Published : 03 Sep 2026, 11:20 AM
কুড়িগ্রাম জেলায় এখন মাঠজুড়ে রয়েছে সবজির সমারোহ। কোথাও ক্ষেতের পর ক্ষেত সবুজ চাদরে ঢাকা পড়েছে। আবার কোথাও মাঠ প্রস্তুতি শেষে বীজ বপনে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন চাষিরা।
বীজ থেকে উঁকি দেওয়া চারা মনে সুখময় প্রশান্তি এনে দিলেও সবুজের এ অগ্রগতি ধরে রাখতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন চাষিরা। কারণ হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে সার-বীজ-কীটনাশকের দাম।
জেলার রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের মীরের বাড়ি গ্রামের চাষি রফিকুল ইসলাম বলেন, “গতবার যে ফুলকপির এক প্যাকেট বিচি (বীজ) কিনেছিলাম এক হাজার থেকে ১২০০ টাকায়, এবার সেই বীজ কিনতে হল ১৭০০ টাকায়।
“তার সঙ্গে বাঁশের দাম বেড়েছে, মজুরের দাম বেড়েছে, পলিথিনের দাম বেড়েছে, ডিজেল-পেট্রলের মূল্যবৃদ্ধিতে সেচেও বেশি খরচ হচ্ছে। এতো খরচের পর সবজি বেচে লাভ পাই কিনা তা নিয়েই ভাবতেছি।”
তার মতো একই শঙ্কার কথা জানালেন মীরেরবাড়ি গ্রামের খবির উদ্দিনের ছেলে কামাল ও গোলজার খন্দকারের ছেলে রাকিব খন্দকারসহ অন্য চাষিরাও।
তারা বলছেন, মৌসুম আসলেই ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন সংকট দেখিয়ে বীজ, সার ও কীটনাশকের মূল্যবৃদ্ধি করে। মূল্যবৃদ্ধির ফলে সবজি চাষের খরচ সামাল দিতে হিমশিম অবস্থা হচ্ছে।
তারা চান সরকারের সঠিক তদারকির মাধ্যমে মূল্যবৃদ্ধির লাগাম টেনে ধরা হোক। একই সঙ্গে সংকট দূর করে কৃষি উপকরণের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা।
এই গ্রামের প্রবীণ চাষি গোলজার খন্দকার বলেন, “সবজিই মীরের বাড়ি গ্রামের কৃষকদের প্রধান অর্থকরী ফসল। একেকজন কৃষক এক একর থেকে ৪/৫ একর জমিতে ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ, বরবটি, গাজর, টমেটো, শসাসহ বিভিন্ন সবজি আগাম সবজি চাষ করবেন।
“তবে বড় সমস্যা হল চাইলেই সার পাওয়া যায় না। ডিলাররা বলে সার নাই। বাধ্য হয়ে খোলাবাজারে অধিক মূল্যে সার কিনতে হচ্ছে। এ ছাড়া আগাম সবজি চাষে অধিক হারে কীটনাশকের প্রয়োজন হয়। কিন্তু বাজারে কীটনাশকের দাম বাড়ানো হয়েছে। বিষয়গুলো সরকারের তদারকি করা দরকার।”
খেদাবাগ গ্রামের বর্গাচাষী মনিরুজ্জামানের ছেলে মোকছেদুল বলেন, “এক প্যাকেট ফুলকপির বীজে খরচ ৬০০ টাকা, চারা হয় ১৪০০ থেকে ১৫০০টি। বীজ থেকে ২৫/৩০ দিনে চারা হয়। এই চারা ৬০ দিন পর উত্তোলন পর্যায়ে চলে যাবে। সব মিলিয়ে ৯০ দিন পর সবজি ঘরে তোলা যাবে।”
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি খরিপ-২ মৌসুমে কুড়িগ্রাম জেলায় ১ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ করা হয়েছে। এর বাইরে সাড়ে ৭০০ হেক্টর জমিতে আগাম শীতকালীন সবজি চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। মাঠে বীজ রোপণ ও চারা লাগানোয় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। আগাম চাষ করে লাভবান হতে চান তারা।
সার-বীজ-কীটনাশকের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে কোনো বক্তব্য না দিলেও রাজারহাট উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা হৈমন্তী রানী বলেন, “সবজি চাষ করে এখানকার চাষিরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। জেলার চাহিদা মিটিয়ে পাশ্ববর্তী এলাকায় সবজি বিক্রি করে তারা স্বাবলম্বী হচ্ছেন।”
এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “জেলায় কোনো সারের সংকট নেই। কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে সমস্যা সমাধানে কাজ করছেন। এখন কোথাও কোনো সমস্যা থাকার কথা নয়।”
তারপরও কারো কোনো সমস্যা হলে নিকটস্থ কৃষি কার্যালয়ে যোগাযোগ করলেই তারা সঠিক সমাধান পাবেন বলে তিনি দাবি করেন।