Published : 07 Jan 2025, 08:27 PM
নেত্রকোণা সদরে বিভিন্ন পরিবহনে চাঁদাবাজির প্রতিবাদে ডাকা মানববন্ধনে হামলা অভিযোগ উঠেছে জেলা শ্রমিক দলের এক নেতার বিরুদ্ধে। এতে অন্তত আটজন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে জেলা প্রেস ক্লাবের সামনে পরিবহন শ্রমিকদের ব্যানারে আয়োজন করা কর্মসূচিতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান নেত্রকোণা মডেল থানার ওসি কাজী শাহনেওয়াজ।
আহতদের মধ্যে অটোরিকশা শ্রমিক নান্টু মিয়া, মিন্টু মিয়া, ট্রাক পরিবহন শ্রমিক আজগর আলী, নির্মাণ শ্রমিক সুজন মিয়া, জেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ তৌফিক নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। বাকিরা বেসরকারিভাবে চিকিৎসা নেন।
পুলিশ ও শ্রমিকরা জানান, সকালে বিভিন্ন পরিবহনের শ্রমিকরা নেত্রকোণা জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তারিফুর রহমান রিপনের বিরুদ্ধে পরিবহনে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে তা বন্ধের দাবি জানিয়ে মানববন্ধনের আয়োজন করেন।
ব্যানার নিয়ে মানববন্ধনে দাঁড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে রিপনের লোকজন হামলা চালায়। এক পর্যায়ে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়ান। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত আটজন আহত হন।

অটোরিকশা শ্রমিক নান্টু মিয়া বলেন, “হাসিনা সরকারের পতনের পর পরিবহন সেক্টর চাঁদাবাজ মুক্ত হয়। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই শ্রমিক দলের নেতা রিপন স্থানীয় পরিবহন খাতের অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহনে চাঁদাবাজি শুরু করেন। এতে আমরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছি।
“চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে শ্রমিকরা জেলা প্রেস ক্লাবের সামনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করেন। মানববন্ধন শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যে রিপনের লোকজন হামলা চালিয়ে আমাদের ব্যানার ছিনিয়ে নেয়। হামলায় আমাদের লোকজন আহত হন।”
পরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ এবং এই ন্যাক্কারজনক হামলার বিচার দাবি করেছেন নান্টু মিয়া।
আহত জেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ তৌফিক বলেন, “১৯ বছর ধরে দেখি নাই যারা প্রোগ্রাম করতে এসেছেন, তাদের বিএনপির কোনো প্রোগ্রামে। আওয়ামী লীগের লোকজন নিয়ে তারা আক্রমণ করে আমাকে মেরেছে। বিগত দিনে তারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে লিয়াজু করে সুযোগ সুবিধা ভোগ করেছেন।
“আমাদেরকে স্ট্যান্ড থেকে বের করে দিয়েছিল। বিগত দুর্দিনে রিপনকে নিয়ে আমরা চলেছি, মাঠে ছিল তারাই এখন থাকবে। নতুন করে কেউ যাতে না আসতে পারে সেটাই আমাদের দাবি।”

এ বিষয়ে কথা বলতে জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তারিফুর রহমান রিপনকে মোবাইলে একাধিকবার বার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেন নাই।
ওসি কাজী শাহনেওয়াজ বলেন, শ্রমিক নেতার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করতে চাইলে দুপক্ষের মধ্যে হাতাহাতি, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
তবে অভিযোগ পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এর আগে ৪ জানুয়ারি শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে সংগঠনবিরোধী কাজের অংশ নেওয়ার অভিযোগে শ্রমিক নেতা তারিফুর রহমান রিপনকে শোকজ করা হয়। চিঠিতে তার বিরুদ্ধে স্থানীয় পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজি, দখল ও হুমকি-ধমকিসহ একাধিক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে।