Published : 01 Mar 2026, 06:34 PM
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মারা যাওয়ায় নির্বাচনি কার্যক্রম বাতিল হওয়া শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়ন পেয়েছেন দলের প্রয়াত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের ছোট ভাই মাসুদুর রহমান মাসুদ।
রোববার বিকালে জেলা জামায়াতের আমির হাফিজুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
মনোনয়ন পাওয়া মাসুদুর রহমান জেলা জামায়াতের ব্যাবসায়িক শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক।
দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাসুদুর রহমান একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য। সেনাবাহিনী থেকে অবসরের পর এলাকায় ব্যবসার পাশাপাশি বড় ভাই নুরুজ্জামান বাদলের হাত ধরে তিনি জামায়াতের রাজনীতিতে সরাসরি সক্রিয় হন।
স্থগিত হওয়া নির্বাচনে বড় ভাইয়ের ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের পক্ষে মাঠপর্যায়ে প্রচারে তিনি অত্যন্ত তৎপর ছিলেন। বাদলের মৃত্যুর পর মাসুদের আবেগঘন বক্তব্য ও বিভিন্ন সময়োচিত উদ্যোগ তাকে দলের ভেতর ও বাইরে সবার আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসে।
জেলা জামায়াতের আমির হাফিজুর রহমান বলেন, “জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ও তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে শেরপুর-৩ আসনে নুরুজ্জামান বাদলের সহোদর ছোটভাই মাসুদুর রহমান মাসুদের নাম সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে কেন্দ্রে পাঠানো হয়। পরে কেন্দ্র থেকে তার মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।”
গত ৩ ফেব্রুয়ারি শেরপুর-৩ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা যাওয়ায় এ আসনের নির্বাচন প্রথমে স্থগিত ও পরে বাতিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। এরপর আগামী ৯ এপ্রিল নির্বাচনে ভোটগ্রহণের দিন ধার্য করে নতুন করে তফসিল ঘোষণা করা হয়।
এ আসনে ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের দিনে গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়। ইতোমধ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোটের জয় হয়েছে, তাই শেরপুর-৩ আসনে গণভোটের আর প্রয়োজন হচ্ছে না।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল ও জারি করা গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শেরপুর-৩ আসনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ২ মার্চ। বাছাই হবে ৫ মার্চ। রিটার্নিং অফিসারের বাছাই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল ৬ থেকে ১০ মার্চ পর্যন্ত দায়ের করা যাবে। আপিল নিষ্পত্তি হবে ১১ মার্চ। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৪ মার্চ এবং প্রতীক বরাদ্দের তারিখ নির্ধারিত হয়েছে ১৫ মার্চ।
২ মার্চ অথবা সেদিনের পূর্ববর্তী কোনো দিনে সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত উল্লেখিত নির্বাচনি এলাকা থেকে সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণে ইচ্ছুক প্রার্থীদের কাছ থেকে মনোনয়নপত্র গৃহীত হবে।
তবে গত ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ নির্বাচনি সময়সূচি ঘোষণার পর যাদের নাম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী তালিকায় রয়েছে তাদেরকে নতুন করে মনোনয়নপত্র দাখিল করতে হবে না এবং জামানতের অর্থও জমা দিতে হবে না বলে গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
৯ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
আরও পড়ুন