গাছ বিনষ্ট করার সঙ্গে জড়িত তাদের খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে বলে পুলিশ জানায়।
Published : 18 Sep 2024, 07:19 PM
বাগেরহাটের ঐতিহাসিক ষাটগম্বুজ মসজিদের পেছনে ঘোড়াদিঘি পাড়ে শতাধিক নারকেল, শজনে ও পেঁপে গাছ বিনষ্ট করা হয়েছে।
সদর উপজেলায় ষাটগম্বুজ ইউনিয়নের বাগেরহাট-খুলনা মহাসড়কে পাশে দিঘিটির পাড়ে লাগানো গাছগুলো সোমবার কেটে ও উপড়ে ফেলা হয়। এ ঘটনায় মঙ্গলবার বাগেরহাট সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর।
বাগেরহাট সদর মডেল থানার ওসি সাইদুর রহমান বলেন, “আমরা প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। গাছ বিনষ্ট করার সঙ্গে জড়িত তাদের খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে।”
বুধবার দুপুরে বাগেরহাট প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কাস্টোডিয়ান মো. যায়েদ জানান, বিশ্বের অন্যতম ঐতিহ্য বাগেরহাটের ষাটগম্বুজ মসজিদের ক্যাম্পাসের মধ্যে রয়েছে ‘ঘোড়াদিঘি’। ৪০ একর আয়তনের দীঘিটি ১৫’শ শতকে খনন করেছিলেন খানজাহান আলী (রহ.)। দেশ বিদেশের পর্যটকরা ষাটগম্বুজ মসজিদের পাশাপাশি মসজিদ সংলগ্ন এই দিঘিটিও পরিদর্শন করেন। দিঘিটি দেখে তারা মুগ্ধ হন। মূলত সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য এই দিঘির চারপাশে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষরোপণ করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, “তিন বছর আগে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে দিঘির চারপাশে ৫০টি নারকেল ও সম্প্রতি ৬১টি পেঁপে গাছ রোপন করি। এই পেঁপে গাছে ফল ধরেছিল। নিয়মিত পরিচর্যায় নারকেল গাছগুলোও বড় হতে শুরু করে। হঠাৎ সোমবার রাতে দিঘির দক্ষিণ পাড়ের নারকেল ও পেঁপে গাছগুলোকে কে বা কারা রাতের আঁধারে গাছগুলো বিনষ্ট করেছে।
“এই ঘটনায় আমরা বিস্মিত হয়েছি। ঘটনাটি নিন্দনীয়। আমরা বিষয়টি ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি এবং স্থানীয় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।”
বাগেরহাট ফাউন্ডেশনের (সাংস্কৃতিক সংগঠন) সাধারণ সম্পাদক প্রবীণ সাংবাদিক আহাদ উদ্দিন হায়দার বলেন, দিঘির সৌন্দর্য বাড়াতে সরকারের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ বিভিন্ন সময়ে ফলজ-বনজ গাছ রোপণ করে আসছে। এই গাছগুলো বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে কি?
“গাছের ক্ষতির করে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের কি লাভ হয়েছে?। যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছেন তাদের খুঁজে বের করতে প্রশাসেনের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।”