১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

কক্সবাজারের বারে ছুরিকাঘাতে খুনের পর ‘পিটুনিতে’ আরেকজনের মৃত্যু

“সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।”

কক্সবাজার প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 28 Aug 2026, 03:16 PM

Updated : 16 Sep 2026, 01:01 PM

কক্সবাজার শহরের ‘রেনেসাঁ হোটেলের’ বারে ছুরিকাঘাতে এক যুবক খুন হওয়ার কিছুক্ষণ পর বাইরে দলবেঁধে পিটুনিতে আরেক যুবকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। 

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাতে রারের বাইরে মো. সোলাইমান সালমান নামের ওই যুবককে মারধরের ঘটনা ঘটে। এরপর গুরুতর আহত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে শুক্রবার ভোরে তার মৃত্যু হয়। 

নিহত সোলাইমান সালমান বিজিবি ক্যাম্প এলাকার বাসিন্দা।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ‘রেনেসাঁ হোটেলের’ বারে কথা কাটাকাটির জেরে সংঘর্ষে মো. রাশেদ নামের এক যুবক নিহত হন। তিনি শহরের নুনিয়ার ছড়ার বাসিন্দা ছিলেন।  

পুলিশ বলছে, কয়েকজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে এক পক্ষ ফোন করে বাইরে থেকে এক যুবককে ডেকে আনে। প্রাথমিক তদন্তে ওই যুবকের কাছে ‘ছুরি থাকার’ তথ্য পাওয়া গেছে। 

এ ঘটনায় শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত কোনো পক্ষ মামলা করেনি বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. অহিদুর রহমান। তবে নিহত এক যুবকের পক্ষ থেকে নামাজের পর মামলা হতে পারে বলে জানান তিনি।

ছুরিকাঘাত হয় বারের ভেতরেই

ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান বলেন, “বারের ভেতরে কয়েকজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে তাদের একজন ফোন করে বাইরে থেকে এক যুবককে ডেকে আনেন। 

“ওই যুবকের কাছে একটি ছুরি ছিল। পরে বার থেকে বের হওয়ার সময় ওই যুবক এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাত করেন। এরপর তিনি নিচে নেমে যান।”

তবে বাইরে থেকে ফোন করে ডেকে আনা ওই যুবকের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, “বারের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। অধিকাংশই স্থানীয় হওয়ায় তাদের পরিচয় সম্পর্কে পুলিশের ধারণা রয়েছে। 

“তবে ওই যুবকের বিস্তারিত পরিচয় এখনও নিশ্চিত হয়নি।”

তদন্তের স্বার্থে ওই যুবকের নাম প্রকাশ রতে রাজি হননি এ পুলিশ কর্মকর্তা।  

ছুরিকাঘাতের পর পাল্টা হামলা

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুরের ভাষায়, ঘটনার দ্বিতীয় পর্ব ঘটে বারের বাইরে।

এ পুলিশ কর্মকর্তা বলছেন, “ছুরিকাঘাতের পর সংশ্লিষ্টরা সেখান থেকে বেরিয়ে গেলে খবরটি স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়ে। তখন নিহত প্রথম যুবক রাশেদের পক্ষের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে হামলা চালায় বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে পুলিশ। ওই সময় বিপুল সংখ্যক মানুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে উত্তেজিত হয়ে পড়েন।

“এ সময় সোলাইমান সালমানকে মারধর করে ফিশারিঘাট এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ফিশারিঘাট থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় সালমানকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।”

দুই মৃত্যুর নেপথ্যে কী?

তবে কী নিয়ে প্রথমে বিরোধের সূত্রপাত, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুপক্ষই স্থানীয় এবং তাদের মধ্যে আগে থেকে কোনো বিরোধ ছিল কি-না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান।

ঘটনার পর শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত কোনো পক্ষ মামলা করেনি বলেও জানিয়েছেন এ পুলিশ কর্মকর্তা। 

তিনি বলেন, “নিহতদের মরদেহ নিয়ে স্বজনরা ব্যস্ত থাকায় মামলা করতে কিছুটা সময় লাগছে। প্রথম নিহত যুবকের পক্ষ থেকে নামাজের পর মামলা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”

অন্যদিকে পাল্টা হামলায় নিহত যুবকের মরদেহ চট্টগ্রাম থেকে আনা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ফলে তার পক্ষ থেকে মামলা হতে আরও সময় লাগতে পারে।

বারের নিরাপত্তা ও প্রবেশ নিয়ে প্রশ্ন

ঘটনার পর রেনেসাঁ হোটেলের বারে কারা প্রবেশ করেছিলেন এবং তাদের বৈধ পারমিট ছিল কি না, সেই প্রশ্নও উঠেছে।

ঘটনার পরপরই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর জানিয়েছিলেন, ঘটনার সময় বারে ‘পারমিট না থাকা’ কয়েকজনের উপস্থিতির তথ্য পাওয়া গেছে।

তবে বারে কর্মরত এক কর্মকর্তা দাবি করেন, নিয়ম অনুযায়ী প্রবেশের সময় পারমিট পরীক্ষা করা হয়।

বৃহস্পতিবার পারমিট না থাকা ব্যক্তিদের বিল দিয়ে বের করে দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেছেন তিনি।

প্রতিনিধি/জেএস 

কক্সবাজারে মদের বারে যুবক খুন