দগ্ধদের মধ্যে দুইজনের অবস্থায় আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক।
Published : 14 Dec 2024, 09:54 PM
মৌসুমের শুরুতেই উত্তরাঞ্চলে জেঁকে বসেছে শীত। ঘন কুয়াশার সঙ্গে হিমেল হাওয়ায় জবুথবু মানুষ। কিছুটা উষ্ণতা পেতে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন অনেকেই।
আগুন পোহাতে গিয়ে তিন দিনে ছয় নারী দগ্ধ হয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে চিকিৎসাধীন একজনের মৃত্যু হয়েছে।
এ ছাড়া আশঙ্কাজনক অবস্থা একজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে এবং দুইজনের অবস্থায় আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের চিকিৎসক শাহিন শাহ।
নিহত জবা বেগম (৪০) রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। বৃহস্পতিবার তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
গ্রামাঞ্চলে শীতের তীব্রতা অনেক বেশি। আর শীত থেকে রক্ষা পেতে খড়কুটা জ্বালিয়ে কিংবা চুলায় আগুন পোহাতে গিয়ে অসাবধানতাবশত পরনের কাপড়ে আগুন লেগে অনেকেই দগ্ধ হচ্ছেন।
এর মধ্যে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ওসমানপুর গ্রামের জফুনা বেগম (৮৫) এবং দিনাজপুরের বিরল উপজেলার আলুবাড়ি গ্রামের গৃহবধূ পপি আক্তার আশঙ্কাজনক অবস্থা রংপুর মেডিকেলের বার্ন ইউনিটের চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের শ্বাসনালীসহ ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পুড়ে গেছে।
দুজনেরই অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসক তাদের জরুরি ভিত্তিতে ঢাকা বার্ন হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বলে রোগীর স্বজনরা জানান।
গৃহবধূ পপি আক্তারের ভাই শাহ আলম জানান, তার বোনের ৪০ দিন বয়সি একটি সন্তান আছে। বাড়িতে রান্নার চুলার পাশে বসে সন্তানকে তাপ দেওয়ার সময় অসাবধানতাবশত পপির কাপড়ে আগুন ধরে যায়।
“পপির শ্বাসনালিসহ শরীরের ৭০ শতাংশ পুড়ে গেছে। চিকিৎসকেরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নিয়ে যেতে বলেছেন, কিন্তু আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় পারছি না।”
আহত জফুনা বেগমের মেয়ে আফরোজা বেগম জানান, মঙ্গলবার শীত থেকে রক্ষা পেতে তার মা অন্যদের সঙ্গে খড়কুটো দিয়ে জ্বালানো স্থানে আগুন পোহাচ্ছিলেন। এ সময় অসাবধানতাবশত তার শাড়িতে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তেই সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। এতে পা থেকে মুখ পর্যন্ত শরীরের বেশিরভাগ জায়গা দগ্ধ হয়।
প্রথমে তাকে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে রাতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ডাক্তাররা বলেছেন, তার মায়ের শ্বাসনালীসহ শরীরের ৭০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের ১৫ শয্যার মধ্যে তিনটি বিকল। ১২ শয্যা দিয়ে চলছে চিকিৎসা সেবা। যার জন্য সার্জিক্যাল ওয়ার্ডের বারান্দায় বার্ন ইউনিটের রোগীদের অস্থায়ীভাবে রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া বার্ন ইউনিটে মাত্র দুইজন চিকিৎসক আছেন। রয়েছে প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট। ইচ্ছে থাকলেও সেখানে দগ্ধ রোগীদের ভালো চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ নেই।
বার্ন ইউনিটের চিকিৎসক শাহিন শাহ জানান, ছয় নারী দগ্ধ হয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। এর মধ্যে একজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। একজন মারা গেছেন। আর দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
তিনি বলেন, “প্রতিবছর আগুন পোহাতে গিয়ে দগ্ধ এবং নিহতের সংখ্যা বাড়ছে। এ বিষয়ে সব সময় পরামর্শ দিচ্ছি। সচেতনতা বৃদ্ধিতে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা রয়েছে। এ জন্য সংবাদমাধ্যম কর্মীদের এগিয়ে আসতে হবে।”
বার্ন ইউনিটের প্রধান চিকিৎসক হামিদ পলাশ জানান, দুইজন রোগীর ৭০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তাদের শ্বাসনালি পুড়ে গেছে। সে কারণে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রতি বছর শীতকালে বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে দগ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটছে। এর থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আগুন পোহানো বন্ধের আহ্বান জানান তিনি।
রংপুর বিভাগে পাঁচ বছরে আগুন পোহাতে গিয়ে দগ্ধ হয়ে সাতশর বেশি নারী, বৃদ্ধ ও শিশু দগ্ধ হয়ে মারা গেছেন। গুরুতর আহত হয়েছে প্রায় দেড় হাজারের বেশি।