২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

চ্যালেঞ্জের মধ্যেও স্বস্তির ঈদযাত্রার আশ্বাস সড়কমন্ত্রীর

“প্রতি বছর গড়ে সাড়ে ৪ হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। যার প্রধান দুটি কারণ চালকের অদক্ষতা ও আনফিট বাস।”

চ্যালেঞ্জের মধ্যেও স্বস্তির ঈদযাত্রার আশ্বাস সড়কমন্ত্রীর
কুমিল্লায় সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের চেক বিতরণ করছেন সড়ক পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

কুমিল্লা প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 22 May 2026, 05:53 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:18 PM

অল্প সময়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ ও কোরবানির পশু পরিবহন বড় চ্যালেঞ্জ হলেও, সকলের সহযোগিতা ও সচেতনতা থাকলে এবার স্বস্তির ঈদযাত্রা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী রবিউল আলম।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গুরুত্ব বিবেচনা করে একে দশ লেনে উন্নীত করা অত্যন্ত জরুরি বলেও মন্তব্য করেছেন মন্ত্রী।

কুমিল্লা শহরের শিল্পকলা একাডেমিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে ঈদযাত্রার প্রস্তুতি নিয়ে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি। 

সড়কমন্ত্রী বলেন, “মাত্র তিনদিনের মধ্যে আড়াই কোটি মানুষ ও কোরবানিযোগ্য পশুকে পরিবহন করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আমাদের অবকাঠামো ও পরিবহন নিয়ে একটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। যে কারণে ঈদ যাতায়াতটি নির্বিঘ্নে ও আরামদায়ক করা কষ্টকর হয়ে যায়। 

“তবে আমি মনে করি সবার সহযোগিতা থাকলে, জনগণ সচেতন থাকলে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবারের ঈদ যাত্রা স্বস্তির বলে নিশ্চিত করতে পারবো।” 

এ সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গুরুত্ব বিবেচনা করে সড়কটি দশ লেনে উন্নীত করা বাঞ্ছনীয় বলে মন্তব্য করেন সড়কমন্ত্রী। 

তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রাক-প্রস্তুতিও চলছে। দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়ক হওয়ায় প্রকল্পটি অগ্রাধিকার পাবে বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, “মহাসড়ক বিভাগের মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩১ সালের মধ্যে ৪০০ কিলোমিটার সড়ক আট লেনে, প্রায় ৬০০ কিলোমিটার ছয় লেনে এবং এক হাজার কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

“আমাদের মেয়াদে যেগুলো শেষ করা সম্ভব, সেগুলো শেষ করতে চাই। আর যেগুলো শেষ হবে না, সেগুলোর বড় পরিসরে প্রস্তুতি নিয়ে কাজ শুরু করতে চাই।”

এর আগে কুমিল্লা জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ কুমিল্লা সার্কেলের যৌথ উদ্যোগে বিআরটিএ ট্রাস্টি বোর্ড এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ থেকে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ করা হয়।

এ সময় ৮৬ জন নিহতের পরিবার ও ৩৩ জন আহতের পরিবারের হাতে ক্ষতিপূরণের চেক তুলে দেওয়া হয়।

কুমিল্লায় সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের চেক বিতরণ করছেন সড়ক পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

কুমিল্লায় সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের চেক বিতরণ করছেন সড়ক পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

সেখানে মন্ত্রী রবিউল আলম বলেন, “প্রতি বছর গড়ে সাড়ে ৪ হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। যার প্রধান দুটি কারণ চালকের অদক্ষতা ও আনফিট বাস। জনগনের অসচেতনতাও আছে। তবে আমাদের এসব কমিয়ে আনতে হবে। 

“সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত আহতদের পরিবারকে প্রতিষ্ঠিত করতে সরকার ভাববে। সে দায়িত্ব রাষ্ট্র নিবে।”

অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এমপি, কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী, সচিব মো. জিয়াউল হক, বিআরটিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানসহ সড়ক বিভাগ, রেলওয়ে, হাইওয়ে পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এমপি বলেন, তারা দায়িত্ব সততার সঙ্গে পালনের চেষ্টা করছেন এবং দুর্ঘটনার স্থান ও কারণ চিহ্নিত করে আগে থেকেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, ফলে দুর্ঘটনার সংখ্যা ধীরে ধীরে কমছে।

অন্যদিকে মনিরুল হক চৌধুরী এমপি ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলেন, “আর কত প্রাণ ঝরলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক পরিকল্পিতভাবে নির্মিত হবে?” 

এই মহাসড়কের পেছনে এ পর্যন্ত মোট কত টাকা ব্যয় হয়েছে এবং দুর্ঘটনায় কত মানুষের মৃত্যু হয়েছে তার হিসাবও দাবি করেন তিনি। 

অনুষ্ঠানে শেষে অতিথিরা সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।