১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ময়মনসিংহে হেলে পড়া ভবনটি পরিত্যাক্ত ঘোষণা, ৩ ভবনের মালিককে তলব

হেলে পড়া ভবন ও পাশের ১৩ তলা ভবনটিও বিল্ডিং কোড মেনে করা হয়নি।

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 14 Dec 2025, 07:08 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:19 PM

ময়মনসিংহ নগরীর হেলে পড়া পাঁচ তলা ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ।

এছাড়া গ্রীণ ডেভেলপমেন্ট প্রতিষ্ঠানের নির্মাণাধীন ভবনসহ তিনটি ভবনের মালিককে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ তলব করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের সচিব সুমনা আল মজিদ।

রোববার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে নগরীর গুলকিবাড়ী বাইলেন কাজী অফিস সংলগ্ন এলাকার ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে এ কথা জানান তিনি।

সুমনা আল মজিদ বলেন, নির্মাণাধীন গ্রীণ ডেভেলপমেন্ট প্রতিষ্ঠানের ভবনটি বিল্ডিং কোড না মেনে পাইলিং করার কারণে পাশের পাঁচ তলা ভবন হেলে পড়ার এ ঘটনা ঘটেছে। এ কারণে নির্মাণাধীন ভবনের পাইলিংয়ের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, গ্রীণ ডেভেলপমেন্ট প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ২০১৭ সালে তৎকালীন পৌরসভা থেকে ১৩ তলা ভবনের অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী অনুমোদন নেওয়ার তিন বছরের মধ্যে ভবনের নির্মাণ কাজ করার কথা। কিন্তু এখন যে ভবনটি নির্মাণ করা হচ্ছে এটির অনুমোদনের মেয়াদ প্রায় ৫ বছর আগে শেষ হয়ে গেছে। এ কারণে তাদের কাগজপত্রসহ তলব করা হয়েছে। 

এছাড়া হেলে পড়া ভবন ও পাশের ১৩ তলা ভবনটিও বিল্ডিং কোড মেনে করা হয়নি। তাই ৩টি ভবনের মালিককেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ তলব করা হয়েছে। তাদের কাজপত্র যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা। 

পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মিয়া, নকশা অনুমোদন কমিটির সদস্য প্রকৌশলী নেসার আহম্মেদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক উম্মে হাবীবা মীরা, ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা জুলহাস উদ্দিন, সহকারী পুলিশ সুপার তাহমিনা আক্তার, প্রকৌশলী মোতালেব প্রমুখ। 

এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা পরিদর্শন টিমের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নগরীর বেশিরভাগ ভবন নির্মাণে বিল্ডিংকোড মানা হয়নি। সরু রাস্তায় দেওয়া হয়েছে ১৩তলা থেকে ২০তলা ভবনের অনুমোদন, এসব নিয়ে নগর কর্তৃপক্ষের অবহেলা দৃশ্যমান। এসব ঘটনায় আমরা নগরবাসি আতঙ্কিত, যেকোন সময় ঘটতে পারে বড় কোন দুর্ঘটনা।

এছাড়া কোনো ঘটনা ঘটলেই বলা হয় এটি পৌরসভার সময়ে অনুমোদন নেওয়া। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে মোটা অংকের আর্থিক লেনদেনে ‘ব্যাকডেইটে’ নগরীর বেশিরভাগ ভবনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলেও  অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।  

এদিকে নির্মাণাধীন গ্রীণ ডেভেলপমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেড প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষ স্থানীয় জামায়াতে ইসলামী দায়িত্বশীল নেতাদের একটি গ্রুপ।

ঘটনার বিষয়ে জানতে প্রতিষ্ঠানটির মালিক পক্ষের একজন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মো. কামরুল হাসান মিলন বলেন, “আমি প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় আছি। তবে ভবন নির্মাণ কাজ দেখভাল করছেন স্বপন নামের একজন। তার সঙ্গে কথা বলুন।”

এরপর ভবন নির্মাণের দায়িত্বে থাকা স্বপনের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। 

অপরদিকে হেলে পড়া ৫ তলা ভবনটির মালিক লন্ডন প্রবাসী রিয়াজুল আমিন অরুণের ভাই ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম লিটন বলেন, “২০১১ সালে পাঁচ তলা ভবনটি নির্মাণ করে আমার ভাই। সম্প্রতি পাশের স্থানে গ্রীণ ডেভেলপমেন্ট নামক প্রতিষ্ঠানটি বিল্ডিং কোড না মেনে বহুতল ভবনের পাইলিং কাজ শুরু করে। এ কারণে আমাদের ভবনটি হেলে পড়েছে। একই সঙ্গে দেয়ালেও ফাটলের রেখা পড়েছে।” 

“পরে বিষয়টি ফায়ার সার্ভিসকে অবগত করলে তারা সরেজমিনে এসে বেইজমেন্টের কাজ বন্ধ করে দিয়ে আমাদের ভবনের বাসিন্দাদের সরিয়ে দিয়েছে। এ ঘটনায় আমরা আতঙ্কিত। কখন কী হয়, আল্লাহ ভালো জানে।” 

এর আগে শনিবার সন্ধ্যা ৫টার দিকে পাঁচ তলা ভবনটির দেয়ালে ফাটল রেখা এবং সামনের অংশের মাটিতে দৃশ্যমান ফাটলের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি টের পেয়ে ভবনের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম ফায়ার সার্ভিস কর্মীকে জানালে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে হেলে পড়া ভবনটির পাশে নির্মাণাধীন বহুতল ভবনের পাইলিং কাজ বন্ধ করে দেয়। 

একই সঙ্গে ফায়াস সার্ভিস কর্মীরা হেলে পড়া ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বাসিন্দাদের সরিয়ে দিয়ে গেইটে তালা ঝুলিয়ে দেয়। 

ময়মনসিংহে ভবন নির্মাণের সময় হেলে পড়েছে পাশের ৫ তলা ভবন