২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭ আশ্বিন ১৪৩৩

নাব্য সংকট: পদ্মায় ৮ দিন ধরে আটকা সারবোঝাই জাহাজ

জাহাজটি চট্টগ্রাম থেকে টিএসপি সার নিয়ে পাবনার নগরবাড়ি যাচ্ছিল।

নাব্য সংকট: পদ্মায় ৮ দিন ধরে আটকা সারবোঝাই জাহাজ
চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা এমভি আম্বু হালিমা-৪ জাহাজটি মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার আন্ধারমানিক ঘাট থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে নদীতে আটকে আছে।

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 31 Oct 2025, 05:31 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:34 PM

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলা পয়েন্টে পদ্মা নদীতে নাব্য সংকট দেখা দিয়েছে। এতে আট দিন ধরে নদীতে আটকে আছে সারবোঝাই একটি জাহাজ। 

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ছেড়ে আসা সারবোঝাই এমভি আম্বু হালিমা-৪ জাহাজটি উপজেলার আন্ধারমানিক ঘাট থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে আটকে আছে বলে জানান হরিরামপুর থানা ওসি মুজিবুর রহমান।

‎‎স্থানীয়রা জানান, পদ্মার হারুকান্দি থেকে গোপীনাথপুর পর্যন্ত (নদী তীর থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে) নদীর মাঝ দিয়ে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার ডুবোচর জেগে উঠেছে। কয়েক বছর আগে চরটি দেখা গেলেও ভরা বর্ষা মৌসুমে চর থাকে না। 

পানি কমলে অক্টোবর শেষে বা নভেম্বরের শুরুতে চরটি আবার জেগে ওঠে। এতে উপজেলা সদরের সঙ্গে দুর্গম চরাঞ্চলের জনগণের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম ইঞ্জিনচালিত ট্রলার চলাচলেও ব্যাহত হয়। 

এমভি আম্বু হালিমা-৪ জাহাজের মাস্টার মো. বাচ্চু মিয়া বলেন, “২৩ অক্টোবর বিকালে ডুবোচরে জাহাজটি আটকে যায়। আট থেকে নয় দিন ধরে বসে আছি। আমরা চট্টগ্রাম থেকে টিএসপি সার নিয়ে পাবনার নগরবাড়ি যাচ্ছিলাম। 

“সময় মতো সার পৌঁছে দিতে না পারলে, কৃষকের অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে। অনেক চেষ্টা করেও এখনো জাহাজ নামাতে পারছি না।”

আন্ধারমানিক ঘাটের ট্রলার মালিক মো. হাসেম বলেন, “পদ্মা পাড় ঘাট থেকে প্রতিদিন ছয়টি ট্রলারে চরাঞ্চলের মানুষজন যাতায়াত করে। এখান থেকে নদীর ওপরের দূরত্ব প্রায় ১০ কিলোমিটার। কিন্তু নদীর মাঝ দিয়ে ডুবোচর জেগে উঠায় অন্তত তিন কিলোমিটার বেশি পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে। কয়েকদিন ধরে চরে একটা জাহাজ আটকে রয়েছে।”

বিআইডব্লিউটিএর আরিচা অঞ্চলের ড্রেজিং ইউনিটের নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান আহমেদ বলেন, “ডুবোচর ড্রেজিং করার কাজটি আমরা করি না। সাধারণত নৌ-পথ এলাকা স্বাভাবিক রাখতে নৌযান চলাচল এলাকা মার্কিং থাকে। এসব এলাকায় নাব্য সংকট দেখা দিলে আমরা ড্রেজিং করি।

“জাহাজে নৌ-পথ শনাক্তের জন্য একজন পাইলট থাকেন। তারা যদি কোনো এলাকা ড্রেজিংয়ের প্রয়োজন বলে মনে করেন, আর সংশ্লিষ্ট দপ্তরে রিকুয়ারমেন্ট দেন, তাহলে ড্রেজিং করা হয়। নদীতে যে জাহাজটি আটকে আছে, তাতে সম্ভবত পাইলট ছিলেন না।”