Published : 21 Jun 2023, 11:27 AM
সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সকাল থেকে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। প্রায় তিন ঘণ্টায় কোথাও কোনো বড় ধরনের অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি।
বুধবার সকাল থেকে নগরীর কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, ভোটারদের লাইন রয়েছে। তবে ইভিএমের কারণে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া ধীরে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভোটার ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
নগরীর ১৯০টি কেন্দ্রে সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়, যা একটানা চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। এ সিটিতে ভোটার রয়েছেন ৪ লাখ ৮৭ হাজার ৭৫৩ জন; সব কেন্দ্রেই এবার ইভিএমে ভোট হচ্ছে। এখানে মোট সাতজন মেয়র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
নগরীর ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের বালুচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেখা যায়, মানুষজন ভোট দিতে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। পুরুষ ও নারী ভোটারদের দীর্ঘ লাইন লেগে আছে।
সকাল ৮টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ইমাম উদ্দিন বলেন, “এ বছর প্রথম ভোট দিতে এসেছি। এখন পর্যন্ত লাইনে। অনেক মানুষ এসেছেন কেন্দ্রে। মনে হচ্ছে, আমার আরও সময় লাগবে।”
একই কেন্দ্রের ফুলবানু বলেন, “সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, আমার সিরিয়াল এখনও আসেনি। সকালে চলে এসেছি, যাতে তাড়াতাড়ি ভোট দিতে পারি। পরিবারের সবাইকে নিয়ে এসেছি।“
বালুচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের দায়িত্ব থাকা প্রিজাইডিং অফিসার মো. জাকির হোসেন বলেন, “কেন্দ্রে ভোটারদের চাপ রয়েছে। ইভিএম হওয়ার কারণে ভোট দিতে একটু দেরি হচ্ছে। মানুষজন অভ্যস্ত না থাকার কারণে।”
এই কেন্দ্রে মোট ভোটার তিন হাজার ৮১১ জন বলে জানান প্রিজাইডিং কর্মকর্তা।
সিলেট সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিতে এসেছেন ফাহমিদা তাসমিন। তিনি বলেন, “খুব ভালো লাগছে, মানুষ ভোট দিতে এসেছেন। আমার চাচীও এই নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন।”
একই কেন্দ্রে আরামবাগের বাসিন্দা আলকাস মিয়া জানান, ইভিএমে ভোট দিয়ে তার ভালোই লেগেছে।
রিকশাচালক সমনুর রহমান তার স্ত্রীকে নিয়ে ভোট দিয়েছেন। দুজনই ভালোভাবে ভোট দিতে পেরেছেন বলে জানালেন।
এই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা সরোজ কুমার বলেন, তার কেন্দ্রে মোট ভোটার দুই হাজার ৭২৫ জন। দেড় ঘণ্টার ৩০০ থেকে ৪০০ জন ভোট দিয়েছেন।
“ইভিএমে একটু দেরি হচ্ছে”, বলেন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা।
নগরীর মদিনা মার্কেট এলাকায় শাহজালাল জামেয়া কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে ভোট দিতে এসেছেন নিবা রাণী।
তিনি বলেন, “সকাল ৭টায় চলে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছি। আগে আগে ভোট দিয়ে চলে যেতে চাই। লাইনে মানুষ বেশি থাকার কারণে দেরি হচ্ছে। বাসায় ছোট ছোট ছেলেমেয়ে রেখে এসেছি। তবে এবার লাইনে বেশি সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।
এই কেন্দ্রের কয়েকজন ভোটারের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, ইভিএমের কারণে ভোটের গতি একটু শ্লথ। তবে কারও ভোট দিতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না।
এদিকে, সিলেট সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে গিয়ে অন্য প্রার্থীদের এজেন্ট পাওয়া গেলেও জাতীয় পার্টির কোনো এজেন্ট পাওয়া যায়নি।
নগরীর টিলাগড় এলাকার এমসি কলেজ কেন্দ্রে ভোট আসা রূপবান বিবি বলেন, প্রথমে তার আঙ্গুলের ছাপ মেলেনি। পরে কেন্দ্রে থাকা লোকজন চেষ্টায় তিনি ভালোভাবেই ভোট দিতে পেরেছেন।
এই কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ময়নুল হক বলেন, “ভোটাররা ভালোভাবে ভোট দিতে পারছেন। আমার কেন্দ্রে কোনো ঝামেলা হয়নি ভোটগ্রহণে।
“এখানে মোট ভোটার দুই হাজার ৭০০ জন। এখন পর্যন্ত এর ১৩ ভাগ ভোট নেওয়া হয়েছে। ভোটারদের উপস্থিতি ভালো কেন্দ্রে”, যোগ করেন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা।
এসব কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা জানান, পুরুষের তুলনায় নারীদের ভোট দিতে একটু সময় বেশি লাগছে। তবে তারা উৎসাহ নিয়েই ভোট দিচ্ছেন।
সিলেটে মেয়র প্রার্থীরা হচ্ছেন- আওয়ামী লীগের মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী (নৌকা), জাতীয় পার্টির নজরুল ইসলাম বাবুল (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাহমুদুল হাসান (হাতপাখা) [বর্জন করলেও ইভিএম ব্যালটে নাম থাকবে], জাকের পার্টির মো. জহিরুল আলম (গোলাপ ফুল), স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আবদুল হানিফ কুটু (ঘোড়া), স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ছালাহ উদ্দিন রিমন (ক্রিকেট ব্যাট), স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. শাহ জাহান মিয়া (বাস) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মোশতাক আহমেদ রউফ মোস্তফা (হরিণ)।