ভোট পরবর্তী সহিংসতা: রূপগঞ্জে আওয়ামী লীগের দুপক্ষের সংঘর্ষ-আগুন

হামলাকারীরা ইউপি কার্যালয় ভাঙচুর ও প্রাইভেট কারসহ চারটি যানবাহনে আগুন দেয় বলে জানায় পুলিশ।

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 16 Jan 2024, 05:28 PM
Updated : 16 Jan 2024, 05:28 PM

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত সাতজন আহতের খবর পাওয়া গেছে।

এ সময় ইউপি কার্যালয় ভাঙচুর ও প্রাইভেট কারসহ চারটি যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবির হোসেন।

তিনি বলেন, দাউদপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম জাহাঙ্গীরের লোকজনের সঙ্গে ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আমিন রানা ও সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সাত্তারের লোকজনের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, দুই পক্ষের মধ্যে পূর্ববিরোধ থাকলেও দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের পর এ বিরোধ আরও বাড়ে। নির্বাচনে নুরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান ভূঁইয়ার পক্ষে প্রচারে ছিলেন।

অন্যদিকে রফিকুল, আমিন ও সাত্তার ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী গোলাম দস্তগীর গাজীর পক্ষে। নির্বাচনে গোলাম দস্তগীর গাজী বিজয়ী হন। নির্বাচনের সময় উভয়পক্ষের মধ্যে সৃষ্ট বিরোধেরে জেরে মঙ্গলবার দুপুরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে।

এ ঘটনায় আহত মোসা. তুলি, মো. রাজু, মো. ফয়সাল ও মো. তামিমকে নিজের সমর্থক বলে দাবি করেন ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, “দুপুরে ইউপি কার্যালয়ের সামনে শীতবস্ত্র বিতরণের আগে রফিকুল ইসলাম, আমিন রানা ও আবদুস সাত্তারের নেতৃত্বে শতাধিক লোকজন হামলা করেন। বাধা দিতে গেলে কয়েকজনকে মারধর করা হয়।

“এ সময় হামলাকারীরা আমার একটি প্রাইভেট কারসহ কয়েকটি মোটরসাইকেলে আগুন দেয়।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে যুবলীগ নেতা রফিকুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

হামলার কথা অস্বীকার করে ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আমিন রানা বলেন, “নুরুল ইসলামের লোকজন ইউনিয়ন পরিষদের কাছে বটতলায় আমাদের দলীয় কার্যালয়ে হামলা করেছে বলে শুনেছি৷ পরে সেখানে গিয়ে মারামারি ও যানবাহনে আগুন দেখতে পাই৷

“কিছুক্ষণ পর পুলিশ আসলে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং আমি সেখান থেকে চলে আসি। আগুন বা মারামারির ঘটনায় আমাদের কেউ জড়িত না।”

ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবির হোসেন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। সেখানে ইউপি চেয়ারম্যানের গাড়িসহ চারটি যানবাহনে আগুন দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন৷