Published : 10 May 2026, 02:26 PM
ঢাকার সাভারের হেমায়েতপুর এলাকায় নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে আবাসিক এলাকায় গড়ে উঠেছে অবৈধ সিসা তৈরির কারখানা।
পরিত্যক্ত ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা তৈরির এই প্রক্রিয়ায় একদিকে যেমন মারাত্মক পরিবেশ দূষণ হচ্ছে; অন্যদিকে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বিশেষ করে এসব ঝুঁকিপূর্ণ কারখানায় শিশুদের শ্রমিক হিসেবে ব্যবহার করায় জনমনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বিষাক্ত ধোঁয়ায় বিপন্ন পরিবেশ
সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, হেমায়েতপুরের ‘হলমার্ক কারখানার’ অভ্যন্তরে একটি চক্র দীর্ঘ দিন ধরে অবৈধভাবে এই সিসা তৈরির ব্যবসা চালিয়ে আসছে। মূলত পুরনো ব্যাটারি ভেঙে প্লেট বের করে তা বড় বড় চুল্লিতে উচ্চ তাপমাত্রায় গলিয়ে সিসা বের করা হয়।
কারখানাটির কোনো বৈধ অনুমোদন বা পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই। আবাসিক এলাকা এবং শিল্প জোনের মধ্যে হওয়ায় কারখানার নির্গত বিষাক্ত কালো ধোঁয়া ও উৎকট গন্ধে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, রাতে ও ভোরে যখন চুল্লি জ্বালানো হয়, তখন পুরো এলাকা বিষাক্ত ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাদেকুল ইসলাম বলেন, “রাতে যখন ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা বের করা হয়, তখন বিষাক্ত দুর্গন্ধে ঘরে ঘুমানো যায় না। শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। আমরা এ ভয়াবহ দূষণ থেকে পরিত্রাণ চাই।”
তিনি বলেন, “কারাানাটিতে ছোট ছোট শিশুদের দিয়েও সেখানে কাজ করানো হচ্ছে, যা তাদের জন্য চরম স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ।”
ঝুঁকিতে শিশুরা, নেই সুরক্ষা সরঞ্জাম
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, কারখানাটিতে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ছাড়াই অন্যান্য শ্রমিকদের সঙ্গে কয়েকজন শিশুকেও কাজ করতে দেখা গেছে। তাদের বয়স ১২ থেকে ১৫ বছর। কোনো ধরনের মাস্ক বা গ্লাভস ছাড়াই তারা সরাসরি বিষাক্ত রাসায়নিক ও সিসার ধোঁয়ার সংস্পর্শে আসছে।
সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ফজলে বারী সতর্ক করে বলেছেন, “পরিত্যক্ত ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা তৈরির সময় বিষাক্ত ধোঁয়া ও সিসার কণা বাতাসে ছড়ায়। এতে শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ, শেখার ক্ষমতা ও আচরণে ক্ষতি হতে পারে।”
তিনি বলেছেন, “সিসার কারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত ধোঁয়ায় সাধারণ মানুষের শ্বাসকষ্ট, কিডনি সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপ ও স্নায়ুর ক্ষতি হতে পারে।
“গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে গর্ভের শিশুরও মারাত্মক ক্ষতি শিকার হতে পারে। এ ধরনের ধোঁয়া ও দুর্গন্ধ দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশ ও মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।”
সিসার কারখানার পাশের অবস্থিত এক বাড়ির বাসিন্দা বলেন, “যারা এখানে অবৈধ সিসার কারখানা বসিয়েছে চক্রটি অনেক বড়, তাই আমরা ভয়ে প্রশাসনকে কিছু বলতে পারি না। এখন আপনারাই আমাদের বাঁচান।”

সব ম্যানেজ করে চলছে
সরেজমিনে ওই সিসা কারখানার মালিকের কোনো হদিস মেলেনি। তবে মানিক নামের এক ব্যক্তি কারখানার দায়িত্ব পালন করছেন বলে স্বীকার করেন।
আবাসিক এলাকার সিসার কারখানা পরিচালনা করার জন্য তাদের অনুমোদন আছে কি-না জানতে চাইলে মানিক বলেন, “না আমাদের কাছে কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই।”
তার দাবি, “প্রশাসনসহ অনেককে ম্যানেজ করেই এটা চলছে।”
কি বলছে প্রশাসন ?
সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “আবাসিক এলাকায় বা অনুমোদনহীন কোনো জায়গায় সিসা কারখানা পরিচালনার সুযোগ নেই।”
দ্রুত কারখানাটির বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালানা করা হবে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
প্রশাসনকে ম্যানেজ করে কারখানা চলছে-এমন দাবি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইউএনও বলেন, “এটা হাস্যকর। আমরা জানলে আগেই সেখানে অভিযান চালাতাম।”