পঞ্চগড়ে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬.৮ ডিগ্রি, বিপর্যস্ত জনজীবন
বিশেষ করে উত্তরের হিমেল বাতাস ও ঘন কুয়াশার কারণে শীতের তীব্রতা বেড়েছে, বলছেন আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
হিমালয় থেকে আসা হিমেল বাতাস ও ঘন কুয়াশার প্রভাবে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ে।তীব্র শীতের দাপটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উত্তরের এ জেলার জনজীবন।
তেতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, জেলায় মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ১০০ শতাংশ এবং ঘণ্টায় ১০-১২ কিলোমিটার বেগে হিমেল বাতাস জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যায়।
হিমালয় থেকে বয়ে আসা এই হাড়কাঁপানো হাওয়া শীতের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি রাত গভীর হলেই ঘন কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে জেলার সড়ক ও মহাসড়কগুলো।
ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশা এতটাই ঘন হয়ে ওঠে যে, কয়েক হাত দূরের কিছুই দেখা যায় না। ফলে সকালেও মহাসড়কে যানবাহনগুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলাচল করছে।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষ। জীবিকার তাগিদে তীব্র শীত উপেক্ষা করে ভোরেই কাজে বের হতে হচ্ছে তাঁদের।
বোদা উপজেলার মন্নাপাড়া এলাকার দিনমুজুর মতিয়ার বলেন, “এত শীতে কাজ করতে খুব কষ্ট হয়। হাত-পা অবশ হয়ে যায়, তবুও কাজ না করলে সংসার চলে না।”
কলেজপাড়া এলাকার ভ্যান চালক ময়নুল বলেন, “ভোরে বের হলে কুয়াশার কারণে সামনে কিছুই দেখা যায় না। যাত্রীও খুব কম পাওয়া যায়, ভাড়াও ঠিকমতো মেলে না।”
পঞ্চগড় সদর উপজেলার তালমা এলাকার বাসিন্দা রমজান বলেন, “এত ঠান্ডায় হাঁটাচলা করা যায় না। কৃষি কাজ কাম বন্ধ হয়ে আছে। বাড়িতে আগুন জ্বালিয়ে বসে থাকতে হয়।”
বোদা উপজেলার নয়াদিঘী এলাকার বাসিন্দা নুরনবী বলেন, ঘরে কম্বল আছে, তাতে শীত নিবারণ হচ্ছে না। শীত থেকে বাঁচতে অনেক মানুষ খড়কুটো ও কাঠ জ্বালিয়ে রাস্তার পাশে বা খোলা স্থানে আগুন পোহাচ্ছেন।
এদিকে শীতের কারণে অনেকেই ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
বোদা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, হাসপাতালে শীতজনিত রোগীর ভিড় থাকছেই প্রতিদিন। বেশি ভাগই শিশু ও বৃদ্ধরা আক্রান্ত হচ্ছেন।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, গত কয়েক দিন ধরে পঞ্চগড়ে তাপমাত্রা ওঠানামা করছে। আগের দিন বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
বিশেষ করে উত্তরের হিমেল বাতাস ও ঘন কুয়াশার কারণে শীতের তীব্রতা বেড়েছে।
আগামী কয়েক দিন এ ধরনের শীত পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে বলেও জানান তিনি।
