Published : 29 Mar 2026, 12:40 PM
কুড়িগ্রামে তেলের তীব্র সংকটের কারণে সাধারণ মানুষ ও পরিবহন শ্রমিকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। জেলার ২০টি ফিলিং স্টেশনে চাহিদা অনুযায়ী তেল মিলছে না।
পাম্পে তেলের জন্য দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এ অবস্থায় জেলা প্রশাসন পাম্পগুলোতে মনিটরিং চালাচ্ছে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে।
পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা ওয়েল কোম্পানি হলো দেশের প্রধান সরকারি তেল বিতরণ প্রতিষ্ঠান। এই কোম্পানিগুলোই ডিপো থেকে ফিলিং স্টেশন এবং ডিলারদের কাছে পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেন সরবরাহের দায়িত্বে থাকে।
জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে ঘুরে জানা গেছে, পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা ওয়েল কোম্পানি চাহিদা অনুযায়ী ডিলারদের তেল সরবরাহ করতে পারছে না। ফলে পাম্পগুলোতে ডিজেল পাওয়া গেলেও পেট্রোল ও অকটেন প্রায় নেই।
কুড়িগ্রাম জেলা পাম্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জামান আহেদ কাজল বলছেন, “জেলার ২০টি পাম্পে দৈনিক চাহিদার ৪ লাখ লিটারের বিপরীতে মাত্র ৫০ হাজার লিটার সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে দৈনিক চাহিদার মাত্র আটভাগের এক ভাগও পূরণ হচ্ছে না।
“প্রতিদিনই ক্রেতাদের সঙ্গে পাম্পগুলোতে ঝামেলা তৈরি হচ্ছে। এ বিষয়ে জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোসহ স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা প্রয়োজন।”
এদিকে জ্বালানি তেলের জন্য জেলার ফিলিং স্টেশনগুলোতে সকাল থেকে মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও প্রয়োজনীয় পরিমাণ জ্বালানি পাচ্ছেন না।

সরেজমিনে দেখা গেছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে ২০০ থেকে ৪০০ টাকার বেশি পেট্রোল দেওয়া হচ্ছে না, সেটাও সব স্টেশনে মিলছে না।
‘সাহা ফিলিং স্টেশনে’র মালিক পিন্টু সাহা বলেন, “জেলায় ২০টি ফিলিং স্টেশনের কোনটিতেই পেট্রোল, ডিজেল কিংবা অকটেন নেই বললেই চলে। ঈদের আগেই অধিকাংশ পাম্প তেলশূন্য হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় ফিলিং স্টেশনগুলো বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
মোটর সাইকেল চালক মিজানুর রহমান বলেন, “কোনও পাম্পে তেল পাচ্ছি না। যেখানেই যাচ্ছি বলছে, তেল নাই। তাহলে আমরা কোথায় যাবো?
“অথচ বিভিন্ন হাট বাজারে ও রাস্তার মোড়ে বোতলে করে পেট্রোল বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা লিটার দরে।”
মোটর সাইকেল চালক মিঠু ও মাহফুজার রহমান বলছেন, চলমান সংকটে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে ঘুরে ঘুরে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা অপেক্ষা করে দুই থেকে তিনশো টাকার পেট্রোল পাওয়া যায়। সেটাও প্রতিদিন নয়।
আরিফুল ইসলাম, রুবেল আহমেদ, রাশেদুল ও আকবর আলীসহ অনেকেই বলেছেন, এতো সময় ধরে পেট্রোল জোগাড় করতে গিয়ে তাদের দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যহত হচ্ছে।
জ্বালানি তেলের সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন বেশ সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে পেট্রোল বিক্রির সময় মোটরসাইকেল চালকদের কাগজপত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং হেলমেট রয়েছে কি-না তা পরীক্ষা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, তিনিসহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) নেতৃত্বে মনিটরিং টিম নিয়মিতভাবে ফিলিং স্টেশনগুলো পরিদর্শন করছেন। সব বিক্রয়কেন্দ্র কঠোর নজরদারিতে রয়েছে এবং পাম্পগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, “জ্বালানি সংকট দূর করতে তাদের চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ চেয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের চেয়ারম্যান বরাবর চিঠি দেওয়া হয়েছে।”