২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

টেকনাফে এক জালে ধরা পড়ল ১০৬ মণ মাছ, বিক্রি ৯ লাখ টাকায়

প্রজনন মৌসুমসহ সরকারি বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা মেনে চলায় এবার সাগরে প্রচুর মাছ পাওয়া যাচ্ছে।

টেকনাফে এক জালে ধরা পড়ল ১০৬ মণ মাছ, বিক্রি ৯ লাখ টাকায়
কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূলে জেলেদের জালে বিভিন্ন প্রজাতির বিপুল মাছ ধরা পড়ছে। মাছগুলো একনজর দেখতে উপকূলে ভিড় করেন পর্যটক ও স্থানীয় লোকজন।

টেকনাফ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 10 Jan 2026, 09:07 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:32 PM

কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূলে জেলেদের এক জালে অন্তত নয় লাখ টাকার বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরা পড়ছে। তীরে মাছগুলো নেওয়া হলে তা দেখতে পর্যটক ও স্থানীয় লোকজন ভিড় করেন।

শনিবার দুপুর ২টার দিকে উপজেলা সদর ইউনিয়নের গোদারবিল এলাকার বাসিন্দা মৌলভী হাফেজ আহমদের মালিকানাধীন জালে মাছগুলো ধরা পড়ে বলে জানান টেকনাফ উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তার প্রতিনিধি শহিদুল ইসলাম।

সরেজমিনে দেখা যায়, মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন সৈকতে এক জেলের টানা জালে ফাইস্যা ও ছোট-বড় ছুরি মাছ আটকা পড়ে। সাগর থেকে তোলার সঙ্গে সঙ্গে এসব মাছ ন্যায্য মূল্যে পাইকারের কাছে বিক্রি করা হয়। 

এতে জালের মালিক ও জেলেসহ লাভবান হচ্ছেন উপকূলের জেলেরা। আর এতে জেলে পরিবারগুলোতে বাইছে খুশির আমেজ। পাইকারি ক্রেতারা কিছু মাছ বাজারে তুললেও বেশিরভাগ মাছ পাঠিয়ে দিচ্ছেন শুঁটকি মহালে।

জালের মালিক মৌলভী হাফেজ আহমদ বলেন, আবহাওয়া ভালো থাকায় হঠাৎ করে সাগরে প্রচুর মাছ ধরা পড়ছে। জালে ১০৬ মণের বেশি মাছ ধরা পড়ছে; যা নয় লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়। 

অন্য সময়ের চেয়ে এবার বছরের শুরুতে জালে প্রচুর মাছ ধরা পড়ছে। প্রতিদিন মাছ ধরা পড়ায় উপকূলের জেলেরা আনন্দে দিন কাটাচ্ছেন।

নৌকার মাঝি মো. ইসলাম বলেন, “এতগুলো মাছ পেয়ে আমরা ভীষণ খুশি। এ খবরে পরিবারের সদস্যরাও আনন্দিত। অনেক দিন সাগরে মাছ পাচ্ছিলাম না। অভাবের কারণে অনেক জেলেকে কিস্তিতে সংসার চালাতে হচ্ছে।

“আজ আল্লাহ চাইলে সেই কিস্তি পরিশোধ করতে পারব। যদি এভাবে কয়েকদিন মাছ পাই, তাহলে আমাদের আর অভাব-অনটনে থাকতে হবে না। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি।”

মৎস্য কর্মকর্তার প্রতিনিধি শহিদুল ইসলাম বলেন, জেলের জালে ১০৬ মণের বেশি বিভিন্ন প্রজাতির ফাইসা ও ছুরি মাছ ধরা পড়েছে। ছুরি মাছ দিয়ে প্রচুর শুঁটকি উৎপাদন হয়। শীতকালে ছুরি মাছ সাগরে প্রজনন বেশি হয়। 

মাছের প্রজনন ও ডিম ছাড়ার সময় ৬৫ দিন সাগরে সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ থাকে। এবার প্রজনন মৌসুমসহ সরকারি বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা মেনে চলায় সাগরে প্রচুর মাছ পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান তিনি।