১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

নেত্রকোণায় শিশু ‘ধর্ষণ’: জিজ্ঞাসাবাদে কিছুই ‘স্বীকার করেননি’ মাদ্রাসাশিক্ষক

ঘটনার পর থেকেই শিক্ষক গ্রেপ্তার এড়াতে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

নেত্রকোণায় শিশু ‘ধর্ষণ’: জিজ্ঞাসাবাদে কিছুই ‘স্বীকার করেননি’ মাদ্রাসাশিক্ষক
গ্রেপ্তার মাদ্রাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 06 May 2026, 03:25 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:33 PM

নেত্রকোণার মদন উপজেলায় মাদ্রাসাছাত্রী ধর্ষণ মামলার আসামি মাদ্রাসার শিক্ষক গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

তাকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে তিনি কোনো কিছুই স্বীকার করেননি বলে বুধবার দুপুরে নগরের আকুয়া বাইপাস এলাকায় র‌্যাব-১৪ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১৪ ময়মনসিংহের অধিনায়ক নয়মুল হাসান জানান।

এর আগে বুধবার ভোর সোয়া ৪টার দিকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা থেকে র‍্যাব-১৪ এর একটি দল মাদ্রাসা শিক্ষক ৩০ বছর বয়সী আমান উল্লাহ সাগরকে গ্রেপ্তার করে। 

নয়মুল হাসান বলেন, মদন উপজেলার ‘হযরত ফাতেমা তুজ্জহুরা মহিলা কওমি মাদ্রাসার’ প্রতিষ্ঠাতা ও শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরের বিরুদ্ধে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে গত ২৩ এপ্রিল মামলা দায়ের হয়। এরপর থেকে র‌্যাব বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে।

তিনি বলেন, “ভুক্তভোগী শিশু ও আসামি একই এলাকার বাসিন্দা। শিশুটির বাবা তাদের ছেড়ে দীর্ঘদিন ধরে নিরুদ্দেশ। জীবিকার তাগিদে শিশুটির মা সিলেটে গৃহ পরিচারিকার কাজ করেন। শিশুটি তার নানির কাছে থেকে ওই মাদ্রাসায় লেখাপড়া করতো। কিছুদিন থেকে শিশুটির মা শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন দেখে ১৮ এপ্রিল ‘মদন মডার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে’ নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসকরা জানান, শিশুটি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা।”

“পরে বাদী শিশুটিকে জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পারেন, গত বছরের ২ অক্টোবর মাদ্রাসা ছুটি হওয়ার পর শিক্ষকের আদেশে ঝাড়ু দিয়ে মাদ্রাসা সংলগ্ন মসজিদের বারান্দা পরিষ্কার করতে থাকে। সেই মুহুর্তে শিক্ষক শিশুটিকে তার কক্ষে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করে।”

সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাবের ওই কর্মকর্তা বলেন, “ঘটনার পর থেকেই শিক্ষক গ্রেপ্তার এড়াতে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান। র‌্যাব-১৪ ময়মনসিংহ এই চাঞ্চল্যকর মামলার ছায়াতদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে।

“এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ময়মনসিংহের গৌরীপুরের সোনামপুর এলাকা থেকে আসামি আমানুল্লাহকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় র‌্যাব।”

তিনি বলেন, “গ্রেপ্তার মাদ্রাসাশিক্ষক জিজ্ঞাসাবাদে কিছু স্বীকার করেনি। তাকে বুধবার সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হবে।

“পরে যদি তদন্ত কর্মকর্তা মনে করেন, রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবে তাও করতে পারেন। ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজন হলে তাও করা হবে।”

আরও পড়ুন-

মদনে ছাত্রী 'ধর্ষণ', মাদ্রাসাশিক্ষক জিজ্ঞাসাবাদে কিছুই স্বীকার করেননি