১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীকে যথাযথ মর্যাদায় আমন্ত্রণ দেওয়া হয়নি: স্পিকার

“ভারতের সাথে আমাদের সুসম্পর্ক রাখা দরকার। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারাও যে সুসম্পর্ক চায় তেমন কিছু দেখা যাচ্ছে না।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 14 Sep 2026, 03:14 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:59 AM

ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে যথাযথ মর্যাদায় আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। 

একই সঙ্গে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক সমমর্যাদা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

সোমবার সকালে ভোলা সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন স্পিকার।

তিনি বলেন, “আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে সঠিক মর্যাদা দিয়ে একজন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তো তারা এখনো ইনভাইট করেনি। আরেকটা জিনিস বাংলাদেশেও ভারতের ব্যাপারে তাদের কিছু কিছু রিজার্ভেশন আছে, বিশেষ করে পতীত সরকারের প্রধানমন্ত্রীকে তারা আশ্রয় দিয়েছেন এবং সেখানে বসে রাজনীতি করার তাদের সুযোগ দিয়েছেন, যা সৎ প্রতিবেশীসুলভ আচরণ বলে আমরা মনে করি না।

“সুতরাং দেখা যাক আগামী দিনে, আমরা আশা করব-ভারতের সাথে আমাদের সুসম্পর্ক রাখা দরকার। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারাও যে সুসম্পর্ক চায় তেমন কিছু দেখা যাচ্ছে না। কেবলমাত্র দুই দেশের কূটনৈতিক পর্যায়ে কথাবার্তা চালাচালি হচ্ছে। ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে সৎ প্রতিবেশীসুলভ সমমর্যাদার ভিত্তিতে আমাদের এই সম্পর্ক আমরা চাই।”

স্পিকার বলেন, “অতীতে আওয়ামী লীগ আমলে যে সম্পর্ক ছিল বাংলাদেশের সাথে ভারতের, পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন যে, আমাদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক। আমরা সেই স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক চাই না। সমমর্যাদার ভিত্তিতে একটা সার্বভৌম দুটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের মধ্যে মর্যাদার ভিত্তিতে যে সম্পর্ক থাকা উচিত, আমরা সেই ধরনের সম্পর্কই চাই। আমরা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাই। বাংলাদেশ সকল রাষ্ট্রের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করতে চায়।”

বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ ও সংস্কারের প্রশংসা করে জাতীয় সংসদের স্পিকার বলেন, “তারেক রহমান ব্যাপক জনপ্রিয়তা নিয়ে এবং নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছেন। এই সরকারের বয়স মাত্র সাত মাস। গত ১৭ বছর ধরে বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের দুঃশাসনের ফলে দেশের প্রতিটি স্তরে, প্রতিটি বিভাগে, প্রতিটি অ্যারিনাতে ধস নেমেছে।

“হত্যা, গুম, খুন, মানি লন্ডারিং, দুর্নীতি অতীতে সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে এবং দেশকে প্রায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছে বিগত সরকারের অবৈধ কর্মকাণ্ড। এই পরিস্থিতি থেকে উন্নয়ন ঘটাতে অনেক সময় লাগবে, বেশ সময় লাগবে। তো সাত মাস এটার জন্য খুবই অল্প সময়, তবুও শুরু করেছে।”

সংষ্কার কার্যক্রমের প্রসঙ্গ তুলে স্পিকার বলেন, “কিছু কিছু সংস্কার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে সরকার এবং বিরোধী দল উভয়ই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যখন এই সংস্কারের কাজটি শুরু হবে এবং শেষ হবে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে, তখন আপনারা কাঙ্ক্ষিত ফল দেখতে পাবেন। এখনো মনে হচ্ছে যেন যা জনগণ আশা করে এখন পর্যন্ত পায়নি, তার কারণ যে সংস্কার প্রক্রিয়া আইনগতভাবে এখনো শুরু হয়নি।

“আশা করি সংসদের আগামী অধিবেশনে সংস্কার প্রস্তাবগুলো নিয়ে সরকার এবং বিরোধী দল একমত হলে, তাহলে দ্রুত যদি আমরা সংস্কার করতে পারি, আইনে যেসব পরিবর্তন আনা দরকার সেসব পরিবর্তন যদি আনতে পারি, তাহলে এই যে গত ১৬ বছরের দুঃশাসন থেকে জনগণ মুক্তি পাবে।”

বর্তমান সরকারের সময়ে বাকস্বাধীনতা ফিরে এসেছে বলে মন্তব্য করে হাফিজ উদ্দিন বলেন, “একটা জিনিস আপনারা লক্ষ্য করেছেন যে বাকস্বাধীনতা ফিরে পেয়েছে এদেশের জনগণ। আওয়ামী লীগ আমলে সত্যি কথা বলা সম্ভব ছিল না এবং সত্যি কথা বলার কারণে অনেকে ক্রসফায়ারে জীবন দিতে হয়েছে, বহু মানুষ গুম হয়েছে।

“বিএনপির একজন সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলী এবং আরও সংসদ সদস্য পারভেজ, তারা শুধুমাত্র খোলাখুলি কথা বলার কারণেই, দেশে বাকস্বাধীনতা না থাকার কারণে তাদেরকে হত্যা করা হয়েছে নির্মমভাবে। এখন দেশে সেই পরিবেশ নেই।”