১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

চলন্ত ট্রেনে ‘ধর্ষণ’, ‘পুলিশ’সহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

কুড়িগ্রামগামী ‘কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস’ ট্রেনের এ ঘটনায় ক্যান্টিনবয়কে আটক করে পুলিশে দিয়েছে যাত্রীরা।

চলন্ত ট্রেনে ‘ধর্ষণ’, ‘পুলিশ’সহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা
গ্রেপ্তার আবু বক্কর সিদ্দিক।

বিডিনিউজ২৪

নিজস্ব প্রতিবেদক ও নওগাঁ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 01 Sep 2026, 08:53 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:53 AM

চলন্ত অবস্থায় কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনের ক্যান্টিনে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে ক্যান্টিনবয়কে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন যাত্রীরা। 

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী তিনজনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেছেন বলে জানিয়েছেন বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহার রেলওয়ে থানার ওসি দুলাল উদ্দীন। 

তিনি বলেন, “তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এর মাঝে একজন গ্রেপ্তার হয়েছে। তবে দুজন অজ্ঞাত হিসেবে আছে। বাদী বলেছেন, এর মাঝে দুজন পুলিশ আছে। তবে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”

আটক আবু বক্কর সিদ্দিক (২২) নাটোরের লালপুরের আব্দুলপুর গ্রামের মৃত মাসুদ রানার ছেলে। মামলার পর তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে মঙ্গলবার সকালে তাকে আদালতে পাঠিয়েছে সান্তাহার রেলওয়ে থানার পুলিশ। 

পুলিশ জানায়, ৪৪ বছর বয়সি ভুক্তভোগী নারীর বাড়ি সিরাজগঞ্জে। সোমবার রাতে তিনি ঢাকা থেকে ‘কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস’ ট্রেনে ওঠেছিলেন। 

পরে সান্তাহার রেলওয়ে থানাধীন নাটোর এলাকায় চলন্ত ট্রেনের মধ্যে ক্যান্টিনবয় আবু বক্কর সিদ্দিকসহ কয়েকজন তাকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ ওঠে। 

এ সময় ভুক্তভোগীর চিৎকারে ট্রেনের যাত্রীরা তাকে উদ্ধার করেন এবং ক্যান্টিনবয়কে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। 

এদিকে এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী দুই পুলিশসহ মোট তিনজনের নামে মামলা করছেন বলে জানা গেলেও সাংবাদিকদের বিস্তারিত তথ্য দিতে গড়িমসি করার অভিযোগ উঠেছে ওসির বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে মঙ্গলবার দুপুরে সান্তাহার শহর প্রেস ক্লাবের সভাপতি জিল্লুর রহমান বলেন, “সোমবার রাতে আমি নিজেও তথ্যের জন্য ওসির কাছে গিয়েছিলাম। তিনি মামলা এন্ট্রি হওয়ার পর তথ্য দিবেন বললে আমি এবং সিনিয়র সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম মন্টু থানা থেকে চলে আসি। 

“কিন্তু এখন পর্যন্ত তিনি কোনো তথ্য দিচ্ছেন না এবং সাংবাদিকদের ফোনও ধরছেন না। তবে পরে বুঝলাম তার পুলিশ জড়িত থাকায়, তাদের সেভ (রক্ষা) করতে হয়তো তিনি তথ্য গোপন রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।”

তবে সান্তাহার রেলওয়ে থানার ওসি দুলাল উদ্দীন বলেন, “আসামিকে আদালতে পাঠানোর আগে মামলার তথ্য সাংবাদিকদের দেওয়ার বিধান নেই।”

রেলওয়ে পুলিশের এসপি (পাকশী) মেহেদী হাসান মঙ্গলবার বিকালে বলেন, ভুক্তভোগী নারী সিরাজগঞ্জ আসার জন্য ভুল করে বিনা টিকিটে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনে উঠে পড়েছিলেন। ট্রেনটি নাটোর স্টেশন অতিক্রম করলে তিনি মোবাইলে তার ছেলেকে ধর্ষণের শিকার হওয়ার বিষয়টি জানান।

তখন ছেলে জরুরি নম্বর ৯৯৯ এ কল করে পুলিশকে বিষয়টি জানায় এবং পুলিশ ভুক্তভোগীসহ আসামিকে পার্বতীপুর রেলস্টেশনে থেকে সান্তাহার রেলওয়ে থানায় নিয়ে আসে।

পরে আসামিকে আদালতে পাঠানো হলে তিনি একাই ধর্ষণে জড়িত ছিলেন বলে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দিয়েছেন বলেও জানান রেলওয়ে পুলিশের এসপি মেহেদী।

তিনি আরও বলেন, “এ ঘটনায় এর মধ্যেই সার্কেল এএসপিকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট টিজি পার্টির (রেল পুলিশের নিরাপত্তা দল) ইনচার্জসহ সব সদস্যকে ক্লোজ করা হয়েছে।”

এদিকে বগুড়া জেলা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট আদালতের পরিদর্শক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার আবু বক্কর সিদ্দিককে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।