৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

সাড়ে ৭ বছরে ১৪ হাজার বই উপহার, ‘পাঠাভ্যাস গড়তে’ পথে পথে চর্যাপদ

“মানুষের হাতে আরও বেশি বই তুলে দেওয়ার ইচ্ছা থাকলেও সংগঠনের আর্থিক ও সাংগঠনিক সক্ষমতা সীমিত।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 30 Oct 2026, 06:53 PM

Updated : 30 Oct 2026, 07:00 PM

বই মানুষের চিন্তার জগৎকে প্রসারিত করে, জ্ঞানের দুয়ার খুলে দেয়। সেই বিশ্বাস থেকেই মানুষের হাতে বই তুলে দেওয়ার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে চাঁদপুরের চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি।

পথেঘাটে, অফিস-আদালতে, যানবাহনে কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের হাতে বিনামূল্যে বই পৌঁছে দিচ্ছে সংগঠনটি। গত সাড়ে সাত বছরে তাদের উপহার দেওয়া বইয়ের সংখ্যা ১৪ হাজার ছাড়িয়েছে।

মানুষকে বই পড়ায় উৎসাহিত করতে প্রতিবছর অক্টোবর মাসজুড়ে বই উপহার কর্মসূচি পালন করে আসছে একাডেমিটি। এবারও ‘ছড়িয়ে দিতে বই, পথের মানুষ হই’ স্লোগানে গত ১ অক্টোবর শুরু হয়েছিল ষষ্ঠ বই উপহার মাস। পুরো মাস ধরে চলে এ কর্মসূচি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী বলেন, “বই মানুষের জ্ঞানের পরিধি বাড়ায়। চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমির মাসব্যাপী বই উপহার কর্মসূচি একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। মানুষকে বইমুখী করতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।”

সামাজিক ও মানবিক যেকোনো ভালো উদ্যোগের পাশে থাকার আশ্বাসও দেন তিনি।

২০১৯ সাল থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক বই উপহার কর্মসূচি চালু করে চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি। এরপর ২০২১ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে বই উপহার মাস পালন করে আসছে সংগঠনটি। এ সময়ের মধ্যে আয়োজন করা হয়েছে বই উপহার মেলাও।

‘বই কখনো হয় না পর, বইয়ের সঙ্গে বাঁধব ঘর’ এবং ‘ছড়িয়ে দিতে বই, পথের মানুষ হই’- এ দুটি প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পরিচালিত হচ্ছে তাদের কার্যক্রম।

সমাপনী অনুষ্ঠানে বই উপহার কর্মসূচিতে বিশেষ অবদান রাখা তিনজনকে ‘বই মাসের শ্রেষ্ঠ সারথি-২০২৬’ সম্মাননা দেওয়া হয়। তারা হলেন-একাডেমির সহযোগী পরিচালক জয়ন্তী ভৌমিক, বিজ্ঞান ও আইসিটি পরিচালক রাসেল ইব্রাহীম এবং নির্বাহী সদস্য কামরুন্নাহার বিউটি।

চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমির মহাপরিচালক ও বই উপহার মাসের আহ্বায়ক রফিকুজ্জামান রনি জানান, এবারের কর্মসূচিতে এক হাজার বই উপহার দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে একাডেমির সারথিদের অসুস্থতা, ধর্মীয় উৎসব এবং সময়ের নানা সীমাবদ্ধতার কারণে শতভাগ লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৮০ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। তবু বই মানুষের হাতে পৌঁছে দেওয়ার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পেরে তারা সন্তুষ্ট।

রফিকুজ্জামান রণি বলেন, “শুধু বই উপহার দেওয়াই আমাদের উদ্দেশ্য নয়, মানুষের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস তৈরি করাও আমাদের লক্ষ্য। গত সাড়ে সাত বছরে ১৪ হাজারের বেশি বই উপহার দিতে পেরেছি। এই উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে চাই।”

একাডেমির সভাপতি আয়েশা আক্তার রুপা বলেন, “মানুষকে বইমুখী করার পাশাপাশি মাদক ও বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যেও প্রতিবছর এ কর্মসূচি পালন করা হয়। মানুষের হাতে আরও বেশি বই তুলে দেওয়ার ইচ্ছা থাকলেও সংগঠনের আর্থিক ও সাংগঠনিক সক্ষমতা সীমিত।”

তিনি বলেন, তবে এ নিয়ে তারা হতাশ নন বরং ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে বই উপহার দেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।

সমাপনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির জনসংযোগ কর্মকর্তা আনোয়ার হাবিব কাজল, রোটারিয়ান অ্যাডভোকেট আলেয়া বেগম লাকী, বিজয়ীর প্রতিষ্ঠাতা তানিয়া ইশতিয়াক খান, প্যাপিরাস পাঠাগারের উপদেষ্টা মাহমুদা খানম, একাডেমির প্রধান পরিচালক মিজানুর রহমান স্বপনসহ অন্য অতিথিরা।

অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি ও বাঁশি পরিবেশনার পাশাপাশি অতিথিদের দেশীয় পিঠা দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়।