Published : 16 Aug 2025, 10:05 PM
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলা সীমান্তে করতোয়া নদী থেকে এক গরু ব্যবসায়ীর গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি বিএসএফের গুলিতে নিহত হয়েছেন বলে দাবি স্বজনদের।
শনিবার সকালে উপজেলার দেবনগর ইউনিয়নের শুকানি সীমান্তে করতোয়া ও সাও নদীর মিলনস্থলে থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয় বলে জানান তেঁতুলিয়া থানার ওসি মো. মুসা মিয়া।
নিহত মো. মানিক (৩৫) উপজেলার দেবনগর ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের তবিবর রহমানের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার রাতে মানিক ও তার সহযোগীরা ভারতীয় সীমান্ত এলাকায় গরু আনতে যান। এরপর থেকে তারা নিখোঁজ ছিলেন। রাতে সীমান্তে গুলির শব্দ শোনা যায়। তিন দিন পর সকালে করতোয়া নদীর উত্তরে উজান থেকে লাশ ভেসে আসতে দেখেন পাথর শ্রমিকরা।
পরে তারা বিজিবি ও পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে স্বজনরা মানিকের লাশ শনাক্ত করেন।
মানিকের সঙ্গে গরু আনতে গিয়ে নিখোঁজ হন পঞ্চগড় সদর উপজেলার লাঠুয়াপাড়া আব্দুল হুদা। তার স্ত্রী আঁখি আক্তার বলেন, “তিন দিন আগে কোনো কিছু না জানিয়ে আমার স্বামী বাড়ি থেকে বের হন। আমি মনে করেছিলাম, বাজারে গেছে। সেদিন সারারাত অপেক্ষা করেছি কিন্তু তিনি ফেরেননি।
“শুক্রবার জানতে পারি, তিনি ভারতে গিয়ে ধরা পড়েছেন। আজ তাকে নিয়ে আসার কথা। কিন্তু বিজিবি ক্যাম্পে গিয়ে দেখা করার অনেক চেষ্টা করেছি। দেখা করতে পারিনি।”
দেবনগর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আইবুল ইসলাম বলেন, “বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা এই সীমান্ত দিয়ে গরু পারাপারের চেষ্টা করেন। এর আগেও গরু আনতে গিয়ে এলাকার সুজন নামের এক ব্যবসায়ী নিহত হন।”
ওসি মুসা মিয়া বলেন, সুরতহাল প্রতিবেদনে লাশের মাথায় ও পিঠে গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। মৃতদেহের ময়নাতদন্তের জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নীলফামারী-৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শেখ মোহাম্মদ বদরুদ্দোজা বলেন, “কীভাবে কি হয়েছে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। ময়নাতদন্ত ছাড়া মৃত্যুর সঠিক কারণ বলা ঠিক হবে না।”