Published : 03 Sep 2026, 09:35 PM
গাজীপুর থেকে নিখোঁজ হওয়ার ২৮ দিন পর এক তরুণের হাড়গোড় ও পোশাক মাদারীপুরের ডোবা থেকে উদ্ধার করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, ছোট বোনের পরকিয়া ও পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে বোনজামাইয়ের পরিকল্পনায় তাকে হত্যা করা হয়েছে। বোনজামাইসহ দুজনকে গ্রেপ্তারের পর তাদের দেওয়া তথ্যে লাশের সন্ধান মিলেছে।
গ্রেপ্তাররা মঙ্গলবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলেও জানান গাজীপুর সদর থানার এসআই দীপঙ্কর দত্ত।
নিহত সৌরভ আহমেদ (২০) জামালপুর সদরের তিতপল্যা খাকুরীপাড়া এলাকার নূর ইসলামের ছেলে। তিনি গাজীপুর মহানগরের পশ্চিম জয়দেবপুর গণি মুন্সীরটেকে আ. সাত্তারের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।
গ্রেপ্তাররা হলেন, সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ থানার মুরাগাছা এলাকার আনারুল ইসলামের ছেলে মো. রবিউল ইসলাম (২২) এবং মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর থানার জোড়গাও এলাকার মো. খলিলুর রহমানের ছেলে মো. শাহীন (২৭)।
বৃহস্পতিবার দুপুরে মহানগর পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সৌরভের নিখোঁজের বিষয়ে ৩ আগস্ট সদর থানায় ডায়েরি করেন তার মা মোছা. কাকলী বেগম।
পরে সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে এসআই দীপঙ্কর দত্তসহ একাধিক টিম মাঠে কাজ শুরু করে।
প্রাথমিক তদন্তে তারা বাদীর দেওয়া পারিবারিক কলহের তথ্য ও তথ্য প্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে সৌরভের সর্বশেষ অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে কাকলী বেগম সদর থানায় হত্যার উদ্দেশ্যে ছেলেকে অপহরণের মামলা করেন।
পরিদর্শক মেহেদী হাসান বলেন, মামলার পর তথ্য প্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে ২০ অগাস্ট মাদারীপুরের রাজৈর থানাধীন টেকেরহাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে সৌরভের ছোট বোনের স্বামী রবিউল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তাকে দুই দফা রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যে সোমবার মাদারীপুরের টেকেরহাট এলাকা থেকে মো. শাহিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তাদের দেওয়া তথ্যে রাজৈরের হোসেনপুর ইউনিয়নের উত্তর বিদ্যানন্দি এলাকার একটি ডোবা থেকে সোমবার সৌরভের দেহাবশেষ ও পরিধেয় বস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
‘ছোট বোনের ‘পরকীয়ার জেরে বিরোধ’
গাজীপুর সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মেহেদী হাসান বলেন, চার বছর আগে সৌরভের ছোট বোনের সঙ্গে রবিউলের বিয়ে হয়। ২ বছরের বাচ্চাসহ তারা রাজৈরের টেকেরহাটের তাঁতিকান্দি এলাকার হবি মাতাবরের চাতালে বসবাস করছিলেন। পরে সৌরভের এক বন্ধুর সঙ্গে ছোট বোনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। একপর্যায়ে তিনি রবিউলকে ছেড়ে চলে যান। বিষয়টি নিয়ে সৌরভের সাথে রবিউলের বিরোধ সৃষ্টি হয়।
মেহেদী হাসান বলেন, এর জের ধরেই তিনি সৌরভকে হত্যার পরিকল্পনা করেন এবং শাহিনকে ৮ হাজার টাকার বিনিময়ে হত্যা করে লাশ গুম করার চুক্তি দেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী ৩ অগাস্ট সৌরভকে টেকেরহাটে নিয়ে যান রবিউল। পরে রাত ৯টা হতে ১০টার মধ্যে তিনি, শাহিন এবং শাহিনের দুই সহযোগী (পলাতক) কৌশলে রবিউলকে ডোবার কাছে নিয়ে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন। এবং মরদেহ একাধিক টুকরো করে ডোবার কুচুরিপানার নিচে গুম করে যে যার মত পালিয়ে যান।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই দীপঙ্কর দত্ত বলেন, হত্যায় চারজন জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। দুই জন গ্রেপ্তার হয়েছেন অন্যরা পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত আছে।
এছাড়া নিহতের পরিচয় নিশ্চিতে উদ্ধার করা হাড়গোড়ের ডিএনএ টেস্ট করার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি।