০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

সিলেটে সেবা গ্রহীতাকে মারধর: ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা

ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, “মাসুদের সঙ্গে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে সচিব ও সহকারীর কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সে সচিবকে ধাক্কা দিয়ে চেয়ার থেকে ফেলে দেয়।”

সিলেট প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 19 Jul 2023, 05:36 PM

Updated : 20 Jul 2023, 02:36 PM

সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদে সেবা নিতে আসা এক যুবককে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগী উপজেলার কিসমত মাইজভাগ দক্ষিণপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুর রব জুনু মিয়ার ছেলে কামরুজ্জামান মাসুদ (৩৯) বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে আদালতে মামলা করেন বলে জানান তার পক্ষের আইনজীবী মো. ফয়ছল আহমদ।

বুধবার দুপুরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, মামলায় ৩ নম্বর ফুলবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হানিফ খান, পরিষদের সচিব নজরুল ইসলাম (৫১) এবং কম্পিউটার অপারেটর সাইফুল ইসলাম চৌধুরীকে (৩০) আসামি করে মঙ্গলবার সিলেটের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের ২ নম্বর আমলি আদালতে মামলাটি করা হয়।

“আদালত শুনানি শেষে মারধরের ভিডিও দেখে অভিযোগকে সরাসরি এফআইআর হিসেবে গণ্য করে মামলাটি তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে গোলাপগঞ্জ থানা পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন”, যোগ করেন আইনজীবী।  

বাদী মামলার এজাহারে অভিযোগ করেছেন, তিনি একজন ব্যবসায়ী। রোববার ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করতে ফুলবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদে যান। তখন সচিব ও কম্পিউটার অপারেটর তার কাছে সরকার নির্ধারিত ফির চেয়ে অতিরিক্ত ফি দাবি করেন। ৪০০ টাকার বদলে ৬৫০ টাকা না দিলে তারা লাইসেন্স নবায়ন করবেন না জানালে তিনি তার প্রতিবাদ করেন।

একপর্যায়ে সেখানে ইউপি চেয়ারম্যান উপস্থিত হন এবং মাসুদকে চড়-থাপ্পড় ও ঘুষি মারতে মারতে গেইটের বাইরে নিয়ে যান। সেখান থেকে আবার তার অফিসে নিয়ে দরজা বন্ধ করে তিনজন মিলে তাকে শারীরিক নির্যাতন করেন। খবর পেয়ে স্বজনরা গিয়ে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

বাদী কামরুজ্জামান মাসুদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ইউনিয়ন পরিষদের সিসি ক্যামেরা দেখলে সব কিছুর প্রমাণ পাওয়া যাবে।”

এ বিষয়ে ফুলবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হানিফ খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মাসুদের সঙ্গে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে সচিব ও সহকারীর কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সে সচিবকে ধাক্কা দিয়ে চেয়ার থেকে ফেলে দেয়। তখন আমি ইউনিয়ন পরিষদে ছিলাম না।

“সচিব সাহেবের কল পেয়ে আমি কার্যালয়ে যাই। আমার সামনে মাসুদ সচিবকে পুনরায় লাঞ্ছিত করে। আমি তাকে নিবৃত্ত করি এবং বোঝাই। তখন আমি অভিভাবক হিসেবে তাকে বলছি যে, তুমি বের হয়ে যাও। বাইরে যাওয়ার পর সে খারাপ একটি ভাষা ব্যবহার করেছে। তখন আমি আবারও তাকে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আসি। তারপর এলাকার মুরব্বিদের সঙ্গে নিয়ে বিষয়টি সমাধান করি।”

ভিডিও এর ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “কে বা কারা ভিডিওটি ভাইরাল করছে জানি না। আমার ইউনিয়নেও সিসিটিভি আছে। তবে সিসিটিভি বর্তমানে কাজ করছে না। যদি ভালো থাকত তাহলে আমিও ভিডিও ভাইরাল করে দিলে সবাই প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত কী হয়েছিল বুঝতে পারতেন।”  

এ বিষয়ে জানতে ফুলবাড়ি মডেল ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. নজরুল ইসলামের মোবাইলে কল করলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে কল কেটে দেন।