Published : 20 Apr 2026, 02:52 PM
জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও পণ্যমূল্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে না এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে আশ্বাস দিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
সোমবার সকাল সিলেট নগরীর অগ্রগামী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে মাসব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে যাতে মূল্যস্ফীতির প্রভাব বিভিন্ন সেক্টরে না পরে সেজন্য সরকার সচেতন আছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “কৃষককে ডিজেলের জন্য সরকার ভর্তুকি দেয়। অন্যান্য ক্ষেত্রেও সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখবে।”
আব্দুল মুক্তাদির বলেন, “আমরা খাদ্যদ্রব্য খাই, এটি জ্বালানি তেলে তৈরি না। এটি পরিবহনের সঙ্গে জড়িত। ম্যানুফেকচারিং ইন্ডাস্ট্রিতেও জ্বালানি খরচ হয় মোট উৎপাদন খরচের ৭ থেকে ৮ শতাংশ। তাই পণ্যমূল্য খুব বেশি বাড়বে না।”
জ্বালানির দাম বাড়ানোর যৌক্তিকতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে, অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে ও বর্তমান বিশ্ববাস্তবতার প্রেক্ষাপটে তেলের মূল্য খুব সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে।
“এইটুকু বৃদ্ধি না করলে আমদানি ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। আমদানি মূল্য বাড়লে ভোক্তা পর্যায়ে মূল্য বাড়বে এটিই স্বাভাবিক। পুরো বিশ্বজুড়েই জ্বালানি তেলের মূল্য বেড়েছে। উন্নত দেশগুলোতেও বেড়েছে।”
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের তুলনায় সিলেট এখনও নানা সামাজিক সূচকে পিছিয়ে রয়েছে মন্তব্য করে মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, “অনেক ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার। তবে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এই বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।"
সরকার জনস্বাস্থ্যের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, “টিকাদান কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নেওয়া হলে অচিরেই দেশব্যাপী হামের প্রকোপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।”
মন্ত্রী বলেন, “সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে সিলেটে শিগগিরই ২৫০ শয্যার একটি আধুনিক হাসপাতাল চালু করা হবে, যা এ অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবায় নতুন মাত্রা যোগ করবে।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন সফল করতে সংশ্লিষ্টরা নিরলসভাবে কাজ করছেন। ইতোমধ্যে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় এবং ব্যাপক প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।
“সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকায় হামের প্রকোপ তুলনামূলক কম হলেও শিশুদের শতভাগ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এই ক্যাম্পেইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
কোনো ধরনের গুজবে কান না দিয়ে অভিভাবকদের শিশুদের টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।