Published : 25 Aug 2026, 06:27 PM
শরীয়তপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিএনপির বিক্ষোভ কর্মসূচির সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে তিন সাংবাদিক মারধরের শিকার হয়েছেন।
মঙ্গলবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান শরীয়তপুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন।
মারধরের শিকার সাংবাদিকেরা হলেন- ডেইলি স্টারের জাহিদ হাসান, নিউজ টোয়েন্টিফোর টেলিভিশন ও জাগো নিউজের বিধান মজুমদার এবং মানবকণ্ঠের জেলা প্রতিনিধি বরকত মোল্লা।
সম্প্রতি শরীয়তপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রেস ক্লাবের সীমানা প্রাচীরের তিনটি দেয়াল ভেঙে দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে সময় টিভির সাংবাদিক বি এম ইসরাফিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম ও প্রেস ক্লাব সভাপতি আবুল হোসেনের ছবি দিয়ে প্রতিবাদ জানান। পরে তার ওপর হামলা হলে ডান হাতের কবজি ভেঙে যায় বলে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
ওই হামলা ও সীমানা প্রাচীর ভাঙার প্রতিবাদে রোববার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকেরা বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন। এ সময় তারা জেলা প্রশাসকের প্রত্যাহারের দাবি জানান।
এর পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার ‘শরীয়তপুর জেলার সর্বস্তরের জনগণ’ ব্যানারে বিএনপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেন। সেখানে জেলা প্রশাসককে ঘিরে ‘মব’ সৃষ্টিকারী সাংবাদিকদের শাস্তির দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে বক্তব্য দেন শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সহসভাপতি শাহ মোহাম্মদ আবদুস সালাম, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সিরাজুল হক মোল্লা ও সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ টিপু।
বিক্ষোভের সংবাদ সংগ্রহ করতে সেখানে যান জাহিদ হাসান, বিধান মজুমদার ও বরকত মোল্লা। সাংবাদিকদের অভিযোগ, জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আরিফুজ্জামান মোল্লা ও তার সহযোগীরা তাদের মারধর করেন।
সাংবাদিক জাহিদ হাসান বলেন, “পেশাগত দায়িত্ব পালন করার জন্য আমি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে যাই। সেখানে একটি বিক্ষোভ মিছিল হচ্ছিল। ওই মিছিলের ছবি ও ভিডিও ধারণ করার সময় যুবদল নেতা আরিফ মোল্লা (আরিফুজ্জামান) তার সহযোগীদের নিয়ে আমাকে মারধর করেছেন। তারা আমার ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। স্থানীয় কয়েকজন আইনজীবী আমাকে উদ্ধার করে তাদের কার্যালয়ে নিয়ে যান।”
বিধান মজুমদার বলেন, “সংবাদ সংগ্রহ করার জন্য আমি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যাই। ভবনের নিচতলা থেকে দোতলায় যাচ্ছিলাম। সেখানে যুবদলের নেতা আরিফ মোল্লা ও তার সহযোগীরা আমাকে চড়-থাপ্পড় ও লাথি মেরে ভবন থেকে বের করে দেন। আমি তাদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেব।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে আরিফুজ্জামান মোল্লাকে একাধিকবার মোবাইলে ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।
জেলা বিএনপির সহসভাপতি শাহ মোহাম্মদ আবদুস সালাম বলেন, “সাংবাদিকেরা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করেছেন। তারা এভাবে তার প্রত্যাহার চাইতে পারেন না। সাংবাদিকতার আড়ালে কিছু সন্ত্রাসী ও ফ্যাসিবাদের দোসররা বিএনপি সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য এমন কাজ করেছেন। এ কারণে আমরা প্রতিবাদ সমাবেশ করেছি। সেখানে কোনো সাংবাদিক নিগৃহীত বা মারধরের শিকার হয়েছেন কিনা, তা আমার জানা নেই।”
শরীয়তপুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন বলেন, “জেলা প্রশাসক কোনো নোটিশ ছাড়া প্রেস ক্লাবের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে দিয়েছেন। ওই ঘটনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে সময় টিভির সাংবাদিক হামলার শিকারের পর আহত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিকেরা মানববন্ধন করেছেন এবং জেলা প্রশাসকের প্রত্যাহার দাবি করেছেন। এমন একটি পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যুবদলের এক নেতা তিন সাংবাদিককে মারধর করেছেন, যা অপ্রত্যাশিত ও অনাকাঙ্ক্ষিত। আমরা প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে এ ঘটনার আইনগত পদক্ষেপ নেব।”
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম, পুলিশ সুপার রওনক জাহান ও পালং মডেল থানার ওসি শাহ আলমকে একাধিকবার মোবাইলে ফোন করা হলেও তারা ধরেননি। তাদের বার্তা পাঠানো হলেও কোনো উত্তর দেয়নি।