১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

কুষ্টিয়ায় নতুন ইউএনওকে ফুল দিয়ে বরণ জামায়াত এমপির, সমালোচনা

এ নিয়ে রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদায় ‘ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স’ এবং প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে।

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 30 Jul 2026, 12:01 AM

Updated : 11 Sep 2026, 03:45 PM

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার সদ্য যোগদান করা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে তার কার্যালয়ে গিয়ে ফুল দিয়ে করণ করে নিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর।

তবে রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদায় ‘ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স’ এবং প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে উপজেলা কার্যালয়ে গিয়ে ইউএনও আফরোজ শাহীন খসরুকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন।

পরে সংসদ সদস্য ইউএনওকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানোর তিনটি ছবি ফেইসবুকে পোস্ট করেন। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ালে পক্ষে-বিপক্ষে নানা মন্তব্য করা হয়।

প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) ও সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীরা প্রশ্ন তুলেছেন। রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদায় (ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স) অনুযায়ী সংসদ সদস্য সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রধান জনপ্রতিনিধি ও আইন প্রণেতা। সাধারণত প্রশাসনিক কর্মকর্তারা সংসদ সদস্যকে অভ্যর্থনা জানিয়ে থাকেন।

কুষ্টিয়া জেলা সনাক সদস্য মিজানুর রহমান লাকী বলেন, “একজন সংসদ সদস্য যেভাবে দলবল নিয়ে ইউএনওর দপ্তরে গিয়ে সংবর্ধনা দিলেন, তাতে সরকারি কর্মকর্তার ওপর রাজনৈতিক প্রভাব ও অপ্রকাশিত চাপ তৈরির বার্তা যায়। এতে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতাও প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।”

কেউ কেউ আবার এ সংবর্ধনাকে ইতিবাচক ‘রাজনৈতিক শিষ্টাচার’ হিসেবে মনে করেন। তারা মনে করছেন- ‘এতে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে পারস্পরিক কাজের গতি ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধি পাবে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নবনিযুক্ত ইউএনও আফরোজ শাহীন খসরু বলেন, তিনি সম্প্রতি নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেছেন।

সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা নিয়ে তিনি বলেন, “যেহেতু আমরা একসঙ্গে এলাকার উন্নয়নে কাজ করব, সেই জায়গা থেকেই এমপি স্যার নিজ থেকে এসে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও ফুল উপহার দিয়েছেন। এতে ভবিষ্যতে সমন্বয় করে কাজ করা আরও সহজ হবে।”

এ বিষয়ে জানতে সংসদ সদস্য আব্দুল গফুরকে একাধিকবার ফোন করা হলে তিনি ধরেননি।