Published : 01 Jan 2026, 01:11 PM
গাজীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলনের মোট সম্পদের পরিমাণ ৩ কোটি ৪৯ লাখ ৯৮ হাজার ৩৬৮ টাকা। তার বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৩০ লাখ ৫৬৪ টাকা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর-৫ আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে দাখিল করা হলফনামায় এসব তথ্য দিয়েছেন তিনি।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন সোমবার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়ন ফরম জমা দেওয়ার সময় নিজের সম্পদ ও আয়ের বিস্তারিত বিবরণ দেন ফজলুল হক মিলন।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, ফজলুলের কাছে বর্তমানে নগদ রয়েছে ১৫ লাখ ২৫ হাজার ৮২৯ টাকা। ব্যাংকে জমা আছে ১৩ লাখ ২৬ হাজার ৩৪১ টাকা। তার মালিকানায় রয়েছে ৫০ ভরি স্বর্ণালংকার।
আসবাবপত্রের মূল্য দেখানো হয়েছে দেড় লাখ এবং ইলেকট্রনিক পণ্যের মূল্য ৫০ হাজার টাকা।
স্ত্রীর কাছে নগদ ২১ লাখ ৭১ হাজার ২০৫ টাকা এবং ব্যাংকে ২ লাখ ৫৩ হাজার ২৪৮ টাকা জমা রয়েছে বলে ফজলুল হক মিলনের হলফনামার তথ্য বলছে।
এছাড়া স্ত্রীর মালিকানায় রয়েছে ২০০ তোলা স্বর্ণালংকার। দুই লাখ ৫০ হাজার টাকার আসবাবপত্র এবং ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক পণ্য রয়েছে। স্বামী ও স্ত্রী উভয়ের আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে বলে হলফনামায় বলা হয়েছে।
ফজলুল হক মিলনের হলফনামায় তার শিক্ষাগত যোগ্যতা এমএসএস (মাস্টার্স) লেখা হয়েছে।
হলফনামায় বর্তমানে চারটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে গাজীপুর-৫ আসনের সাবেক এ সংসদ সদস্য জানিয়েছেন।
এর বাইরে তার বিরুদ্ধে আরও ৪৩টি মামলা ছিল। এসব মামলার মধ্যে কয়েকটি স্থগিত রয়েছে, কয়েকটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।
কয়েকটি মামলায় খালাস ও কয়েকটি মামলায় অব্যাহতি পেয়েছেন এবং কিছু মামলা নিষ্পত্তি ও প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে হলফনামায় তথ্য দিয়েছেন ফজলুল।
পেশা হিসেবে তিনি ব্যবসার কথা এবং স্ত্রী গৃহিনী বলে হলফনামায় লিখেছেন। ব্যবসা থেকে ফজুলের বার্ষিক আয় ১৫ লাখ ২৮ হাজার ৪০০ টাকা। বাড়ি বা সম্পত্তি ভাড়া থেকে আয় ১৪ লাখ ৪৬ হাজার টাকা। অন্যান্য খাত থেকে আয় দেখানো হয়েছে ২৬ হাজার ১৬৪ টাকা।
তবে শেয়ার, বন্ড বা সঞ্চয়পত্র থেকে আয়ের কোনো তথ্য হলফনামায় নেই।
ফজলুল তার কৃষি জমির পরিমাণ ২৮৭ দশমিক ৩ শতাংশ এবং অকৃষি জমি ৫১ দশমিক ৭৫ শতাংশ দেখিয়েছেন হলফনামায়।
এ ছাড়া পূবাইলে ৪ হাজার ৪০০ বর্গফুট আয়তনের একটি একতলা ভবন, বনানীতে একটি টিনশেড বাড়ি, কাকরাইলে ১ হাজার ৬৬৩ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট এবং বসুন্ধরায় ১ হাজার ৪৭৪ বর্গফুটের ১ কোটি ৭০ লাখ ৫৩ হাজার ৭০০ টাকা মূল্যের একটি ফ্ল্যাটের মালিক তিনি।
হলফনামায় স্ত্রী ও সন্তানের কোনো আয়ের উৎস উল্লেখ না থাকলেও স্ত্রীর বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৮ লাখ ১১ হাজার ৬০০ টাকা।
স্ত্রীর মোট সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৮৬ লাখ ৪৪ হাজার ৬২৩ টাকা। এছাড়াও রমনা সার্কুলার রোডে ১৮০ বর্গফুট একটি দোকান রয়েছে স্ত্রীর। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তিনি ৩৬ হাজার ১৬০ টাকা আয়কর দিয়েছেন।
ফজলুল হক মিলনের নামে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ নেই। তবে তার স্ত্রীর কাছ থেকে ব্যাংকের মাধ্যমে নেওয়া ৩০ লাখ টাকার ঋণ রয়েছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে ফজলুল হক নিজে ৫ লাখ ৯২ হাজার ৯২৬ টাকা আয়কর দিয়েছেন বলে তার হলফনামায় লেখা আছে।
৬৩ বছর বয়সী ফজলুল হক মিলন কালীগঞ্জ উপজেলার বরতুল গ্রামের বাসিন্দা। গাজীপুর-৫ আসনে বিএনপি থেকে এর আগে দুইবার ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।
সংসদ সদস্য থাকাকালে গাজীপুর-৫ আসনের সার্বিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে তিনি ভূমিকা রেখেছেন বলে হলফনামায় লেখা আছে।
রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কালীগঞ্জ পৌরসভা ও উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন এবং গাজীপুর সদর উপজেলার বাড়িয়া ইউনিয়ন ও সিটি করপোরেশনের ৪০, ৪১ ও ৪২ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত গাজীপুর-৫ আসনটি জাতীয় সংসদের ১৯৮ নম্বর আসন।
এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৫৪ হাজার ৬৪৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৯ হাজার ৯৩ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৭৫ হাজার ৫৪৮ জন। হিজড়া ভোটার আছে ২ জন। এখানে ১২৪টি ভোট কেন্দ্রের ৬৭৮টি কক্ষে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে ফজলুল হক মিলনসহ মোট আটজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
অন্যরা হলেন- মো. খায়রুল হাসান (জামায়াতে ইসলামী), মো. আল আমিন দেওয়ান (ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ), কাজল ভূঞা (গণফোরাম), মো. আজম খান (জনতার দল), রুহুল আমিন (খেলাফত মজলিস), গাজী আতাউর রহমান (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ) ও মো. সফিউদ্দিন সরকার (জাতীয় পার্টি)।
তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র বাছাই চলবে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। আপিল করা যাবে ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি। আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি।
প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। প্রতীক বরাদ্দ হবে ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনি প্রচার ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু, ভোট হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।