Published : 03 Jan 2026, 03:57 PM
মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার একটি সরকারি রাস্তার ইট তুলে নিতে বাধা দেওয়ায় এক নারী ইউপি সদস্য ও তার স্বামীকে কুপিয়ে জখমের ঘটনা ঘটেছে। হামলায় ইউপি সদস্যের স্বামীর তিনটি আঙুল কেটে গেছে।
পরে আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে সেখানেও বাধা দেয় হামলাকারীরা। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করায়।
শুক্রবার সকাল উপজেলার বদরপাশা ইউনিয়নের চরকান্দি দ্বারাদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান রাজৈর থানার ওসি শেখ আমিনুল ইসলাম।
এ ঘটনায় রাজৈর থানায় চারজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য রেবেকা বেগম (৫০)। তিনি বদরপাশা ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের সদস্য।
শনিবার বেলা ৩টায় ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় অভিযোগ পাওয়া গেছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন। তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আহত ইউপি সদস্য রেবেকা বেগমের স্বামী তোতা মাতুব্বর রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
অভিযোগ থেকে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে দ্বারাদিয়া গ্রামে সরকারি প্রকল্পের টাকায় তৈরি রাস্তা থেকে ইট তুলে নিয়ে যাচ্ছিলেন একই এলাকার কলি, বক্কার, লোকমান ও তার ছেলে কাইয়ুমসহ তাদের স্বজনরা। এ সময় তাদের বাধা দিতে গেলে ইউপি সদস্য রেবেকা বেগম ও তার স্বামী তোতা মাতুব্বরের ওপর হামলা চালানো হয়।
হামলাকারীরা রামদা দিয়ে কোপ দিলে তোতা মাতুব্বরের তিনটি আঙুল কেটে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে সেখানে গিয়েও বাধা দেয় হামলাকারীরা। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
আহত তোতা মাতুব্বর বলেন, “হামলাকারীদের দায়ের কোপে আমার হাতের তিনটি আঙুল কেটে গেছে। হাসপাতালে গেলে সেখানেও আমাদের ওপর হামলা করা হয়। এ ঘটনার উপযুক্ত বিচার দাবি করছি।”
ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য রেবেকা বেগম বলেন, “সরকারি রাস্তার ইট তুলে নিয়ে যাচ্ছিলেন কলিসহ তার লোকজন। এ সময় আমরা বাধা দেই। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা দলাবদ্ধভাবে দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। আমার স্বামীকে পিটিয়ে কুপিয়ে আহত করেছে।
“আমাকেও মারধর করেছে। এ ছাড়া আমার গলা থেকে একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নিয়েছে তারা। কিছুদিন আগে তারা চাঁদা চেয়েছিলেন, না পেয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।”
সরকারি সম্পদ লুট ও নিজেদের ওপর হওয়া হামলার উপযুক্ত বিচার দাবি করেছেন রেবেকা বেগম।
হামলার ঘটনায় জড়িতদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া কাইয়ুম হাওলাদারের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোনে ধরেননি।