Published : 07 Apr 2025, 07:15 PM
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বৃষ্টি হওয়াতে আম চাষিদের মনে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। বৃষ্টি হলে আমের গুটি ঝরা কমবে; বোঁটা শক্ত হয়। আর এক পশলা বৃষ্টিতে খুশি এ জেলার আম চাষিরা।
জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, রোববাররাতে জেলার পাঁচটি উপজেলার মধ্যে সদর উপজেলায় পাঁচ মিলিমিটার ও শিবগঞ্জ উপজেলায় পাঁচ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। তবে ভোলাহাট, গোমস্তাপুর ও নাচোল উপজেলায় কোনো বৃষ্টিপাত হয়নি।
সদর উপজেলার মহারাজপুর এলাকার আম চাষি হাবিবুর রহমান বলেন, “একটু বৃষ্টি হওয়ায় পরিবেশ অনেকটা ঠান্ডা হয়েছে। এতে আমের খুব উপকার হবে।”
শিবগঞ্জ উপজেলার বিনোদপুর ইউপির আম চাষি আব্দুল মতিন মাস্টার বলেন, “এ বছর বাগানে মুকুল এসেছিল ভালো; সে তুলনায় গুটি এসেছে কম। বৃষ্টি নেই তারপরও খরায় গুটি ঝরা কমাতে সেচ দিয়ে বাগান ভিজিয়ে রাখার চেষ্টা করছি।
“এর মাঝে এক পশলা বৃষ্টি হয়েছে। এতে আমের বোঁটা শক্ত হবে; গুটি ঝরার ঝুঁকি কমবে। আরোও বৃষ্টির দরকার।”
ওই উপজেলার কানসাট চককীর্তি এলাকার আম চাষি এমদাদুল হক বলেন, “গতরাতের বৃষ্টি হয়েছে মৃত্যু শয্যাশায়ীর মুখে এক চামচ পানি দেওয়ার মত; খুবই সামান্য।”

গোমস্তাপুর উপজেলার চৌডলা এলাকার আম চাষি পিন্টু মেম্বার বলেন, “গত বছরের অগাস্ট মাসের পরে আর বৃষ্টি হয়নি। দীর্ঘদিন বৃষ্টিপাত না থাকায় খরায় বাগান পরিচর্যায় আম চাষিদের দুর্ভোগ বেড়েছে। বৃষ্টি না হলে শুধু সেচ দিয়ে বাগান ভিজানো কঠিন। বৃষ্টির জন্য আকাশের দিকে চেয়ে আছি।”
চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপপরিচালক মো. ইয়াছিন আলী বলেন, বলেন, “সোমবার সকাল পর্যন্ত জেলায় গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ দুই মিলিমিটার। এই বৃষ্টিতে কোনো ফল-ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি; বরং আমের জন্য উপকার হয়েছে।”
চাঁপাইনবাবগঞ্জের আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. মোখলেসুর রহমান বলেন, এ বছর আম বাগানে মুকুল ভালো এসেছ। কিছু মুকুল প্রথম দিকে নষ্ট হলেও গুটিও বেধেছে ভালো। বর্তমানে আম মার্বেল আকৃতির। আর কিছু গুটি মার্বেল আকৃতি পার হয়েছে কিছু ছোট আছে। এই সময় বৃষ্টির দরকার ছিল বেশি। বৃষ্টি না হলে গুটি ঝরে পড়ে ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে।
তিনি বলেন, বৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত বাগানের সেচ দেওয়া জরুরি। ভালোমতো বৃষ্টিপাত না হলেও কৃষকদের অবশ্যই বাগানে সেচ দিতে হবে। যাতে বাগানের পরিবেশ ঠান্ডা থাকে। এ সময় গাছে পানি স্প্রে করতে হবে। প্রতি লিটার পানিতে দুই মিলিগ্রাম ইউরিয়া মিশিয়ে স্প্রে করলে গুটি ঝরার প্রবণতা কমবে। এটা গাছে শুধু একবার স্প্রে করা যায়।
মোখলেসুর বলেন, আম মার্বেল আকার অতিক্রম করলে আম ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণ খেয়াল রাখতে হবে। ছিদ্রকারী প্রকার আক্রমণের শুরুতে কীটনাশক সুমিথিয়ন প্রতি লিটার পানিতে দুই মিলিলিটার মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।
আমের আঁটি হওয়ার আগ পর্যন্ত ছিদ্রকারী করা পোকার দমনে ২-৩ বার এ স্প্রে চালিয়ে যাওয়ারও পরামর্শ দেন এই কর্মকর্তা।