Published : 08 Sep 2026, 04:34 PM
পাবনার আটঘরিয়া উপজেলায় জামিনে থাকা বিএনপি নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্যকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
এ মামলার প্রধান আসামি ইরাদুল ইসলামকে (৫৫) উপজেলার গোপালপুর তাঁতিপাড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান আটঘরিয়া থানার ওসি নাজমুল হক।
তিনি বলেন, সোমবার রাতে বিএনপি নেতা আদম আলীর (৬০) ছেলে শাহিন হোসেন মামলাটি করেন। এরপর রাতেই র্যাব পাবনা ক্যাম্পের একটি দল ইরাদুলকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে আটঘরিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়।
ইরাদুল আটঘরিয়া উপজেলার চুটিয়াপাড়া এলাকার মৃত আব্দুলের ছেলে। নিহত আদম আলী একদন্ত ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য ও একই ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ছিলেন। তার বাড়ি ষাটগাছা গ্রামে।
পুলিশ জানায়, সোমবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে স্থানীয় একদন্ত বাজারে গিয়েছিলেন আদম আলী। বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে চণ্ডীপাশা গ্রামে তাকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে তাকে চাকু দিয়ে আঘাত করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশের ভাষ্য, আদম আলীর বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ ও বিস্ফোরণসহ অন্তত তিনটি মামলা ছিল। তিনি এলাকায় চরমপন্থি দলের কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন বলে দাবি পুলিশের।
২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর আটঘরিয়ার ষাটগাছা গ্রামের একটি বাঁশঝাড় থেকে এক কিশোরীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার চার দিন পর ২৮ ডিসেম্বর টাঙ্গাইলের আশেকপুর বাইপাস এলাকা থেকে আদম আলীকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। প্রায় এক বছর পর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তিনি জামিনে মুক্ত হন।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে ওই কিশোরীকে হত্যা ও ধর্ষণের কথা স্বীকার করেন আদম আলী। ওই মামলার তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। এতে তাকে প্রধান আসামি করা হয়।
ওসি নাজমুল হক বলেন, গ্রেপ্তার ইরাদুলকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ ও এর পেছনে কারা জড়িত, তদন্তের মাধ্যমে তা বের করা হবে।
আরও পড়ুন: