Published : 11 Dec 2025, 01:40 AM
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনের চারটিতে বিএনপি প্রার্থী ঘোষণা করলেও তাদের ঘিরে ঐক্যবদ্ধ কর্মকাণ্ড দেখা যাচ্ছে না। সব আসনেই প্রার্থীদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে গেছেন মনোনয়ন না পাওয়া নেতারা, তাদের কর্মী-সমর্থকরাও সরব।
ধানের শীষের প্রার্থী ‘বিদ্রোহীদের’ প্রতি ঐক্যের আহ্বান জানালেও সাড়া মিলছে না তাদের। এমনকি কেউ কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ারও আভাস দিচ্ছেন। ফলে ‘অস্বস্তিতে’ পড়েছেন প্রার্থীরা।
৩ নভেম্বর স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে সারাদেশে ২৩৭ আসনে দলীয় প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
দলীয় সিদ্ধান্ত অনুসারে, নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে দলটির নির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান দিপু ভূঁইয়া, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে সহসাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে নির্বাহী কমিটির সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি মাসুদুজ্জামান মাসুদকে ধানের শীষের প্রার্থী করা হয়েছে।
এরপর ৪ ডিসেম্বর মির্জা ফখরুল আরও ৩৬ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেন। তখনও শিল্প অধ্যুষিত ফতুল্লা থানা এলাকা নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে প্রার্থী দেয়নি দল।
এই আসনটি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও জোটের শরিক দলের জন্য ছেড়ে দিয়েছিল বিএনপি। এবারও শরিকদের ছাড় দেওয়া হবে কি না, তা খোলাসা হয়নি এখনও। আসনটিতে বিএনপির কয়েকজন মনোনয়ন প্রত্যাশী কেন্দ্রের নজর কাড়তে ব্যস্ত।
মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সবুর খান সেন্টু বলছেন, “বিএনপি একটি বড় দল। ফলে মতপার্থক্য থাকবে স্বাভাবিক, কিন্তু দিনশেষে সবাই দল ও দেশের স্বার্থেই কাজ করবেন।”

নারায়ণগঞ্জ-৫
সদর ও বন্দর এলাকা নিয়ে গঠিত এ আসনে যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ী মাসুদুজ্জামানকে মনোনয়ন দেওয়ায় ক্ষুদ্ধ হয়েছেন দলের একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতা।
এ আসনে শুরু থেকেই মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন দলের অন্তত ১০ নেতা। তাদের মধ্যে মাসুদুজ্জামান ছাড়াও আলোচনায় ছিলেন তিন বারের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান, সদস্যসচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু, মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, বিএনপিপন্থী ব্যবসায়ী আবু জাফর আহমেদ বাবুল ও শিক্ষক আলিয়ার হোসেন।
ফলে যারা মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন তারা প্রকাশ্য কর্মসূচিতে ধানের শীষ প্রার্থী মাসুদুজ্জামানের বিরুদ্ধে প্রচার চালান।
তাদের ভাষ্য, মাসুদুজ্জামান বিএনপির ‘কেউ নন’, তিনি সুসময়ে এসে বিএনপির মনোনয়ন ‘বাগিয়ে’ নিয়েছেন।
মনোনয়ন না পাওয়া সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম বলেন, “আমি নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে একাধিকবার নির্বাচিত হয়েছি। আগামী নির্বাচন হবে অনেক কঠিন।
“বিগত ১৭ বছর আওয়ামী লীগের ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে তৃণমূলসহ অনেকেই নির্যাতিত। তৃণমূলকে মূল্যায়ন করা না হলে রাজনীতি কঠিন পর্যায়ে চলে যাবে। পরীক্ষিত প্রার্থী না হলে এখানে জয় পাওয়াটা কষ্টকর।”
তবে মনোনয়ন না পাওয়া দলীয় অন্য নেতারাও দিনশেষে দলের স্বার্থে ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষেই কাজ করবেন বলে বিশ্বাস মাসুদুজ্জামানের।
তিনি বলেন, “বিগত সময়ে আমি দল ও দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের পাশে সবসময় ছিলাম। এমনকি নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য বিনাস্বার্থে আমি কাজ করেছি। আমার বিগত সময়ের কর্মকাণ্ড বিবেচনায় দল আমার উপর আস্থা রেখেছে।”
“মনোনয়ন মাঠপর্যায়ে জরিপ ও কয়েক ধাপে যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে দেওয়া হয়। সুতরাং দলের সিদ্ধান্তকে সবাই মেনে নেবেন, এটা আমি বিশ্বাস করি। আমি সবাইকে নিয়েই কাজ করতে চাই।”
এদিকে, বিগত সময়ে দলবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বহিষ্কার হওয়া কয়েকজন নেতাকে পুনরায় দলে নিয়েছে বিএনপি। স্থানীয় নেতাকর্মীদের ধারণা, দলীয় প্রার্থীর সুবিধার হবে বিবেচনায় এই নেতাদের আবার ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
তাদের মধ্যে মহানগর বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও বন্দর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ টি এম কামাল অন্যতম। আসনটিতে ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে অংশ নিচ্ছেন তারা।

নারায়ণগঞ্জ-৩
সোনারগাঁ উপজেলা নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সীমানা পুনঃনির্ধারণের কারণে জটিলতায় তৈরি হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক প্রস্তাবে সোনারগাঁয়ের সঙ্গে বন্দর উপজেলা যুক্ত করার বিষয়টি থাকলেও বন্দরবাসীর তীব্র প্রতিবাদের মুখে তা বাতিল করা হয়। শেষে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকার ১০টি ওয়ার্ড যুক্ত করা হয়।
এ কারণে সোনারগাঁর পাশাপাশি সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার স্থানীয় বিএনপি নেতারাও মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে সামনে আসেন।
এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেতে আগ্রহী ছিলেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করিম, সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মামুন মাহমুদ, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ওয়ালিউর রহমান আপেল, সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি খন্দকার আবু জাফর, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ওয়াহিদ বিন ইমতিয়াজ বকুল।
তাদের মধ্যে দল বেছে নেয় আজহারুল ইসলাম মান্নানকে। সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও ২০১৮ সালের মনোনীত প্রার্থী মান্নানকে প্রার্থী ঘোষণা করায় বাদ পড়া সাত নেতা দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে তার বিরুদ্ধে একজোট হন।
তারা ১৯ নভেম্বর দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে লিখিতভাবে মনোনয়ন বাতিলের দাবিও জানান। চিঠিতে বলা হয়, মান্নানকে নিয়ে নির্বাচন করলে জয় ‘সম্ভব নয়’ এবং তার ‘শিক্ষাগত যোগ্যতাও নেই’।
মনোনয়ন না পাওয়া নেতাদের কর্মকাণ্ডকে ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে দেখছেন ধানের শীষের প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান।
তিনি বলেন, “ষড়যন্ত্র ছিল, আছে, চলবে। কিন্তু আমরা প্রচার থামাইনি এবং থামাব না। তৃণমূলেও ধানের শীষ প্রার্থীর জনপ্রিয়তা বাড়ছে।”
এদিকে বিএনপি দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে জোট বাঁধায় সে সব ‘বিদ্রোহী’ নেতাদের কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছে। মনোনয়ন নিায়ে দ্বন্দ্ব বিএনপির মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করলেও প্রার্থীর প্রচার অব্যাহত রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ-৪
ফতুল্লা থানা এলাকা ও সদর থানার গোগনগর ও আলীর টেক-এ দুই ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে এখনও কোনো প্রার্থী দেয়নি বিএনপি।
তবে, সেখানে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী, দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাশুকুল ইসলাম রাজীব, ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহীদুল ইসলাম টিটু, জেলা যুবদলের সভাপতি আহ্বায়ক সাদেকুর রহমান ও সদস্যসচিব মশিউর রহমান রনি প্রার্থী হতে আগ্রহী।
তাদের বাইরেও নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে মনোনয়ন না পাওয়া সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মামুন মাহমুদও এ আসনে মনোনয়ন চান।
দল কাউকে চূড়ান্ত না করলেও মনোনয়নপ্রত্যাশীরা কেন্দ্রের দৃষ্টি আকর্ষণে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। দলের ৩১ দফা কার্যক্রমের প্রচারপত্র বিতরণ, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও গণসংযোগ করে ধানের শীষের ভোট চেয়ে বেড়াচ্ছেন তারা।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে চারবার সংসদ সদস্য ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা শামীম ওসমান। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এ আসনে দলীয় প্রার্থী দেয়নি বিএনপি।
সেই একাদশ সংসদ নির্বাচনে আসনটি শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে ছেড়ে দিয়েছিল বিএনপি। এবারও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব ও নারায়ণগঞ্জ জেলা হেফাজতে ইসলামের আমির মনির হোসাইন কাসেমী জোটের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন।
বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, “আমি ২০০৮ সালে এ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হয়েছি। ২০১৮ সালে মনোনয়ন পেলেও পরে আসনটি জোটকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়, আমরাও মেনে নিই।
“কিন্তু এবারের বিষয়টি ভিন্ন এ কারণে যে, এবার দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে জোটের কাউকে আসনটি ছেড়ে দিলে এবং তিনি যদি তার দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করেন তাহলে আসনটিতে তার জিতে আসা সম্ভব না। আসনটি বরং বিএনপি হারাবে বলে মনে করি। এইটা কেবল আমার না, জনগণেরও একই মতামত।”
নারায়ণগঞ্জ জেলা হেফাজতে ইসলামের আমির মনির হোসাইন কাসেমী বলেন, “আমি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। জোটের ঘোষণা এখনো হয়নি।
“তবে, জোট হলে এই সিট আমিই পাব বলে আশা করি। আর যদি জোট আমাকে না দেয়, তাহলে যাকে দেবেন তার পক্ষেই কাজ করব।”

নারায়ণগঞ্জ-২
শিল্পসমৃদ্ধ উপজেলা আড়াইহাজার নিয়ে গঠিত এ সংসদীয় আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম আজাদ। বিএনপির কেন্দ্রীয় এ নেতা মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকে দলেরই নেতাকর্মীদের তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়েছেন।
এ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য আতাউর রহমান আঙ্গুর, বিএনপির সহঅর্থ বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ও মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক পারভীন আক্তার মনোনয়ন প্রত্যাশা করেছিলেন।
সেখানে আজাদ মনোনয়ন পেলেও ভোটের প্রচারে মনোনয়ন না পাওয়া নেতা এবং তাদের অনুসারীদের সঙ্গে পাচ্ছেন না তিনি। উল্টো তারা আজাদের মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবিতে রাস্তায় নামেন।
১০ নভেম্বর বিকালে আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ের পাশের মাঠে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে এক কর্মসূচিতে মনোনয়ন-বঞ্চিত তিন নেতাকে এক মঞ্চে দেখা যায়। ওই সময় তারা এ আসনে প্রার্থীর বিষয়ে পুনর্বিবেচনা করার জন্য দলের প্রতি আহ্বান জানান।
বিএনপির সহঅর্থ বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, “এই আসনে ৯০ ভাগ সাধারণ মানুষ এবং ৭০ ভাগ তৃণমূলের নেতা-কর্মী আমার পাশে আছে। তাই দল আমাকে কিংবা অন্য কোনো উপযুক্ত প্রার্থীকে মনোনয়ন দিলে আমাদের কোনো আপত্তি থাকত না। দল একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তবে একজন কর্মী হিসেবে দলের মঙ্গল কামনা করার অধিকার আমারও আছে।
“দলের স্বার্থে আমি সবকিছু করতে প্রস্তুত। কিন্তু মাঠপর্যায়ে খোঁজ নিলে দেখবেন- দল যদি এই মনোনয়ন পুনর্বিবেচনা না করে, তাহলে দলই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
তবে দলের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আজাদ।
তিনি বলেন, “আমরা যারা দল করি, আমাদের কাছে জননেতা তারেক রহমান এবং দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে, সংগঠিতভাবে, দলের স্বার্থকে সবার উপরে রেখে ধানের শীষের পক্ষে শক্তির এক দেয়াল গড়ে তুলতে হবে।
“দলের প্রশ্নে আমরা সবাই এক। একতাই আমাদের সাহস, ঐক্যই আমাদের শক্তি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস-গণতন্ত্রের পক্ষে, মানুষের পক্ষে, ধানের শীষের পক্ষে আড়াইহাজার আবার নতুন ইতিহাস রচনা করবে।”

নারায়ণগঞ্জ-১
রূপগঞ্জ উপজেলা নিয়ে এই আসনে বিএনপি প্রার্থী করেছে মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুকে। তিনি দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রূপগঞ্জে মনোনয়ন পেয়েছিলেন মনিরুজ্জামান মনির। তিনি ওই সময় জেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন।
দিপু এবার মনোনয়ন পেলেও প্রচারে পাচ্ছেন না মনিরুজ্জামানের সমর্থকদের। যদিও মনোনয়ন পাওয়ার এক দিন পরেই মনিরুজ্জামানের সঙ্গে দেখা করে তার সহযোগিতা চেয়েছিলেন মোস্তাফিজুর দিপু।
স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতা বলেন, রূপগঞ্জ উপজেলায় টানা চারবার সংসদ সদস্য ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম দস্তগীর গাজী। এক মেয়াদে তিনি বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও রূপগঞ্জ বিএনপি মনির ও দিপু-এই দুই বলয়ে বিভক্ত ছিল। গত বছর আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরও তাদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
দলের সবাইকে সঙ্গে না পেলেও নিজের সমর্থকদের নিয়ে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু।
তিনি বলেন, “যারা জনগণের সঙ্গে থাকবে, জনগণকে নিয়ে সামনে এগোবে এবং যারা মাঠে নেতৃত্ব দিয়েছে তাদেরই মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
“রূপগঞ্জে আমার বিগত দিনের কাজের বিবেচনায় দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। রূপগঞ্জবাসী আমার সঙ্গে আছে। আশা করি, দলেরও সবাই মিলেমিশে এক হয়ে, ধানের শীষের হয়ে কাজ করব।”
দলটির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বলছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে মনোনয়নকে কেন্দ্র করে তীব্র অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও প্রকাশ্য বিদ্রোহ দলের জন্য সংকট তৈরি করছে।
পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র বিরোধ এবং প্রকাশ্য অনাস্থা-এসব কারণে বিএনপির তৃণমূলেও অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে; যা স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া কিংবা ‘বিদ্রোহী’ ভূমিকার ইঙ্গিত দিচ্ছে।