ম গ্রেড বাতিল করে যারা মব সৃষ্টি করছে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। এ সময় ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের সাত দফা দাবি তুলে ধরেন শিক্ষার্থীরা।
দাবিগুলো হল-
১. প্রকৌশল কর্মক্ষেত্র ডেস্ক ও ফিল্ড ইঞ্জিনিয়ারিং-এ বিভাজন করে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের ডেস্ক এবং ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের ফিল্ড ইঞ্জিনিয়ারিং-এ নিয়োজিত করা; সেইসঙ্গে সরকারি প্রজ্ঞাপনের আলোকে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য নির্ধারিত উপ-সহকারী প্রকৌশলী/সমমানের পদ সংরক্ষণ করা।
২. একমুখী প্রকৌশল শিক্ষাব্যবস্থা চালু, মেধার অপচয় রোধ, প্রকৌশলীদের পেশা পরিবর্তন প্রতিরোধ এবং প্রকৌশল সংস্থায় প্রশাসনিক পদে প্রশাসনিক ক্যাডারের জনবল নিয়োগ করা।
৩. উপ-সহকারী প্রকৌশলী/সমমানের পদ থেকে সহকারী প্রকৌশলী/সমমানের পদে পদোন্নতির হার ৫০ শতাংশে উন্নীত করা।
৪. আন্তর্জাতিক ইঞ্জিনিয়ারিং টিম কনসেপ্ট অনুযায়ী সব প্রকৌশল সংস্থার জনবল কাঠামোতে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার ও দক্ষ জনবলের অনুপাত ১:৫:২৫ নির্ধারণ করা।
৫. পলিটেকনিক ও মনোটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং টিএসসিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত ১:১২ অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগ; ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং কারিকুলাম ইংরেজি মাধ্যমে রূপান্তরসহ আধুনিকায়ন করা।
৬. সব প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং সনদধারীদের ক্রেডিট ট্রান্সফারের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি এবং পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের মেধাবৃত্তি বৃদ্ধি করা।
৭. কারিগরি ছাত্র আন্দোলন, বাংলাদেশ কর্তৃক উত্থাপিত ছয় দফা দাবি অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের ৪০ লক্ষাধিক ডিপ্লোমা প্রকৌশলী ও প্রায় চার লাখ পলিটেকনিক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
বিএসসি প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অযৌক্তিক দাবি করে তারা বলেন, বিএসসি প্রকৌশলদের প্রতিটি দাবি দেশের চালিকাশক্তি ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের ক্যারিয়ারে আঘাত হেনেছে।
বিএসসি প্রকৌশলদের তিন দাবি জাতীয় কর্মক্ষেত্রে অস্থিরতা সৃষ্টির পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়াবে বলে মনে করেন ডিপ্লোমা প্রকৌশলী শিক্ষার্থীরা।