Published : 09 Dec 2025, 07:12 PM
বরগুনার সাংবাদিকদের নিয়ে ‘আপত্তিকর’ মন্তব্যের অভিযোগ উঠেছে এক খাদ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
সোমবার সাক্ষাৎকার নিতে গেলে সদর উপজেলার খাদ্য নিয়ন্ত্রক এ কে এম শহিদুল হক সাংবাদিকদের ‘চাঁদাবাজ’ আখ্যা দেন। তার মন্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
একটি বেসরকারি টেলিভিশনের সাংবাদিক ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, দুপুরে সাংবাদিক ও ক্যামেরা পারসন সংবাদের প্রয়োজনে খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে তার বক্তব্য সংগ্রহ করতে যান।
তখন খাদ্য কর্মকর্তা সাক্ষাৎকার দিতে অস্বীকার করেন এবং ক্ষিপ্ত হয়ে সাংবাদিকদের ‘চাঁদাবাজ’ বলে মন্তব্য করেন।
তখন ক্যামেরা চালু ছিল, ফলে বক্তব্যের ভিডিও ধারণ হয়ে যায়। সেটা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে বলে জানান ওই সাংবাদিক।
১৯ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, সাদা চেক জামা ও মেরুন রংয়ের কোট পড়ে নিজের কার্যালয়ে চেয়ারে বসে আছেন খাদ্য নিয়ন্ত্রক শহিদুল হক।
তিনি বলছেন, “আপনারা সাংবাদিকরা চাঁদাবাজ, একদম স্পষ্ট বললাম। আমার কাছে যতজন আসছে, নাইনটি পারসেন্ট চাঁদাবাজ, ক্যামেরার সামনে বলে দিলাম। যান, ওকে। যান (টেবিল থেকে ক্যামেরা ঠেলে দিয়ে), এটা নিয়ে যান।
“আমার কাছে যতজন আসছে, এর মধ্যে একজনকে দড়ি দিয়েও বাঁধছি। পালাই গেছে।”
এ সময় সেখানে যে সাংবাদিক সাক্ষাৎকার নিতে গিয়েছিলেন এবং ক্যামেরা পারসন ছিলেন, তাদের একজন প্রশ্ন করেন, আমরা কি আপনার কাছে চাঁদা চেয়েছি?
তখন খাদ্য কর্মকর্তা হাত দিয়ে ক্যামেরা সরানোর কথা বলেন এবং বলতে থাকেন, “আপনারা তো করেন নাই। আমি তো বলি নাই, আপনি চাঁদাবাজি করেন। ক্যামেরা সরান।”
ভাইরাল ভিডিওটি দেখার কথা জানিয়েছেন বরগুনা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর সালেহ। তিনি বলেন, “বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। তবে উনি (কর্মকর্তা) সবাইকে এভাবে বলতে পারেন না। আমরা বিষয়টি দেখব।”
এ বিষয়ে সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এ কে এম শহিদুল হকের মোবাইলে বিকালে বেশ কয়েকবার ফোন দেওয়ার পর তিনি তা ধরেন। তাকে ঘটনা সম্পর্কে জানালে তিনি প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য ৩০ মিনিট সময় নেন। তবে ৩০ মিনিট পর আবার তার মোবাইলে ফোন করা তিনি আর ধরেননি।