Published : 22 Dec 2025, 12:43 AM
শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হুমকি, অশালীন ও মারমুখী আচরণ জ্ঞানচর্চার পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি বলে মন্তব্য করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।
রোববার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহদপ্তর সম্পাদক সিয়াম বিন আইয়ুব স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ মন্তব্য করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, “সম্প্রতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত করে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির লক্ষ্যে একটি কুচক্রী মহল ষড়যন্ত্র করছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের উদ্দেশে রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মারের হুমকিমূলক বক্তব্যে অছাত্রসুলভ আচরণের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুষ্ঠু পরিবেশের পরিপন্থি।”
ছাত্রদল বলছে, “একজন ছাত্র/ছাত্রনেতা হিসেবে বারবার শিক্ষকদের সঙ্গে অশোভন ও মারমুখী আচরণ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের শামিল। জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে তথাকথিত ‘তালা ঝুলানো’ সংস্কৃতি আমাদের ফ্যাসিবাদের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। এর আগে সে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্যসহ এক কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিতের মাধ্যমে সারাদেশের শিক্ষক সমাজকে অপমান করেছিল যা পুরো শিক্ষক সমাজ ও সচেতন শিক্ষার্থী মহলের নিকট রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কালো অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত।”
শহীদ শামসুজ্জোহার কথা প্রসঙ্গে এনে ছাত্রদল বলে, “যে ঐতিহাসিক বিদ্যাপীঠে ছাত্রদের জন্য রক্ত দেওয়া শহীদ বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক সৈয়দ শামসুজ্জোহা স্যার চিরনিদ্রায় শায়িত, সেই পবিত্র বিদ্যাপীঠে সালাউদ্দিন আম্মারের মত মব-সন্ত্রাসী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করার অপচেষ্টা চালালে ছাত্রদল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সব স্তরের নেতা-কর্মী তা শক্ত হাতে প্রতিহত করবে।”
তবে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ হিসেবে কারো বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ থাকলে দেশের প্রচলিত আইনে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিকট দাবিও জানায় ছাত্রদল।

বিবৃতির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় একটি গণতান্ত্রিক রাজনীতি চর্চা ও জ্ঞানের স্থান। কথায় কথায় বিভিন্ন মব তৈরি করা; শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কলার ধরে প্রশাসনিক ভবনের সামনে টানিয়ে রাখার হুমকি দেওয়া সন্ত্রাসী কার্যক্রমের মত। কারো বিরুদ্ধে যদি ফ্যাসিবাদের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকে, বিশ্ববিদ্যালয় তার বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নিতে পারে, মামলা দিতে পারে। কিন্তু এভাবে ‘মবক্রেসি’ তৈরি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে একটা ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এভাবে তো বিশ্ববিদ্যালয় চলতে পারে না।”
তবে ছাত্রদলের বিবৃতির পরিপ্রেক্ষিতে রাতে এক ফেইসবুক পোস্টে সালাউদ্দিন আম্মার লিখেছেন, “রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কিউট ছাত্রদল যেহেতু আমাকে নিয়ে বিবৃতি দিয়েছে সেহেতু আমি সঠিক পথেই আছি।
“রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল স্তরের নেতা-কর্মী নাকি আমাকে শক্ত হাতে প্রতিহত করবে। মনোনয়নপত্র নেওয়ার দিন মনে আছে? বিশ্ববিদ্যালয়ের না, রাজশাহীর সর্বস্তরের কর্মী নিয়েও লাভ হয় নাই। সালাহউদ্দিন আম্মার একা দাঁড়াইয়া ছিলো, ওইদিনও সব নেতা-কর্মীর স্লোগান, হুমকি-ধামকি দিয়ে একটা চুলও ছিড়তে পারে নাই। ডিনদের পদত্যাগ করাইলাম বাকি কাজও করে যাবো।”
আরও পড়ুন: