১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

আন্দোলনে অনড় ট্যাংকলরি শ্রমিকরা, খুলনায় পাম্পে ‘কমছে’ তেল

“মজুত যতটুকু আছে, তাতে হয়তো দ্রুতই তিন রকমের জ্বালানিই শেষ হয়ে যাবে।”

খুলনা প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 28 Jan 2025, 10:01 PM

Updated : 10 Sep 2026, 12:31 PM

খুলনা বিভাগীয় ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আলী আজিমের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ ও জামিনের দাবিতে তৃতীয় দিনের মতো কর্মবিরতি পালন করছেন শ্রমিকরা।

এতে নগরের কাশিপুর এলাকায় রাষ্ট্রায়ত্ত পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা ওয়েল ডিপো থেকে জ্বালানি তেল উত্তোলন ও পরিবহন বন্ধ রয়েছে। ফলে খুলনা ও ফরিদপুর অঞ্চলের ১৫টি জেলায় জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।

পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা ট্যাংকলরি শ্রমিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি মীর মোকসেদ আলী বলেন, খুলনা বিভাগীয় ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আলী আজিমকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে গত রোববার দুপুর থেকে ট্যাংকলরি শ্রমিকরা এ কর্মসূচি পালন করছেন।

আলী আজিমকে মুক্তির বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে কী-না জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। বলেন, “তাকে মুক্তি দেওয়া না হলে আমাদের আন্দোলন চলবে।”   

মঙ্গলবার সকালে নগরের খালিশপুরের কাশিপুরে মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের গেট ও এর আশপাশে বিচ্ছিন্নভাবে ট্যাংকলরি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। খালিশপুরে অবস্থিত শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয়ের সামনেও অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিচ্ছিলেন শ্রমিকরা।

এদিকে ট্যাংকলরি শ্রমিকদের এ কর্মবিরতির প্রভাবে পাম্প এবং স্থানীয় পরিবেশকদের মজুত কমে আসছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

স্থানীয় পরিবেশকরা বলছেন, বোরোর মৌসুম হওয়ায় এ সময় ডিজেলের চাহিদা রয়েছে। খুলনার কাশিপুর এলাকায় রাষ্ট্রায়ত্ত পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা ওয়েল ডিপো থেকে জ্বালানি তেল উত্তোলন ও পরিবহন বন্ধ থাকায় মজুত কমছে।

মঙ্গলবার সকালে নগরের ফেরিঘাট মোড়ের মেসার্স কেসিসি পেট্রোলিয়ামে গিয়ে দেখা যায়, এ পাম্পে অকটেন শেষ হয়ে গেছে। সামান্য পরিমাণ ডিজেল ও পেট্রোল রয়েছে। যা দ্রুত শেষ হয়ে যেতে পারে।

একই এলাকার মেঘনা মডেল সার্ভিস সেন্টার নামে আরেকটি পেট্রোল পাম্পের কর্মচারীরা বলেন, যতক্ষণ তেল আছে ততক্ষণ বিক্রি করবেন তারা। তবে এর মধ্যে কর্মবিরতি প্রত্যাহার না হলে জ্বালানি তেল শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিপরীতে শেরেবাংলা রোডের মেট্রো ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী শেখ মাসুদ হোসেন মঙ্গলবার সকালে বলেন, “মজুত যতটুকু আছে, তাতে হয়তো দ্রুতই তিন রকমের জ্বালানিই শেষ হয়ে যাবে।”

শহরের নতুন রাস্তা এলাকার ‘মেসার্স খুলনা ফিলিং স্টেশনের’ স্বত্বাধিকারী গোলাম কাদের বলেন, “রোববার বেলা ২টা পর্যন্ত পদ্মা ওয়েল কোম্পানির ডিপো থেকে সর্বশেষ তেল উত্তোলন করা হয়। এর পর থেকে উত্তোলন ও সরবরাহ বন্ধ আছে। ডিজেল, পেট্রল ও অকটেন তিন ধরনের জ্বালানিই কমে আসছে।”

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় একই রকম চিত্র বাগেরহাট, যশোরসহ ১৬ জেলার পেট্রোল পাম্পগুলোতেও।

শ্রমিক নেতারা বলছেন, গত রোববার দুপুরে খুলনা বিভাগীয় ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আলী আজিমকে আটক করে খালিশপুর থানায় হস্তান্তর করে গোয়েন্দা পুলিশ। গত বছরের ২১ অগাস্ট খুলনা নগরের খালিশপুর থানার ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় করা এক মামলার আসামি তিনি।

এতে ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যনির্বাহী কমিটির চারজনসহ সাবেক দুজন নেতা ও তিন সদস্যকেও আসামি করা হয়েছে।

আজিমকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে গত রোববার থেকে যৌথভাবে কর্মবিরতির ডাক দেয় খুলনা বিভাগীয় ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়ন, পদ্মা মেঘনা ও যমুনা ট্যাংকলরি শ্রমিক কল্যাণ সমিতি ও জ্বালানি তেল-সম্পর্কিত অন্য দুটি সংগঠন।

এ ব্যাপারে খালিশপুর থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “আলী আজিমকে ফৌজদারি মামলায় পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। সেখানে আইনি পদক্ষেপ ছাড়া তার মুক্তি পাওয়ার কোনও সুযোগ নেই।”