“আউশ কেউ কাটতে পারেনি। আমনের বীজতলাও পানির নিচে। শাকসবজি কিছু অবশিষ্ট নেই। ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন এলাকার কৃষক।”
Published : 30 Aug 2024, 08:28 PM
চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় গত দশ দিনের বন্যার পানিতে সাড়ে ৪ হাজার কৃষকের ৩৪১ হেক্টর জমির রোপা আউশসহ অন্যান্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
একই সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রোপা আমনের বীজতলা। এতে কৃষকদের ৬ কোটি টাকার বেশি ক্ষতির আশঙ্কার কথা জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।
শাহরাস্তি উপজেলার সূচিপাড়া উত্তর, সূচিপাড়া দক্ষিণ, রায়শ্রী উত্তর ও দক্ষিণ ইউনিয়ন এবং আশপাশের এলাকা ঘুরে ক্ষতির সম্মুখীন ফসলের জমিগুলো চোখে পড়ে। এসব এলাকায় বড় বড় মাঠ জুড়ে রয়েছে রোপা আউশ। তবে অধিকাংশই পানিতে তলিয়ে রয়েছে।
শাহরাস্তি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আয়শা আক্তার জানান, বন্যায় উপজেলার ১২৯ হেক্টর জমির রোপা আউশ, ২০ হেক্টর বীজতলা, ১৩৩ হেক্টর আবাদ করা আমন ও ৫৯ হেক্টর শাকসবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা ৪ হাজার ৩৪১ জন।
শাহরাস্তি রায়শ্রী উত্তর ইউনিয়নের সীমান্ত এলাকা উনকিলা গ্রামের কৃষক কেরামত আলী বলেন, “আমার এক একর জমিতে আউশের আবাদ আছে। ধান কাটার সময়ও হয়েছিল। কিন্তু এখন সবই শেষ। বসতঘর ও রাস্তায় পানি। আমাদের এই ক্ষতি কি দিয়ে পোষাবো, বুঝতে পারছি না।”
একই এলাকার দুলাল নামে আরেক কৃষক বলছিলেন, এ বছর তিনিও এক একেরর বেশি জমিতে রোপা আউশ আবাদ করেছেন। তার জমিগুলোও পানিতে তলিয়ে। গাছের চিহ্নও দেখা যাচ্ছেনা।
সব হারিয়ে দিশেহারা এ কৃষক বলেন, “ঋণ করে টাকা নিয়ে জমিতে বিনিয়োগ করেছিলাম। এখন আমি সব হারিয়েছি। টাকা কি করে পরিশোধ করব?”
শহীদ উল্লাহ নামের আরেক কৃষক বলেন, “১৯৮৮ ও ২০০৪ সালে বন্যা হয়েছে। কিন্তু এ ধরনের ক্ষতি হয়নি। এবারের বন্যায় আমাদের ফসলসহ সব ধরনের ক্ষতি হয়েছে। বসতঘর, রাস্তা ও ফসল সবকিছু শেষ। বহু কৃষকের ধান পঁচে গেছে।
“অনেকেই পানির নিচ থেকে ধান কেটেছেন। কিন্তু ধান খুবই কম। সব মাটিতে পড়ে গেছে।”
সূচিপাড়া উত্তর ইউনিয়নের দইকামতা গ্রামের কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, গত দশ দিন ধরে তাদের এলাকার সব ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে আছে। পানির উচ্চতা প্রায় ৫ ফুট। ফসলের এই ধরনের ক্ষতি গত এক দশকেও হয়নি।
“আউশ কেউ কাটতে পারেনি। আমনের বীজতলাও পানির নিচে। শাকসবজি কিছু অবশিষ্ট নেই। ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন কৃষকরা।”
শাহরাস্তি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আয়শা আক্তার বলেন, “গত দশ দিনে উপজেলার বন্যা কবলিত ইউনিয়নের মাঠ জরিপে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত সাড়ে ৪ হাজার কৃষকের তথ্য পেয়েছি। রোপা আউশসহ বিভিন্ন ফসলে ৬ কোটি ৪০ লাখ ৫০ হাজার টাকার প্রাথমিক ক্ষতির আশঙ্কা করছি।”
তিনি বলেন, “আমরা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাব। একই সঙ্গে তাদের আগামীতে প্রণোদনার আওতায় আনা হবে।”