রাঙামাটিতে অটোরিকশা ধর্মঘট প্রত্যাহার

রোববার সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে অবরোধ করে ধর্মঘট পালন করেন অটোরিকশা চালকরা।

রাঙামাটি প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 18 Sept 2022, 07:23 AM
Updated : 18 Sept 2022, 07:23 AM

স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের আশ্বাসে রাঙামাটি শহরে চলা অনির্দিষ্টকালের অটোরিকশা ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছে অটোরিকশা চালক শ্রমিক ইউনিয়ন।

রোববার বেলা ১১টায় ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয় বলে অটোরিকশা চালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বাবু জানান।

পার্বত্য এই শহরের একমাত্র গণপরিবহন সিএনজিচালিত অটোরিকশা পোড়ানো ও ভাঙচুরের পৃথক দুটি ঘটনার পর শনিবার অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ডাকে সংগঠনটির নেতারা।

রোববার সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে অবরোধ করে ধর্মঘট পালন করেন অটোরিকশা চালকরা। তারা টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভও করেন শহরের পুরাতন বাস স্টেশন, বনরূপা, তবলছড়ি, রিজার্ভবাজার, বনরূপা, কলেজগেইট এলাকায়।

Also Read: অটোরিকশায় আগুন, ভাংচুর: রাঙামাটিতে ধর্মঘটের ডাক

ধর্মঘটের কারণে অফিস ও স্কুলগামী ছাত্র-ছাত্রীরা বিপাকে পড়েন। কোনো বিকল্প না থাকায় অনেককেই হেঁটেই গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে। তবে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা এই ধর্মঘটের আওতার বাহিরে ছিলো।

এছাড়া দূরপাল্লার বাস চলাচল ও জেলার সঙ্গে অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল স্বাভাবিক ছিলো। পরে ধর্মঘট প্রত্যাহারের পর থেকে স্বাভাবিক হতে শুরু করে শহর।

অটোরিকশা চালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বাবু বলেন, “রোববার সকালে সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার আমাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি পুড়িয়ে দেওয়া গাড়ির চালকের বাসায় গিয়ে তাকে গাড়ি কিনে দেয়ার এবং সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে প্রশাসন সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নিবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন। তাই আমরা বেলা এগারোটায় সমাবেশ করে কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নিয়েছি।”

“তবে যদি আমাদের দাবি মানা না হয় এবং চালকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হয় তবে আবারো কঠোর কর্মসূচি পালন করবো আমরা।”

শহরের অটোরিকশা চালকরা শিল্পকলা একাডেমির সামনের সড়কে এ সমাবেশ হয়। এতে চালক সমিতির সভাপতি পরেশ মজুমদারসহ সংগঠনের নেতারা বক্তব্য রাখেন।

তারা রাঙামাটির বিভিন্ন সড়কে পরিবহন শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। যে গাড়ি পোড়ানো হয়েছে ও ভাঙচুর করা হয়েছে সেই গাড়ি দুটির ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং ইতোপূর্বে সন্ত্রাসীদের হাতে অপহরণের পর নিখোঁজ অটোরিকশা চালকদের উদ্ধারের দাবি জানান। পাশাপাশি এ সব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন তারা।

শুক্রবার রাঙামাটি-কাপ্তাই সড়কে চাঁদার টোকেন না থাকায় একটি অটোরিকশা পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এর পরদিন শনিবার রাত দশটায় শহরের আসামবস্তি এলাকায় আরেকটি অটোরিকশা ভাঙচুর করা হয়। এই দুই ঘটনার পর রোববার সকাল থেকে রাঙামাটি শহরে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দেয় অটোরিকশা চালক-মালিক সমিতি।

এদিকে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জরুরি সভা হয়েছে। সকাল সাড়ে এগারোটায় জেলা প্রশাসন সম্মেলন কক্ষে এই সভায় জেলার বিভিন্ন দায়িত্বশীল সংগঠন ও নেতৃবৃন্দকে ডাকা হয়।

সভার আগে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, “কিভাবে সংকটের স্থায়ী সমাধান করা যায় এবং এই ধরনের ঘটনার যেনো আর না ঘটে সেজন্য আমরা সবাইকে ডেকেছি। সবার সাথে কথা বলে, সবার মতামতের ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিব আমরা। কোনো অন্যায়, উস্কানি বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে ছাড় দিব না আমরা।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক