আক্রান্তদের মধ্যে রোববার চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজনকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মাঠে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।
Published : 20 Sep 2026, 06:43 PM
অসুস্থ গাভী জবাই ও মাংস কাটাকাটিতে অংশ নিয়ে এবার গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ২৪ জন মানুষের শরীরে অ্যানথ্রাক্স রোগের উপসর্গ দেখা দিয়েছে।
রোববার বিকালে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামরুল হাসান বলেন, রোববার পর্যন্ত অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা ২৪ জন রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তারা সবাই উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের পূর্ব বাছহাটি গ্রামের বাসিন্দা।
আক্রান্তদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর, তারা হলেন, জয়নাল আবেদীন (৪০), রুমি বেগম (২৯) ও রশিদা বেগম (৫০)।
আক্রান্ত অন্যরা হলেন, আব্দুল জলিল (৫২), সফিউল ইসলাম (৫০), চাঁন মিয়া (৫৫), শফিক (৫০), জয়নাল আবেদীন (৬০), আব্দুর রশিদ (৪০), গোলেজান বেগম (৪০), রাবেয়া খাতুন (৬৫), রাহেলা খাতুন (৫০), শরিতোন নেছা (৫০), দোলেনা আক্তার (৩৫), আজমিন আরা (২৪), ফাহিমা (৪৫), ফুলমতি বেগম (৫০) ও নুর আকাইদ (৬)। বাকীদের পরিচয় জানা যায়নি।
এর আগে ২০২৫ সালের ৩ অক্টোবর একই উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের কিশামত সদর গ্রামে রোগাক্রান্ত গরু জবাই করার পর অন্তত ১১ জনের শরীরে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ দেখা দিয়েছিল।
রোববার সর্বানন্দ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জহুরুল ইসলাম বলেন, খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১১ সেপ্টেম্বর ওই গ্রামের মঞ্জুরুল ইসলামের একটি গাভী অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ কারণে গরুটি জবাই করে মাংস কাটতে বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ অংশ নেন।
পরে স্থানীয়রা গরুর মাংস ১০০টি ভাগে ভাগ করে নেন। এর চারদিন পর গরু জবাই ও মাংস কাটায় অংশ নেওয়া চারজনের শরীরে জ্বর এবং কারও পেটে, কারও হাতে, কারও পায়ে এবং কারও হাতের আঙুলে ফোসকা দেখা দেয়। এরপর শুক্রবার আরও কয়েকজনের শরীরে একই ধরনের উপসর্গ দেখা দেয়।
তিনি আরও বলেন, এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ ফ্রিজে রাখা অবশিষ্ট মাংস মাটিতে পুঁতেও ফেলেছেন। তবে বিষয়টি নিয়ে যাতে আতঙ্ক না ছড়িয়ে না পড়ে এ জন্য ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রচার চালানো হচ্ছে।
এদিকে, রোববার চিকিৎসা নিতে আসা আক্রান্তদের মধ্যে কয়েকজনকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মাঠে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। প্রচণ্ড রোদের মধ্যেও তীব্র জ্বর ও পেটে বড় আকারের ফোসকা নিয়ে শুয়ে ছিলেন জয়নাল আবেদীন।
স্বজনরা জানান, আক্রান্তদের মধ্যে তার শারীরিক অবস্থা বেশি গুরুতর।
আক্রান্ত শফিক আলম বলেন, “বাড়ির পাশে পাঁচ মণ ওজনের একটি গরু অসুস্থ হয়ে পড়ে। তবে কি কারণে অসুস্থ হয়েছিল, তা জানা ছিল না। পরে গরুটি জবাই ও মাংস কাটায় অংশ নেওয়া আমিসহ অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছি।”
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান বলেন, উপসর্গ দেখে প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে এই ২৪ জন ব্যক্তি অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়েছেন। বিষয়টি আরও নিশ্চিত হওয়ার জন্য নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। ফলাফল পাওয়ার পরই নিশ্চিতভাবে বলা যাবে।
তিনি আরও বলেন, মূলত অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত পশু থেকেই এ রোগ ছড়ায়। আক্রান্তরা একটি অসুস্থ গরু জবাই ও মাংস কাটার কাজে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। ওই সময় তাদের শরীরে এ রোগ ছড়িয়ে পড়ে।
তবে এটি কোনও ছোঁয়াচে রোগ নয়। চিকিৎসায় এ রোগ ভালো হয়। আশা করি, সবাই সুস্থ হয়ে উঠবেন, বলেন এ চিকিৎসক।