রংপুরে চার খুন: মুগ্ধ-সিদ্ধার্থকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ
তাদের তিন ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে জানান রংপুর মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার তোফায়েল আহমেদ।
রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী মঙ্গলবার দুপুর থেকে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল তাদের তিন ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে বলে জানান রংপুর মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার তোফায়েল আহমেদ।
দুপুর ১২টার দিকে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে যান মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) তিন সদস্যের একটি দল। তারা হলেন- মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিবির পরিদর্শক জিন্নাত আলী, এসআই মমিনুল ইসলাম এবং এসআই আবু সাঈদ বাবলা।
দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিল পুলিশ। তবে মামলার দুই আসামির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দি, নতুন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ এবং মামলার সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আদালত তাদের রিমান্ডে না দিয়ে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।
আদালতের আদেশ অনুযায়ী দুদিন প্রতিদিন তিন ঘণ্টা করে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে পুলিশ। সোমবার বিকালে রংপুরের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মো. রফিকুল ইসলাম এ আদেশ দেন।
ওইদিন জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপ-কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেছিলেন, দুই আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিলেও তদন্তে পরে আরও কিছু নতুন তথ্য পাওয়া গেছে। নতুন তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই এবং মামলাটির অধিকতর তদন্তের প্রয়োজনেই তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল।
এর আগে আসামিদের ডোপ টেস্টের নমুনা সংগ্রহ করা হলেও তাতে মাদকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি বলে ডিবি পুলিশ জানায়।
২২ রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় নিজ বাড়ি থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় পরে সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মামলার তদন্তে তাদের দেওয়া জবানবন্দি, বিভিন্ন আলামত এবং নতুন পাওয়া তথ্য যাচাইয়ে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
আরও পড়ুন:
