Published : 19 Nov 2024, 12:40 AM
নরসিংদীর বেলাব সরকারি হোসেন আলী কলেজের অধ্যক্ষ বীরেশ্বর চক্রবর্তীর অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী।
সোমবার দুপুরে কলেজ প্রাঙ্গণে বিক্ষোভের সময় অধ্যক্ষের অপসারণের পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগও আনেন বিক্ষোভকারীরা।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা জানান, ২০১৩ সালে অধ্যক্ষ পদে যোগদান করেন বীরেশ্বর চক্রবর্তী। তারপর থেকেই তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ আসতে থাকে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে চারবার তদন্ত হয়। অনেক টাকা আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। এর মধ্যে তিনি তিন লাখ টাকা ফেরতও দেন। কিন্তু রহস্যজনক কারণে প্রশাসন অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর হঠাৎ করেই উধাও হন অধ্যক্ষ। কোনোরকম ছুটি ছাড়াই প্রায় চার মাস ধরে তিনি কলেজে অনুপস্থিত। মোবাইল বন্ধ থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।
এই অবস্থায় কলেজ পরিচালনা কর্তৃপক্ষ জ্যেষ্ঠ শিক্ষক জিয়াউর রহমানকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দিয়েছেন।
দুপুরে কলেজে গিয়ে দেখা যায়, কলেজটির দোতলা ভবনের একটি কক্ষে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে সরকারি অডিট কমিটির তদন্তকাজ চলছে। এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন নরসিংদী সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ মো. সিরাজ উদ্দীন ভূঁইয়া। ভবনের নিচে বিক্ষোভ চলছিল।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জিয়াউর রহমান বলেন, “সরকার পতনের পর থেকেই কোনোরকম ছুটি ছাড়াই অনুপস্থিত রয়েছেন অধ্যক্ষ বীরেশ্বর চক্রবর্তী। উনার কাছে ডিডিও সিট ও কলেজের লেনদেনের পাসওয়ার্ড থাকায় আমরা কলেজের কোনোরকম লেনদেন করতে পারছি না।”
বেলাব সরকারি হোসেন আলী কলেজের শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, “বীরেশ্বর চক্রবর্তী সম্পূর্ণ অনিয়মতান্ত্রিকভাবে অধ্যক্ষ পদে যোগদান করেন। তিনি বিভিন্ন সময়ে কলেজের লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। চার মাস ধরে অনুপস্থিত। উনি কোথায় আছেন, আমরা কিছুই জানি না। আমরা চাই, উনাকে যেন অপসারণ করা হয়।”
বিক্ষোভরত কলেজের প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী কুলসুম বলেন, অধ্যক্ষ বীরেশ্বর তাদের উপবৃত্তির টাকা আত্মসাৎ করেছেন। অর্থ আত্মসাৎ ও নানা অনিয়মের কারণে তার অপসারণ চান তারা।
বেলাব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল করিম বলেন, “অধ্যক্ষ বীরেশ্বর চক্রবর্তী অনুপস্থিত থাকায় পাঠদান ও কলেজের অন্যান্য কাজে গতি ফিরিয়ে আনার জন্য নতুন অধ্যক্ষ নিয়োগের জন্য এরই মধ্যে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।”
অধ্যক্ষ বীরেশ্বর চক্রবর্তীর মোবাইল বন্ধ থাকায় তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।