১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

গায়ানায় ১৩৩ আরোহী নিয়ে ফেরিডুবিতে ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা, চালকদল আটক

রাজধানী জর্জটাউন থেকে পোর্ট কাইতুমা যাওয়ার পথে উপকূল থেকে প্রায় সাত মাইল দূরে আটলান্টিক মহাসাগরে ফেরিটি উল্টে যায়।

গায়ানায় ১৩৩ আরোহী নিয়ে ফেরিডুবিতে ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা, চালকদল আটক
গায়ানার উপকূলে যাত্রীবাহী ফেরি এমভি বারিমা উল্টে যাওয়ার পর উদ্ধার অভিযান চলছে। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 20 Jul 2026, 04:31 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:42 PM

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ গায়ানার আটলান্টিক উপকূলে অন্তত ১৩৩ জন আরোহী নিয়ে একটি যাত্রীবাহী ফেরি উল্টে গেছে। 

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৬৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বাকি ৬৬ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছে। 

আল-জাজিরা জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া আরোহীদের মধ্যে ৪১ জন পুরুষ, ১১ জন নারী, ৬ জন ছেলে এবং ৯ জন মেয়ে রয়েছে। নিখোঁজদের নিয়ে ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এমভি বারিমা নামের ফেরিটিতে ১১৬ জন যাত্রী এবং ১৭ জন ক্রু ছিলেন। রাজধানী জর্জটাউন থেকে পোর্ট কাইতুমা গ্রামে যাওয়ার পথে উপকূল থেকে প্রায় সাত মাইল দূরে উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে ফেরিটি উল্টে যায়। 

স্থানীয় সময় শনিবার রাত ১১টার দিকে ফেরিটি থেকে জরুরি সংকটের বার্তা পায় বিমান ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। এর পরপরই সেখানে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়।

গায়ানার গণপূর্ত মন্ত্রী হুয়ান এজহিল জানান, অন্ধকারের কারণে এবং সমুদ্রতলে তল্লাশি করার মতো স্ক্যানারযুক্ত জাহাজ না থাকায় শুরুতে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়েছিল। উদ্ধারকারীদের তখন কেবল চোখ ও কানের ওপর নির্ভর করতে হয়। 

তবে পরবর্তী সময়ে তেল ও গ্যাস খাতের বিভিন্ন কোম্পানি স্ক্যানারযুক্ত জাহাজ পাঠিয়ে উদ্ধারকাজে অংশ নেয়। বর্তমানে ডুবুরি দলও ফেরির ভেতরে তল্লাশি চালাচ্ছে। 

নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশির এলাকা ৪০০ বর্গকিলোমিটার থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৪০ বর্গকিলোমিটার করা হয়েছে। 

গায়ানার উপকূলে যাত্রীবাহী একটি ফেরি ডুবে যাওয়ার পর অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানের জন্য আনা লাইফবোট। ছবি: রয়টার্স 

গায়ানার উপকূলে যাত্রীবাহী একটি ফেরি ডুবে যাওয়ার পর অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানের জন্য আনা লাইফবোট

তবে রোববার বিকেলের পর থেকে নতুন কোনো জীবিত মানুষের সন্ধান মেলেনি। কর্তৃপক্ষ বাকি ৬৬ জনকে মৃত ঘোষণা না করে এখনও 'নিখোঁজ' হিসেবে তালিকাভুক্ত রাখছে।

এদিকে দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা বিতর্ক। রোববার বিকেল পর্যন্ত মন্ত্রী এজহিল দাবি করেছিলেন যে, ফেরি পরিচালনাকারীদের কোনো গাফিলতি ছিল না। 

তবে রোববার সন্ধ্যায় তিনি জানান, ফেরির ক্যাপ্টেন এবং বেশ কয়েকজন ক্রুর শরীরে মারিজুয়ানার (গাঁজা) উপস্থিতি পাওয়া গেছে। তাদের সবাইকে ইতিমধ্যে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। 

এছাড়া উদ্ধার হওয়া বেশ কয়েকজন যাত্রীর নাম ফেরির মূল তালিকায় পাওয়া যায়নি, যা আরোহীদের তালিকায় অসংগতির ইঙ্গিত দেয়।

ভেসেলফাইন্ডার ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় পড়া ফেরিটি ১৯৩৯ সালে তৈরি হয়েছিল। ২০২৪ সালে এটির সাধারণ রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় এবং চলতি বছরের শেষের দিকে এটিকে মেরামতের জন্য ড্রাই ডকে নেওয়ার কথা ছিল। 

গায়ানার প্রধানমন্ত্রী মার্ক ফিলিপস জানিয়েছেন, পুলিশ, প্রতিরক্ষা বাহিনী ও সামুদ্রিক প্রশাসন বিভাগের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। গাফিলতি বা অপরাধের প্রমাণ মিললে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে ফেরা যাত্রী লিওন মারে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ইগনাইট নিউজকে জানান, জর্জটাউন ছাড়ার চার ঘণ্টা পর হঠাৎ কেউ একজন চিৎকার করে ফেরি ডুবে যাচ্ছে বলে জানান। 

ফেরিটি উল্টে যাওয়ার পর লিওন লাইফ জ্যাকেটের সাহায্যে ভেসে থাকেন এবং তার ছেলেসহ আরও তিনজনকে একটি ভাসমান বক্স ধরে থাকতে দেখেন। লিওন ও তার ছেলে বেঁচে ফিরলেও তার স্ত্রী, কন্যাসন্তান ও চার নাতি-নাতনির কোনো সন্ধান মেলেনি।